1 Answers
একবার অ্যাপেন্ডিসাইটিস যদি নিশ্চিত হয়, অস্ত্রোপচার হচ্ছে পছন্দের চিকিৎসা। অবিলম্বে অস্ত্রোপচার অ্যাপেন্ডিক্স-এর ফুটো হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। অ্যাপেন্ডিক্স বার করে দেওয়ার অস্ত্রোপচারগত পরিভাষাকে অ্যাপেন্ডিক্টোমি অথবা অ্যাপেন্ডিসেক্টোমি বলা হয়। অস্ত্রোপচারমূলক চিকিৎসা অ্যাপেন্ডিসাইটিস-এর প্রতিটা ক্ষেত্র, লভ্য বিকল্পসমূহ, এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে, নীচের যেকোন পদ্ধতি অ্যাপেন্ডিক্টোমি সম্পাদন করার জন্য প্রযুক্ত হতে পারেঃ ল্যাপারোস্কপিক অস্ত্রোপচার এটা সবচেয়ে পছন্দের পদ্ধতি যেহেতু এটার পরে সেরে উঠতে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে। এই অস্ত্রোপচারে, পেটের মধ্যে ছোট কয়েকটা ছিদ্রের মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্স-এর সঠিক অবস্থান খুঁজে বার করা এবং অপসারণ (বার করা) করার জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি এবং একটা সংযুক্ত ক্যামেরাসহ একটা নমনীয় নল ব্যবহার করা হয়। ল্যাপারোটোমি এই অস্ত্রোপচারে, অ্যাপেন্ডিক্স বাদ দেবার জন্য ডাক্তার একটা মাত্র ছিদ্র করেন। পেটের নীচে ডানদিকে একটা কর্তন (কাটা) করা হয়। পেরিটোনাইটিস – পেটের গহ্বরের (গর্তে) ভিতরের ঝিল্লি বা আবরণের সংক্রমণ উপস্থিত থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও পছন্দসই হয়। খোলা অস্ত্রোপচার ল্যাপারোস্কপির বদলে খোলা অস্ত্রোপচার সম্পাদন করা হয় যখনঃ অ্যাপেন্ডিসাইটিস থাকা ব্যক্তিটির আগেও পৈটিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। অ্যাপেন্ডিক্স-এ অ্যাপেন্ডিক্স মাস (পিণ্ড) বলে কথিত একটা ডেলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি কোনও কোনও গবেষণা অনুযায়ী যা বিভিন্ন অস্ত্রোপচার এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাগুলির আলাদা আলাদা ফলাফল তুলনা করেছে, অ্যাপেন্ডিক্স কেসগুলির 70% কোনও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকগুলির দ্বারা গলে যায়। অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণতঃ সেসমস্ত ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যারা কোনও অস্ত্রোপচার সহ্য করার পক্ষে অত্যন্ত দুর্বল। কোনও অ্যাপেন্ডিক্টোমির আগে যদি সম্ভব হয়, সেফালোস্পোরিনস আইভি (ইন্ট্রাভেনাস) অ্যান্টিবায়োটিকস প্রয়োগ করা হয়। যদি অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে বেরোয় (ছিদ্রযুক্ত অ্যাপেন্ডিসাইটিস), পূঁজ তৎক্ষণাৎ নিষ্কাশন (বার) করা হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিকস প্রয়োগ করা হতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না রোগীর রক্তের শ্বেত কণিকা কোষের সংখ্যা এবং গায়ের তাপ স্বাভাবিক হচ্ছে। জীবনধারা সামলানো চিকিৎসার পরে একবার যদি আপনাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় নীচের পরামর্শগুলি আপনাকে সেরে উঠতে সাহায্য করতে পারেঃ কোনও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না সেগুলোর জন্য আপনার ডাক্তার বিধান দিচ্ছেন। যদি তখনও আপনার জ্বর থাকে প্রতি 2 ঘন্টা অন্তর আপনার গায়ের তাপের একটা রেকর্ড রাখুন। ডাক্তারকে আপনার পরবর্তী দেখানোর সময় এটা সঙ্গে আনুন। পেইনকিলার ব্যবহার করবেন না। ব্যথার জন্য ওষুধ নেওয়া হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ভাল না খারাপের দিকে যাচ্ছে সেটা সনাক্ত করা মুশকিল হতে পারে। পরের দিন যদি আর একটা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আপনি যান কিছু পান করবেন না বা খাবেন না। জোলাপ (পায়খানা সাফ করার বড়ি বা ওষুধ) বা এনিমা (মল বার করার জন্য মলদ্বারের মাধ্যমে ঢোকানো তরল বা গ্যাস) ব্যবহার করবেন না; একটা ফাটা অ্যাপেন্ডিক্স-এর বিপদ সেগুলো বাড়াতে পারে। প্রচুর বিশ্রাম নিন এবং যথেষ্ট ঘুমান। এটা একটা অ্যাপেন্ডিক্টোমি থেকে দ্রুততর সেরে ওঠায় সাহায্য করে। আপনার পেটের পেশীগুলির উপর চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন এবং ভারী জিনিস ওঠাবেন না। আপনার খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ফাইবার (আঁশযুক্ত খাবার) সামিল করুন যেহেতু এটা কোষ্ঠকাঠিন্যতে (পায়খানা শক্ত হওয়া) বাধা দিতে সাহায্য করবে এবং মল নড়াচড়া সহজ করতে সাহায্য করে।