বড় যদি হতে চাও ছোট হও তবে?
বিনয় পরম ধর্ম। বিনয়ী হতে পারা যেকোনো মানুষের মহৎ গুণ। যারা অহংকারকে পরিত্যাগ করে বিনয়ী হতে পারে তারাই অন্যদের কাছ থেকে যথাযথ মর্যাদা লাভ করতে পারে। উচ্চাভিলাস বা বড় হওয়ার বাসনা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। মান-সম্মান, বংশ-মর্যাদা এবং সুনাম অর্জনের ক্ষেত্রে সকলেই চায় অন্যদের থেকে উচ্চ স্থানের অধিকারী হতে। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। কেউ হয়তো জননেতার বেশে সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে আবার কেউ হয়তো অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার দ্বারা প্রভাব বিস্তার করে নিজেদেরকে বড় ও মহৎ হিসেবে জাহির করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটাই যে, এসবের কোনো কিছুই মানুষকে প্রকৃত অর্থে বড় করে তুলতে পারে না। এই ধরণের ব্যক্তি কখনও কারো কাছ থেকে সম্মান পায় না। সাধারণ মানুষ মুখে সমর্থন করলেও মন থেকে তাদেরকে ঘৃণা করে। নম্রতা, কোমলতা এবং সৌজন্যবোধ ছাড়া কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। চিন্তা- চেতনায় উদার হওয়া এবং বিনয়ের সাথে জীবন পরিচালনা করলে মানুষের মন জয় করা সম্ভব। এই পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মহৎ ব্যক্তি অমর ও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাদের জীবনী পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়, তাঁরা সকলেই বিনয়ী ছিলেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের অবিসংবাদিত নেতা হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর বিনয় দ্বারা মানুষকে ধর্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গৌতম বুদ্ধ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হাজী মুহম্মদ মুহসীন প্রমুখ মনীষীগণ বিনয়ের বাস্তব উদাহরণ। বিনয়ই তাদেরকে মানুষের কাছে আসতে এবং তাদের অকৃত্তিম ভালোবাসা অর্জন করতে সাহায্য করে। কাউকে সম্মান করার মাধ্যমে নিজের ক্ষুদ্রতা প্রকাশ পায় না। অন্যকে অবজ্ঞা করে কেউ বড় হতে পারেনি এ জগতে। যে সব রাজা-বাদশা এবং সেনানায়কগণ অহংকার আর ক্ষমতার বলে অন্ধ ছিলেন তারা ইতিহাসে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। পৃথিবীর মানুষ ঘৃণাভরে সারাজীবন তাদের নাম উচ্চারণ করবে।
শিক্ষা: নিজেকে সম্মানিত করতে হলে অপরকে সম্মান দিতে হবে, বিনয় প্রদর্শন করতে হবে। আপন কর্মই মানুষকে সমাদৃত করে। অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে প্রকৃতপক্ষে নিজের বড় হওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয় এবং নিজেকেই হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
2 Answers
"বড় যদি হতে চাও ছোট হও তবে"
মূলভাব: মানুষ ইচ্ছে করলেই বড় হতে পারে না। বড় হতে হলে তাকে সদগুণের অধিকারী হতে হবে।
সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবীতে সকলেই চায় বড় হতে, চায় নিজেকে সকলের মধ্যে বিশিষ্ট করে তুলতে। কিন্তু বড় হওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। বিনম্র-চিত্তে বিরামহীনভাবে সাধনা করে গেলেই বড় হওয়া সম্ভব। কি›তু পৃথিবীতে কতিপয় লোক আছে যারা বড় হওয়ার এই পথটিতে যেতে রাজি হয়। তার পরিবর্তে তারা নিজেদেরকে বড় হিসেবে জাহির করে বেড়ায়। এতে করে তারা বড় বলে স্বীকৃতি তো পায়ই না বরং সকলের কাছে তারা হীন এবং ক্ষুদ্র বলে পরিচিত হয়। প্রকৃতপক্ষে বড় হওয়ার জন্য যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো ছোট তথা বিনয়ী হওয়া। