1 Answers

প্রায় দশ হাজার বছর ধরে কপার বা তামা ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং অতি প্রাচীনকাল হতে পুরাতন ও ব্যবহৃত তামার সামগ্রী পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে নতুনভাবে ব্যবহার করার নীতি চালু আছে। কপার বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহী ধাতু। তাই তামার ব্যবহার বহুবিধ: তামার তার, তামার তৈরি যন্ত্রপাতির অংশ ইত্যাদি পুনরায় ব্যবহার করাতে তামার মজুদের উপর চাপ পড়েনা, খরচ কম পড়ে। ব্যবহারের দিক থেকে লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর পরই তামার স্থান। রিসাইক্লিং-এ তামার গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে। নিচে ক্যাবল রিসাইক্লিং এর বর্ণনা দেয়া হলাে: এটি করতে Shaft Shredder মেশিন, কনভেয়ার, চুম্বক পৃথককারী (Separator), ক্যাবল, গুড়াকারী মেশিন (Crusher), পৃথককারী টেবিল ও বায়ু ছাকনি সিস্টেম প্রয়ােজন। ক্যাবলে যেহেতু প্লাস্টিকের আবরণ থাকে তাই ক্যাবল রিসাইক্লিং-এ উৎপন্ন হয় তামা ও প্লাস্টিক। এগুলাে পৃথককরণের সব ব্যবস্থা রিসাইক্লিং মেশিনে থাকে। কপার রিসাইক্লিং এর মূল পদ্ধতি: ভালাে মানের তামার স্ক্রাপকে একটি চুল্লিতে গলানাে হয়। তারপর একে বিজারিত করা হয় এবং বিলেট ও ইনগােটে কাস্টিং করা হয়। নিচু মানের তামার স্ক্রাপকে সালফিউরিক এসিডের সাথে ইলেকট্রোপ্লেটিং এর মাধ্যমে রিসাইক্লিং করা হয়। কপার রিসাইক্লিং এর সুবিধা: কপার রিসাইক্লিং এর বেশ কিছু সুবিধা (berlefits) রয়েছে। যেমন– ক. পরিবেশ: খনি হতে তামা নিষ্কাষণের সময় ধূলিকণা, বর্জ গ্যাস যেমন সালফার ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। তাদের রয়েছে পরিবেশের উপর বিরূপ, ও ক্ষতিকর প্রভাব। কপার রিসাইক্লিং এ পরিবেশের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব থাকেনা বললেই চলে। খ. ভূমিতে জমা রাখার খরচ: কপার ও কপার সংকর বস্তু রিসাইক্লিং না করলে ভূমিতে গর্ত করে রাখতে হয়। এতে জমির যে দাম তাতে রিসাইক্লিং এর তুলনায় এ পদ্ধতি খুবই ব্যয়বহুল। গ. শক্তির সাশ্রয়: কপার আকরিক হতে বিশুদ্ধ কপার পেতে যে শক্তি ব্যয় করতে হয়, তার মাত্র ১০ % শক্তি লাগে কপার রিসাইক্লিং করতে। এই শক্তি সাশ্রয়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস অথবা কয়লার সাশ্রয় ঘটে। সেই সাথে বায়ুদূষক CO2, বায়ুতে কম নিঃসরিত হয়। এতে পরিবেশ দূষণ কম ঘটে। ঘ. অর্থনীতি: খনি হতে নতুন তামা আহরণ ও বিশুদ্ধকরণের যে খরচ তার চেয়ে পুরাতন ও ব্যবহৃত তামা রিসাইক্লিং এর খরচ অনেক কম। এতে তামার বাজার মূল্য বেশ কম পড়ে। ইউরােপের প্রায় ৪১% তামার ব্যবহার ঘটে রিসাইক্লিং কপার হতে।

10360 views