1 Answers
করলা ইংরেজী নাম Bitter gourd বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia গোত্র Cucurbitaceae করলা এক প্রকার তেতো স্বাদের সবজি। দক্ষিণ পূর্ব এশীয় এই সবজি এখন সারা পৃথিবীতে বিশেষ করে উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। রক্তে শর্করার পরিমান কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যকৃৎ ভালো রাখে, কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে চর্মরোগের ও উপকার করে। নানা রোগ নিরাময়ে করল্লা খুব উপকারী: করল্লা - বাঙালি মাত্রই কমবেশি পরিচিত এই সবজির সাথে। তবে পছন্দের চাইতে অপছন্দের তালিকাই দীর্ঘ। এর তিক্ত স্বাদের জন্য অনেকেই, বিশেষ করে শিশুরা তো মতেই খেতে চায়না করল্লা, তবে সত্যি বলতে কি, ভোজন রসিক বাঙ্গালিই কেবল বোঝেন করল্লার আসল স্বাদ!! বসন্তকালের অসুখগুলোর জন্য করল্লা হলো উৎকৃষ্ট খাবার। এ ছাড়া সর্দি, জ্বর, কাশি, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ এই সময় বেশি দেখা যায়। কারণ, হঠাৎ করে ঠান্ডা থেকে গরম শুরু হয়। তাই আবহাওয়া সহ্য করতে একটু কষ্ট হয় সবার। চর্বি ও চিনিবিহীন এই সবজি রক্ত পরিষ্কার করে। যেকোনো ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে করে যুদ্ধ। নিয়মিত করল্লা খেলে যেকোনো মানুষের শরীরে আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। করল্লা ও চিরতার রস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। ছোট বাচ্চাদের করল্লা খাওয়ার অভ্যাস করাতে পারলে খুব উপকার হবে। কারণ, ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এদের কৃমির আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। আর গরম-ঠান্ডাজনিত অন্য সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধেও কাজ করে এ সবজি। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি—এমন মানুষের রক্তে চিনির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। ডায়াবেটিক রোগী, অধিক ওজনের মানুষের জন্য করল্লা অত্যন্ত উপকারী। কারণ, এটি রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়। হেপাটিক এনকেফালোপ্যাথি (লিভারের জটিল রোগ), লিভার সিরোসিস ও জন্ডিসের রোগীদের জন্য করল্লা উপযুক্ত খাবার। মুখ, নাক ও কানের ছিদ্র দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে অনেক রোগজীবাণু। এই জীবাণুগুলো ধ্বংস করে করল্লা, ত্বকের পুষ্টি বাড়াতেও কাজ করে। কাঁচা করল্লায় ভিটামিন বেশি, তাই কাঁচা খাওয়াই ভালো। আমাদের দেশে ভর্তা - ভাজি, তরকারি বা স্যুপ হিসেবে করল্লা খাওয়া হয়। যত কম তেল-মসলা দিয়ে রান্না করা যায়, ততই ভালো। ১। শতবছর ধরে চীন এবং ভারতে তথা সম্পূর্ণ এশিয়াতেই করল্লা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ডায়বেটিসের ওষূধ হিসেবে। এতে প্ল্যান্ট ইনসুলিন আছে যা রক্তে গ্লুকোজ লেভেল কম রাখে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান অঞ্চলের আদিবাসীরাও বহু বছর ধরেই করল্লাকে ডায়াবেটিস, পেটের গ্যাস, হাম ও হিপাটাইটিসের ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। ব্যবহার করে আসছে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ম্যালেরিয়া জ্বরে এবং মাথা ব্যথায়ও। করল্লা জন্মায় ট্রপিক্যাল অঞ্চলে। যেমন-এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আমেরিকা। করল্লার আছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালশিয়াম আর কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট লৌহ, প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আঁশ। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট, যা কিনা শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকিয়েও রাখতে পারে! আরও আছে লুটিন আর লাইকোপিন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লাইকোপিন শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্টও বটে। ২। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর ক্যান্সার সেন্টার কর্তৃক গবেষনায় দেখা গ্যেছে যে করল্লা অত্যন্ত সফল ভাবে অগ্নাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। গবেষনায় দেখা গেলো যে টেস্ট টিউবে রাখা মানুষের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার কোষে করল্লার জুস প্রয়োগে কোষের মৃত্যুর হার বেড়েছে। কিন্তু কিভাবে? মূলত দ্রূত বর্ধনশীল ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রচুর গ্লুকোস বা চিনি। করল্লা ইন্সুলিন এর নিঃসরন বাড়িয়ে এই গ্লুকোস মেটাবলিসম বা ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা করে। ফলে ক্যান্সার কোষ বাড়তে না পেরে মরে যায়। ঠিক একই ভাবে করল্লা নিয়ন্ত্রন করে ডায়বেটিস ও। এছাড়াও রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগিস্নসারাইড কমায় করল্লা। এবং ভাল কলেস্টেরল এইচডিএল কে বাড়ায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ক্রিমিনাশক হিশাবেও করল্লার তুলনা মেলা ভার। ৩। করল্লা ভাইরাস নাশক হিশাবেও সমান কার্যকারী। হিপাটাইটিস এ, হারপিস ভাইরাস, ফ্লু, ইত্যাদির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করতে পারে। করল্লার ল্যাক্সেটিভ পায়খানাকে নরম রাখে, ও কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে। জীবাণুনাশী-বিশেষ করে ই কোলাই নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর। ফলে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ হয়। ৪। করল্লা নানান রকম চর্মরোগ প্রতিরোধ করতেও অত্যন্ত কার্যকর। করল্লার জুস লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে করল্লার আরেকটি নাম প্রচলিত আছে- উস্তা।