1 Answers

সপ্তম শতাব্দীতে যখন আরব দেশে ছিল না কোন কেন্দ্রীয় শাসন, তখন সেথায় ছিল বিভিন্ন গোত্রের মাঝে হত্যা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, মারামারি, হানাহনিতে ভরপুর এক বর্বর সমাজ। কারো কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাকে দেয়া হত জীবন্ত কবর! ধর্মের নামে ছিল মূর্তী পূজা, অজ্ঞতা তথা জাহেলীয়াতের চরমে পৌছেছিল যে সমাজ, তাদের কাছে এসেছিলেন বিশ্ব মানতার শান্তির দূত মোহাম্মদ (সঃ)। তিনি এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তাঁরই উপাসনায় নিজেকে আত্মসর্ম্পণ করে মানব জিবনে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামের প্রচার শুরু করেন। তখন তিনি মদীনা থেকে বিভিন্ন দেশের রাজা বাদশা ও সম্রাটদের কাছেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠাতেন। নবিজীর সে সব চিঠি অনেকে সাদরে গ্রহণ করত আাবার কেউ প্রত্যাখান করত আর সেই সাথে পত্রবাহকের উপর যে আসত অপমান, তিরস্কার ও অনেক ক্ষেত্রে শারিরিক নির্যাতন এমন উদাহরণ পাওয়া যায় ইতিহাসে। তবে নবীজী সেজন্য কোন হতাশা বা দুঃশ্চিন্তায় না পড়ে বরং তার প্রচার চালিয়ে যেতেন। এভাবে একদিন হেরাক্লিয়াস যখন তার কন্সটেনটিনপোল দরবারে পারসীয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজয়ের উৎসব পালন করছিলেন তখন রাসুল (সঃ) এর চিঠি পৌছে তখনকার যুগের সুপার পাওয়ার বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে। রাসুল (স:)এর চিঠি পাওয়ার পর হেরাক্লিয়াসের মনে নবীর সর্ম্পকে জানার আগ্রহ বাড়ে তাই তার মনে জাগে অনেক প্রশ্ন। তখন তিনি আরব দেশ থেকে কন্সটেনটিনপোলে সদ্য আগত কোন লোকের সন্ধান পাওয়া যায় কি না তা খুঁজতে লোক নিয়োগ করেন। ঘটনাক্রমে মক্কার কোরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ান তখন সেথায় তার দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীক কাজে। সম্রাটের লোকেরা তাদেরকে হেরাক্লিয়াসের দরবারে নিয়ে হাজির হয়। সম্রাট হেরাক্লিয়াসের সামনে আবু সুফিয়ান দাঁড়ানো আর তার পিছনে তার সাথীরা দাঁড়িয়ে আছে, আবু সুফিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বাইজেন্টাইন সম্রাট বললেন যে তিনি তার কাছ থেকে মোহাম্মদ (সঃ)সর্ম্পকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চান এবং আশা করেন সঠিক উত্তর আর যদি মিথ্যা হয় তবে পিছনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা যেন সংশোধন করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে আবু সুফিয়ান যদিও তখন ইসলামের চরম বিরোধী ছিলেন কিন্তু তার সাথীদের কাছে নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে রাসুল (সঃ) এর সর্ম্পকে মিথ্যা বলার সুযোগ না থাকায় সত্য বলতে বাধ্য হন। হেরক্লিয়াসের সেই প্রশ্নগুলো কী ছিল? প্রশ্ন: মোহাম্মদের পরিবার/বংশ পরিচয় কী? উত্তর: আরবের সম্ভ্রান্ত পরিবার। প্রশ্ন: তাঁর পরিবারের কেউ কি কখনও রাজা বাদশা ছিলেন? তাঁর প্রচারিত ধর্ম যারা গ্রহণ করেছে তারা ধনী না গরীব? উত্তর: তারা গরীব। প্রশ্ন: তাঁর অনুসারীরা সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? উত্তর: বাড়ছে। প্রশ্ন: তুমি তাঁকে কখনও মিথ্যা বলতে শুনেছ? উত্তর: না। প্রশ্ন: তিনি কি কখনও তাঁর দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন? উত্তর: এখন পর্যন্ত দেখি নাই। তবে আমাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি কীভাবে রক্ষা করে তা দেখতে অপেক্ষায় আছি। প্রশ্ন: তাঁর সঙ্গে কি তোমরা কখনও যুদ্ধ করেছ? উত্তর: হাঁ, যুদ্ধ করেছি কয়েকবার। প্রশ্ন: কী ছিল সে সব যুদ্ধের ফল? উত্তর: কখনও জয় আমাদের ছিল আবার কখনও ওদের ছিল। প্রশ্ন: মোহাম্মদ কী শিক্ষা দেন? উত্তর: এক ইলাহের ইবাদত করা এবং তার সাথে অন্য কাউকে কোন শরিক না করা, ইবাদত কর, পবিত্র থাক, সদা সত্য কথা বল, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ। এভাবে ইসলামের সার্বজনীন আদর্শের কথা বলতে গিয়ে আবু সুফিয়ান নিজেই অবাক হচ্ছিল নিজের উত্তরে, তার কাছে অনুভব হচ্ছিল সে নিজেই বুঝি ইসলামের প্রচারে নেমে গিয়েছে! হেরাক্লিয়াস তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, তুমি যা বলছ যদি তা সত্য হয় তবে আমি নিশ্চিত এই নবীর রাজত্ব এখান পর্যন্ত এসে পৌছাবে যেখানে আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমি নিশ্চিত এক নবী আসবেন তবে তিনি আরব দেশে আসবেন তা জানতাম না। যদি আমি সেখানে যেতাম তবে তাঁকে নবী হিসাবে গ্রহণ করতাম এবং ইসলাম কবুল করতাম আর নিজ হস্তে তার পদ জোড়া ধৌত করতাম।

5044 views