1 Answers
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।(২:১৭৭) মানুষ হলো মানুষ, মানুষ হলো আল্লাহ-কর্তৃক সৃষ্ট জীব। মনুসংহিতায় (৬/৯২) ধর্মের দশটি লক্ষণের উল্লেখ করা হয়েছে- ধৃতিঃ ক্ষমা দমোহস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়নিগ্রহঃ । ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্ ।। এর তাৎপর্য হচ্ছে-ধর্মের রূপ প্রত্যক্ষ করা যায় সেই ব্যক্তির মধ্যে যিনি সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, মনঃসংযম, চুরি না করা, পবিত্রতা, ইন্দ্রিয়দমন, বুদ্ধি, জ্ঞান, সত্যনিষ্ঠা ও ক্রোধশূন্যতা প্রভৃতি গুণের অধিকারী যিনি তিনিই ধার্মিক, এরূপ ব্যক্তির মধ্যেই ধর্মের রূপ বা পরিচয় নিহিত। অতএব ধার্মিক ব্যক্তির এসব সদ্গুণই ধর্মের স্বরূপ। আবার শাস্ত্রে হিংসা না করা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, শুচি বা পবিত্র থাকা ও সত্যাশ্রয়ী হওয়া এই পাঁচটিকে মনুষ্যত্ব তথা মানব ধর্মের লক্ষণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ দেখায় না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ দেখান না (মিশকাত, হাদিস নং-৪৯৪৭)।