1 Answers

বজ্রযান: মধ্যযুগীয় ভারতের মহাসিদ্ধদের দ্বারা উদ্ভাবিত বজ্রযান মতবাদটি বৌদ্ধ তন্ত্র নামে পরিচিত সাহিত্যের অঙ্গীভূত হয়। এই মতবাদ অনুশীলনের ক্ষেত্রে মন্ত্র, ধারণী, মুদ্রা ও মণ্ডলের ব্যবহার এবং দেবদেবী ও বুদ্ধগণকে প্রত্যক্ষবৎ স্মরণ করার রীতি বিদ্যমান। বজ্রযান শাস্ত্রে এই শব্দটিকে তিনটি যান অর্থাৎ বোধিলাভের তিনটি পথের অন্যতম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে (এই ক্ষেত্রে অপর দু-টি যান হল শ্রাবকযান বা হীনযান ও মহাযান)। মহাযান: মহাযান (/ˌmɑːhəˈjɑːnə/; সংস্কৃত: महायान /ˌməhɑːˈjɑːnə/; অর্থ: মহৎ পন্থা) হল বৌদ্ধধর্মের প্রধান দু-টি অধুনা-প্রচলিত শাখাসম্প্রদায়ের অন্যতম (অপর সম্প্রদায়টির নাম থেরবাদ) এবং বৌদ্ধ দর্শন ও ধর্মানুশীলনের একটি বিশেষ ধারার পরিচায়ক পরিভাষা। এই সম্প্রদায় থেকে একাধিক উপশাখার উদ্ভব ঘটেছে। গোড়ার দিকে ভারতে মহাযান একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায় ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে। বৌদ্ধ বজ্রযান মতবাদটি কখনও কখনও মহাযান বৌদ্ধধর্মের একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে কয়েক জন গবেষকের মতে এটি সম্পূর্ণ পৃথক একটি শাখা।মহাযান বলতে সকল চেতন সত্ত্বার কল্যাণ কামনায় পরিপূর্ণ বোধির অনুসন্ধানে বোধিসত্ত্বের পথও বোঝায়। তাই এই মতবাদের অপর নাম বোধিসত্ত্বযান বা বোধিসত্ত্বের পন্থা। একজন বোধিসত্ত্ব যখন এই লক্ষ্য পূর্ণ করেন তখন তাকে বলা হয় সম্যকসম্বুদ্ধ (सम्यक्सम्बुद्ध), বা পূর্ণ বোধিপ্রাপ্ত বুদ্ধ। একজন সম্যকসম্বুদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং নিজের শিষ্যদের বোধিলাভের পথ প্রদর্শন করতে পারেন। মহাযান বৌদ্ধরা শিক্ষা দেন একক জীবনেই বোধিলাভ সম্ভব এবং একজন সাধারণ মানুষও তা অর্জন করতে পারেন। বর্তমান যুগের বৌদ্ধ সম্প্রদায়গুলির মধ্যে মহাযানপন্থীরাই সংখ্যাগুরু। ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী, বৌদ্ধদের মধ্যে ৫৩% এই মত অনুশীলন করেন, যেখানে থেরবাদের অনুগামীদের হার ৩৬% এবং বজ্রযান অনুশীলনকারীদের হার ৬%। থেরবাদ: থেরবাদ (/ˌtɛrəˈvɑːdə/; পালি শব্দ; আক্ষরিক অর্থ: স্থবিরদের (প্রাচীনপন্থী) সম্প্রদায়) হল বৌদ্ধধর্মের এখনও বিদ্যমান সম্প্রদায়গুলির মধ্যে প্রাচীনতম। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষার একটি নিজস্ব সংস্করণ তাঁরা পালি ভাষায় রচিত তিপিটক গ্রন্থে সংরক্ষণ করেন। পালি তিপিটক গ্রন্থটিই কোনও ধ্রুপদি ভারতীয় ভাষায় অদ্যাবধি সংরক্ষিত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্য বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ। এই ভাষাটিই থেরবাদ সম্প্রদায়ের পবিত্র ভাষা ও লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা তমরাশতীয় সম্প্রদায়ের একটি পাঠও এই গ্রন্থের অন্তর্গত। এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে থেরবাদীরা তাঁদের সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থে লিপিবদ্ধ ধম্ম সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। থেরবাদ সম্প্রদায় মতবাদ ও সন্ন্যাস প্রথার নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারে রক্ষণশীল। এখানেই মহাযান ও বজ্রযান সম্প্রদায়ের তাঁদের প্রধান পার্থক্য। ১৯শ শতাব্দীতে ধ্যান অনুশীলন পুনঃপ্রবর্তিত হয় এবং সেই সময় থেকে প্রথাগত থেরবাদী দেশগুলিতে এবং পাশ্চাত্যে জনসাধারণের মধ্যে তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। শ্রীলঙ্কায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম একটি স্বতন্ত্র আদি বৌদ্ধ সম্প্রদায় হিসাবে পূর্ণতা অর্জন করে এবং তারপরে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই সম্প্রদায় কম্বোডিয়া, লাওস, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়। ভারত, বাংলাদেশ, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের একটি সংখ্যালঘু অংশও এই মতবাদে অনুসারী। এছাড়া সারা বিশ্বে এই সকল গোষ্ঠীর অভিবাসীরা এবং ধর্মান্তরিতরাও থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম অনুশীলন করেন। বৌদ্ধ আধুনিকতাবাদ, বিপশ্যনা আন্দোলন ও থাই অরণ্য প্রথা এই মতবাদেরই সমসাময়িক প্রকাশ।

5450 views