1 Answers

শরয়ি দৃষ্টিকোণে বিবাহ সহিহ হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। যেগুলোর কোনো একটি শর্তের অনুপস্থিতি শরিয়ত মোতাবেক নিকাহ অশুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মৌলিক শর্ত হচ্ছে- ১. বর-কনের ইজাব কবুল দুজন যোগ্য সাক্ষীর সামনে সম্পাদন হওয়া। ইজাব যেসব সাক্ষীর সামনে হবে কবুল, ঠিক সেই সাক্ষীদের উপস্থিতিতেই হতে হবে। ২. সাক্ষীদ্বয় বর-কনের ইজাব-কবুল সরাসরি শুনতে হবে। ৩. ইজাব ও কবুল একই বৈঠকে সম্পাদন হওয়া আবশ্যক। ৪. ইজাব-কবুল উভয় সাক্ষীর একসঙ্গে শুনতে হবে। । হাদিস শরিফে এসেছে, عَنْ عَائِشَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لا نِكَاحَ إِلا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ ، وَمَا كَانَ مِنْ نِكَاحٍ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، فَهُوَ بَاطِلٌ আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্  ﷺ বলেছেন, অভিবাক ও দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতীত বিয়ে শুদ্ধ হয় না। যে বিবাহ অভিবাক ও সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতীত হবে তা বাতিল। (সহিহ ইবন হিব্বান ৪০৭৫) আর শরয়ী এ শর্তাবলী ভিডিও কলে পরিপূর্ণভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ভিডিও কলে হ্যাকিং, ক্লোনিং, ভয়েস চেঞ্জিং, এডিটিং ও অন্যান্য সমস্যারও আশঙ্কা থাকে। তাই ভিডিও কলের মাধ্যমে বিবাহ করা জায়েয নয়। (ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫) আরববিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ লিল-ইফতা-এর ফতোয়া এটাই যে, টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে না। যেমন, সেখানে বলা হয়েছে, نظرا إلى عناية الشريعة الإسلامية بحفظ الفروج والأعراض ، والاحتياط لذلك أكثر من الاحتياط لغيرها من عقود المعاملات – رأت اللجنة أنه ينبغي ألا يعتمد في عقود النكاح في الإيجاب والقبول والتوكيل على المحادثات التليفونية ؛ تحقيقا لمقاصد الشريعة ، ومزيد عناية في حفظ الفروج والأعراض حتى لا يعبث أهل الأهواء ومن تحدثهم أنفسهم بالغش والخداع নারীর সম্ভ্রম ও ইজ্জতের হেফাজত, বিবাহের গুরুত্ব, ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে নিরাপত্তা এবং ইসলামি শরিয়তের মাকাসিদের প্রতি লক্ষ্য করে ফাতওয়া বোর্ড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বিবাহের ইজাব-কবুল ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ফোনের কথোপকথনের ওপর নির্ভর করা উচিত হবে না। (ফাতওয়া লাজনাতিদ্দায়িমাহ ১৮/৯০)

3998 views