1 Answers

এক. প্রিয় দীনি ভাই, সন্তানের উপর বাবা-মায়ের পর্যাপ্ত অধিকার ইসলামে অবশ্যই স্বীকৃত। যার কারণে তাঁদের অনুগত থাকা সন্তানের উপর ওয়াজিব। তবে তাঁদের বাধ্য থাকার বিষয়টি কেবল বৈধ কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অনুরূপভাবে বাবা-মা যদি এমন কাজ করতে বলেন যা সন্তানের পক্ষে অসম্ভব কিংবা সম্ভব তবে জীবনের ঝুঁকি আছে তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি বাধ্য থাকা জরুরি নয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, لا ضرر ولا ضرار ক্ষতি ও ক্ষতি সাধনের কোন অনুমতি নেই। (সুনানে দারাকুতনী ৩০৭৯) আর আপনার কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে, আপনি ও আপনার স্ত্রী পরস্পরকে এতটাই ভালোবাসেন যে, একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকা আপনাদের জন্য নিদারুণ কষ্টকর হবে। উপরন্তু আপনার স্ত্রীর দীনদারিতে আপনি যথেষ্ট সন্তুষ্ট। কিন্তু আপনার বাবা আপনার উপর চাপ প্রয়োগ করছেন, তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। সুতরাং আপনার কর্তব্য হল, আপনার বাবাকে যে কোনোভাবে বুঝিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে আপনার বাবার বিশ্বস্ত কিংবা আপনাদের পরিবারে প্রভাব রাখেন এমন তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সহযোগিতা নিতে পারেন। কেননা, ডিভোর্সি হওয়া এটা এমন কোনো দোষ নয় যে, যার কারণে তাকে তালাক দেয়া যেতে পারে। বিশেষত আপনি তো তার এই দুর্বলতা জেনেও তার দীনদারি দেখে বিয়ে করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার বাবার উক্ত নির্দেশ পালন করতে বাধ্য নন। মনে রাখবেন, তালাকের বৈধ কারণ ছাড়া তালাক দিলে যেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন অনুরূপভাবে এটা স্ত্রীর উপর জুলুমও হয়। হাদীসে এসেছে,أبغض الحلال عند الله الطلاق ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল–তালাক।’ (আবু দাউদ ২১৭৭) ইমাম আহমদ রহ.-কে একেবারে এরকমই একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আমার বাবা আমাকে জোর দিচ্ছেন, যেন আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেই। এখন আমি কি তাঁকে তালাক দিব? তিনি উত্তর দিলেন, না। ওই ব্যক্তি তখন বলল, ওমর রাযি. তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ রাযি.-কে যখন নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ আব্দুল্লাহ রাযি.-কে তো বলেছিলেন, বাবার নির্দেশ পালন করার জন্য? এর উত্তরে ইমাম আহমদ রহ. বললেন, তোমার বাবা কি ওমর রাযি.-এর মত? দুই. বাকি রইল, আপনার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হল, আপনি যদি সক্ষম হন এবং সার্বিক বিবেচনায় নিজের জন্য প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে দ্বিতীয় বিয়ে আপানার জন্য নিষেধ নয়। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল, উভয়ের মাঝে সমতা ও ন্যায় বিচার অটুট রাখতে হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تَعْدِلُواْ فَوَاحِدَةً আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই (তখন একাধিক বিয়ে নয়।) (সূরা নিসা ৩)

8281 views

Related Questions