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিনয় দ্বারাই মানুষের মন জয় করেছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবাদ পুরুষ গৌতম বুদ্ধ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন প্রমুখ মনীবী বিনয় দ্বারাই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। দুনিয়ার মানুষ তাইতো আজও তাঁদেরকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে। এ কথা সত্য যে, সাধারণ মানুষের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে কেউ বড় হতে পারেনি বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারেনি। পরম প্রতাপশালী অহংকারী রাজা-বাদশাহরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। পৃথিবীর মানুষ ঘৃণাভরে তাদের নাম উচ্চারণ করে থাকে। তাই বড় হতে হলে স্পর্ধিত অহংবোধকে বিসর্জন দিয়ে নিজের ক্ষুদ্রতাকে স্বীকার করতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গেলে যেমন সর্বনি¤œ ধাপটিতেই প্রথম পা রাখতে হয়, তেমনি বড় হতে গেলেও ছোট হতে হয়। তাহলেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে বড় হয়ে উঠে এবং সকলে তাকে বরেণ্য বলে স্বীকার করে নেয়।
মন্তব্য: ছোটকে উপেক্ষা করে বড় হওয়ার আশা করা দুরাশার শামিল। বড় হতে হলে অবশ্যই আগে ছোট হতে হবে।
বিনয় পরম ধর্ম। বিনয়ী হতে পারা যেকোনো মানুষের মহৎ গুণ। যারা অহংকারকে পরিত্যাগ করে বিনয়ী হতে পারে তারাই অন্যদের কাছ থেকে যথাযথ মর্যাদা লাভ করতে পারে। উচ্চাভিলাস বা বড় হওয়ার বাসনা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। মান-সম্মান, বংশ-মর্যাদা এবং সুনাম অর্জনের ক্ষেত্রে সকলেই চায় অন্যদের থেকে উচ্চ স্থানের অধিকারী হতে। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। কেউ হয়তো জননেতার বেশে সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে আবার কেউ হয়তো অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার দ্বারা প্রভাব বিস্তার করে নিজেদেরকে বড় ও মহৎ হিসেবে জাহির করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটাই যে, এসবের কোনো কিছুই মানুষকে প্রকৃত অর্থে বড় করে তুলতে পারে না। এই ধরণের ব্যক্তি কখনও কারো কাছ থেকে সম্মান পায় না। সাধারণ মানুষ মুখে সমর্থন করলেও মন থেকে তাদেরকে ঘৃণা করে। নম্রতা, কোমলতা এবং সৌজন্যবোধ ছাড়া কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। চিন্তা- চেতনায় উদার হওয়া এবং বিনয়ের সাথে জীবন পরিচালনা করলে মানুষের মন জয় করা সম্ভব। এই পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মহৎ ব্যক্তি অমর ও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাদের জীবনী পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়, তাঁরা সকলেই বিনয়ী ছিলেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের অবিসংবাদিত নেতা হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর বিনয় দ্বারা মানুষকে ধর্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গৌতম বুদ্ধ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হাজী মুহম্মদ মুহসীন প্রমুখ মনীষীগণ বিনয়ের বাস্তব উদাহরণ। বিনয়ই তাদেরকে মানুষের কাছে আসতে এবং তাদের অকৃত্তিম ভালোবাসা অর্জন করতে সাহায্য করে। কাউকে সম্মান করার মাধ্যমে নিজের ক্ষুদ্রতা প্রকাশ পায় না। অন্যকে অবজ্ঞা করে কেউ বড় হতে পারেনি এ জগতে। যে সব রাজা-বাদশা এবং সেনানায়কগণ অহংকার আর ক্ষমতার বলে অন্ধ ছিলেন তারা ইতিহাসে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। পৃথিবীর মানুষ ঘৃণাভরে সারাজীবন তাদের নাম উচ্চারণ করবে।
শিক্ষা: নিজেকে সম্মানিত করতে হলে অপরকে সম্মান দিতে হবে, বিনয় প্রদর্শন করতে হবে। আপন কর্মই মানুষকে সমাদৃত করে। অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে প্রকৃতপক্ষে নিজের বড় হওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয় এবং নিজেকেই হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।