1 Answers
মন্ত্রীর কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা করা, সে বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের কী করা দরকার তা বলা। আমি এমন অভিযোগও শুনেছি, একজন অতিবয়স্ক ব্যক্তিকে মন্ত্রী করার পর তাকে কোনো কথা বললে এক ঘণ্টা পর তিনি তা মনে করতে পারতেন না। আমার মতো বহু লোক বহু কথা শুনেছে। ফলে এ ধরনের মন্ত্রীর পক্ষে দেশের জন্য কী করা দরকার, তা নির্ধারণ করা বেশ কঠিন কিংবা বলা চলে প্রায় অসম্ভব। বর্তমান বিজয়ী দল নির্বাচনের আগে বলেছে, উইনেবল ক্যান্ডিডেট দরকার এবং সে জন্য সরকারি দলের ভূমিধস বিজয় হয়েছে। এ বিজয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে; সেই সঙ্গে সরকারি দলের দায়িত্বও। জনগণের সে প্রত্যাশা পূরণ করার মতো কমিটেড মন্ত্রীর দরকার। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা আছে তেমন মন্ত্রী দরকার। এসডিজি বাস্তবায়ন করার মতো মন্ত্রী দরকার। জনগণের চাহিদা নিরূপণ করে, তা থেকে অগ্রাধিকার তৈরি করে তার বাস্তবায়ন করতে পারেন, তেমন মন্ত্রী দরকার। নিজ এলাকা নয়, সারাদেশের জন্য কাজ করবেন তেমন মন্ত্রী দরকার। জনগণকে সমীহ করেন তেমন মন্ত্রী দরকার। শাসক নয়, সেবক মন্ত্রীর দরকার। উপদেশ নয়, উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন, তেমন মন্ত্রী দরকার। মন্ত্রী কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হলে ভালো; না হলেও কিছু যায় আসে না। কারণ মন্ত্রীর কাজ কিন্তু ওই দপ্তরের রুটিন ওয়ার্ক নয়; রুটিন কাজের জন্য সচিবই যথেষ্ট। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী হতে হলে হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দরকার নেই; রেলমন্ত্রী হতে হলে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দরকার নেই; নৌপরিবহনমন্ত্রী হতে হলে জাহাজ চালানোর অভিজ্ঞ ব্যক্তি হওয়ার দরকার নেই কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতে হলে চিকিৎসক হওয়ার দরকার নেই। কারণ সেসব কাজ সংশ্নিষ্ট বিভাগের কারিগরি বিশেষজ্ঞরাই করে থাকেন। মন্ত্রীর কাজ হলো দেশে কত রাস্তা করবে, কোন রাস্তার কোন দেশের সঙ্গে সংযোগ দেবে; পরিবহন ব্যবস্থা কি সরকারি খাতে রাখবে, না বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবে; স্থলপথ না জলপথ বেশি প্রাধান্য পাবে, রেললাইন করবে নাকি হাইওয়ে বেশি করবে, নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন থাকবে, না একই পরিবহনে চলবে, প্রতিবন্ধীদের রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করবে, নাকি তা যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে; ছাত্রদের কি অর্ধেক ভাড়ায় বাস চড়তে দেওয়া হবে, নাকি হবে না; রাস্তা নির্মাণের টাকা কি চীন থেকে নেবে, নাকি জাপান থেকে ইত্যাদি। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়স ইত্যাদি মন্ত্রীর ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। একজন মন্ত্রীর তাই প্রথম কাজ হবে তার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জনগণ যা প্রত্যাশা করে তা করার ম্যান্ডেট আছে কি-না, নীতিমালা বা পরিকল্পনার কোনো ঘাটতি আছে কি-না, সমন্বয়ের কোনো সমস্যা আছে কি-না, নির্বাচনী মেনিফেস্টোর ওয়াদা বাস্তবায়ন করার মতো তার মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও কৌশল আছে কি-না, তা পর্যালোচনা করা। প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে তার মন্ত্রীদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দরকার, যাতে তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের ঘাটতি চিহ্নিত করে তার ভিত্তিতে কর্মসূচি বা করণীয় ঠিক করতে পারেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy