1 Answers
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়া কোনো ব্যক্তির মাঝে রোগটি সংক্রমণের কোনো সংবাদ পাওয়া যায় নি। মৃত দেহ থেকে করোনার সংক্রমণের কোনো প্রমাণও নেই। নতুন সৃষ্ট করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে চলমান ভীতিকর পরিস্থিতিতে সংস্থাটি কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যেগুলো মৃতদেহ থেকে জীবিত ব্যক্তির মাঝে করোনার সংক্রমণ নিয়ে চাউর হওয়া নানা প্রশ্নের সমাধান দিবে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলছে যে, পর্যাপ্ত তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে— করোনায় আক্রান্ত মৃতদেহ রোগটির সংক্রমণ ঘটায় না। এমনিভাবে আজ পর্যন্ত করোনায় মৃতদেহের সংস্পর্শে যাওয়া কোন ব্যক্তি রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে সংস্থাটি বলছে, করোনায় মৃতদেহের দাফন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিজেদের সুরক্ষামূলক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ১. করোনায় মৃতদেহ কি পুড়িয়ে ফেলা উচিত? মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, করোনায় মৃতদেহকে পুড়িয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু এটি সঠিক নয়। এমনটি করা হলে সেটি হবে ধর্মীয় রীতি ও ভুল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। সঠিক দাফন কাজের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। করোনায় মৃতদেহের দাফন কাজে শরিক ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মৃতদেহের গোসল ও দাফন কাজের পূর্বে তারা দু’হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিবে এবং সংক্রমণ রক্ষাকারী জরুরী সাজ-সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। ২. দাফন কাজ কি দ্রুত সেরে ফেলবে না দেরি করবে? সংস্থাটি করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফনের ক্ষেত্রে মৃতদেহের সম্মান, তার ধর্মীয় রীতি ও পরিবারের আগ্রহকে সামনে রেখে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সে সময়টুকু দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি মৃতদেহকে কাফন দাফনের সময়টুকুতে সংক্রমণ এড়াতে ঘর থেকে কবরস্থানে নেওয়া এবং কবরস্থ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সর্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ৩. দাফন কাজ থেকে ফারেগ ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত করবে? মৃতদেহকে স্পর্শ করার আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিবে। পাশাপাশি প্রত্যেকে নিজের কাজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা নিবে; যেমন: মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিআই ইত্যাদি। এছাড়া মৃতদেহ থেকে কিছু নিঃসরণের আশঙ্কা হলে, উপরোল্লেখিত জিনিসগুলোর সাথে পানিরোধক পোষাক, চশমা বা হেলমেট পরে পুরো মাথা ঢেকে নিবে। ৪. মৃতদেহ কীভাবে প্রস্তুত করা হবে? মৃত দেহকে যথাসম্ভব কম নাড়াচাড়া ও জায়গা বদল করা হবে এবং কাফনাবৃত করে যত দ্রুত পারা যায় কবরস্থানে নিয়ে যেতে হবে। সংস্থাটির মতে, কবরস্থানে নেওয়ার পূর্বে মৃতদেহকে বিশেষ ব্যাগে মুড়িয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যদি তার থেকে পানি জাতীয় কিছু নিঃসরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা অবশ্যই করতে হবে। ৫. গোসলের ক্ষেত্রে সর্তকতা কী হবে? মৃতদেহের গোসলে শরিক ব্যক্তিরা নিজেদের সুরক্ষায় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, চশমা, পিপিআই, পানিরোধক পোষাক ও জীবাণু ধ্বংসকারী মেডিসিন ব্যবহার করবে। ৬. মৃত ব্যক্তির পরিবার ও বন্ধুদের সতর্কতা কী হবে? স্বাস্থ্য সংস্থাটি বলছে, মৃত ব্যক্তির পরিবার তাকে স্পর্শ ও চুম্বন করা ব্যতীত দেখতে ও বিদায় জানাতে পারবে। তবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা ষাটোর্ধ্ব বয়সী, শিশু বা শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা (বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ডায়বেটিসে আক্রান্ত দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা) দাফন কাজে শরিক হবে না। ৭. দাফন অনুষ্ঠানের পদ্ধতি কী হবে? মৃত ব্যক্তির পরিবার ও বন্ধুরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তাকে বিদায় জানাতে পারবে। তবে তারা মৃতদেহ স্পর্শ ও চুম্বন করবে না এবং তারা বিদায় জানানোর পর ভালোভাবে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে। যারা মৃতদেহ বহন করবে এবং কবরে নামিয়ে দাফন করবে, তারা অবশ্যই হ্যান্ড গ্লাভস ও পিপিআই পরিধান করবে এবং কাজ শেষে গ্লাভস খুলে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিবে। মৃতদেহের কাফন দাফনে শরিক ব্যক্তিরা কাজ শেষ হওয়া মাত্রই পরিধেয় পোষাক খুলে ফেলবে এবং ধুয়ে ফেলবে। ৮. জানাযার নামাজের সঠিক পদ্ধতি কী হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটির মতে, এ কাজগুলো মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। কিন্তু জানাযা সম্পন্নকারীদের জন্য কিছু শর্তাবলী থাকবে— তারা মৃতদেহ স্পর্শ করবে না। পিপিআই পরবে, হ্যান্ড গ্লাভস পরবে এবং চোখ ও মুখ রক্ষাকারী মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করবে। বিশেষ করে যারা মৃতদেহ বহন করবে। ৯. মৃত ব্যক্তির কাপড় জীবাণুমুক্ত হবে কীভাবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনায় মৃত ব্যক্তির কাপড় ইলেকট্রনিক ওয়াশিং মেশিনে সাবান পানি দিয়ে ৬০ ও ৯০ ডিগ্রির মাঝামাঝি তাপমাত্রায় ধৌত করা হবে। ওয়াশিং মেশিন না থাকলে কাপড় বড় পাত্র বা হাওজে ফুটন্ত গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধৌত করা হবে এবং খুব ভালোভাবে পানি নিংড়াতে হবে, যেন ফোঁটা ফোঁটা পানি না পড়ে এবং প্রখর রোদে শুকাতে হবে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা।