1 Answers
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকলেও গ্রামীণ ও নগর সমাজের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য পার্থক্য বিদ্যমান। গ্রামীণ ও নগর সমাজের যেসকল বৈসাদৃশ্য বাহ্যিকভাবে পরিলক্ষিত হয়-
১। গ্রামীণ সমাজ কৃষিভিত্তিক। অন্যদিকে নগর সমাজ শিল্পোৎপাদন ও সেবাভিত্তিক।
২। গ্রামীণ সমাজের সংস্কৃতি সনাতন ও ঐতিহ্যবাহী। অন্যদিকে নগর সমাজ অগ্রসরমান ও আধুনিক।
৩। গ্রামীণ সমাজে নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। একটি গ্রামে সাধারণত এক থেকে দশ হাজার মানুেষর বসবাস।অন্যদিকে একটি জনপদকে শহর হতে হলে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করতে হয়। কোনো কোনো মেগাশহরে এক কোটির অধিক মানুষ বসবাস করে।
৪। গ্রামে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক কম। অন্যদিকে শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি।
৫। গ্রামীণ সমাজে বসতবাড়ি ও জলাশয় ব্যতীত অধিকাংশ ভুমি কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে শহরে কৃষি ভুমি নেই বললেই চলে।
৬। গ্রামীণ সমাজে মানুষের পেশা কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরি ও স্থানীয় পেশাভিত্তিক জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে নগর সমাজ কৃষি বহির্ভুত শিল্পোৎপাদন ও সেবাভিত্তক পেশার আধিক্য।
৭। গ্রামীণ সমাজে শিক্ষার হার কম, উচ্চশিক্ষিত মানুষ খুব কমই গ্রামে বসবাস করেন। অন্যদিকে নগর সমাজে শিক্ষার হার অপেক্ষাকৃত বেশি। শহরে অনেক শিক্ষিত এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ বসবাস করেন।
৮। গ্রামীণ সমাজে নাগরিক সুযোগসুবিধা গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে নগর সমাজে গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশনসহ নাগরিক সুেযাগ-সুবিধা অনেক বেশি এবং উন্নত।
৯। গ্রামীণ সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, প্রথা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হয়। অন্যদিকে নগর সমাজে আইন এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান মূখ্য ভুমিকা পালন করে।
১০। গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতা কাঠামো কৃষি জমি, বৃহৎ জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, বংশ মর্যাদা ইত্যাদি সনাতন উপাদানের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। অন্যদিকে নগর সমাজের কর্তৃত্বপূর্ণ পেশা, শিক্ষা, নগদ অর্থ, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, রাজনৈতিক প্রভাব প্রভৃতি উপাদানের দৃঢ় ভুমিকা রয়েছে।