1 Answers
শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বেশিরভাগ হামলাগুলি ছিল লিবারেশন টাইগারস অফ তামিল ইলম (এলটিটিই) এবং মার্কসবাদী-লেনিনবাদী, সাম্যবাদী দল জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) এর দ্বারা। এলটিটিই সিংহলি জাতিগত সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে সহিংসভাবে একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র গঠন করার চেষ্টা করে, এবং ২০০৯ সালে তারা পরাজিত হয়। জেভিপি ১৯৭১ এবং ১৯৮৭-৮৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত ছিল। ২০০০ এর দশকে শ্রীলঙ্কায় ১৩টি অরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেগুলোর প্রত্যেকটিই সংঘটিত হয় এলটিটিই এর দ্বারা। এলটিটিই এর পরাজয়ের পর ২০১৯ হামলাই ২০১০ এর দশকের শ্রীলঙ্কার প্রথম বড় হামলা। শ্রীলঙ্কার প্রধান ধর্মগুলো হচ্ছে বৌদ্ধ (৭০%), হিন্দু (১৩%), মুসলিম (১০%) এবং খ্রিস্টান (৭%), খ্রিস্টানদের মধ্যে ৮২% রোমান ক্যাথলিক। অবশিষ্ট খ্রিস্টানরা সিংহলের এংলিকান চার্চ এবং অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সমানভাবে বিভক্ত। ২০১০ এর দশকে কম সংখ্যক কিন্তু অবিরতভাবে খ্রিস্টীয় ধর্মসভা ও আলাদাভাবে খ্রিস্টান ব্যক্তিদেরকে এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর উপর হামলা করা হয় ও হুমকি দেয়া হয়। কলম্বোর এংলিকান বিশপ ধিলোরাজ ক্যানাগাসাবে ধর্মকে সুরক্ষিত রাখার সাংবিধানিক অধিকার দাবি করেছেন। ২০১৮ সালে, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইভাঞ্জেলিকাল এলায়েন্স অফ শ্রীলঙ্কা (এনসিইএএসএল) এর পক্ষ থেকে সেই বছরে দেশের খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হামলার সংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধির কথা বলা হয়। এর সাথে আগস্ট মাসে একটি ক্যাথলিক সংগঠনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, যেখানে বলা হয় ধর্মান্তরকরণ সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত নয় (যদিও ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত ছিল)। ইস্টার সানডে হচ্ছে খ্রিস্টানদের পবিত্রতম দিনগুলোর একটি এবং সেই দিন শ্রীলঙ্কায় চার্চে গমনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং এএফপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, একজন পুলিশ প্রধান হামলার ১০ দিন পূর্বে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরকে প্রধান গীর্জাগুলোর উপর ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত নামে একটি মৌলবাদী ইসলামবাদী সংগঠন থেকে আসা হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করেন। এই সম্পর্কে কোন তথ্য দেশটির ঊর্ধ্বতন রাজনীতিবিদদের কাছে প্রেরণ করা হয়নি, তবে মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো পরবর্তিতে ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত এর নেতা মোহাম্মদ জাহরান এর দ্বারা পরিকল্পিত একটি জঙ্গি হামলার ব্যাপারে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে আসা একটি অভ্যন্তরীণ মেমো এবং প্রতিবেদনের কিছু ছবি টুইট করেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পর, এই প্রথমবারের মত দেশটি একটি বিশাল জঙ্গি হামলার সাক্ষী হল।