1 Answers
বাংলা নাম সোনালু হলেও এর লম্বা লম্বা ফলের কারণে সাধারণের কাছে এটি বানরলাঠি নামে পরিচিত। এটি একদিকে যেমন বেশ শক্তিধর ভেষজ, অন্যদিকে সুন্দর সোনালি হলুদ রঙের ফুল প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে এক অপূর্ব বৈচিত্র্য। কবিরাজি চিকিত্সায় এর মূল পাতা-বীজ থেকে শুরু করে সবই গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ তৈরিতে এর মূলের ছাল, কচি পাতা, ফলের মজ্জা ও বীজের গুঁড়া ব্যবহার হয়। কবিরাজি ভাষায় সোনালু তিক্তরস ও উষ্ণতাবর্ধক ভেষজ। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে এর অনেক গুণের কথা উল্লেখ আছে। ডালে ডালে যখন সোনালুর ফুলগুলো গুচ্ছ আকারে ঝুলে থাকে, তখন তা নিতান্ত বেরসিক মনেও দোলা দেবে। সোনালু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ, যা প্রাকৃতিক, বৈকৃতিক বা পরিবর্তনজনিত ও নৈমিত্তিক রোগ সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কবিরাজি শাস্ত্রমতে, সোনালুর ফলকে বলা হয় উত্কৃষ্ট জোলাপ, যা বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। আয়ুর্বেদীয় রীতি অনুযায়ী প্রাকৃতিক, বৈকৃতিক, নৈমিত্তিক রোগগুলো হয় ভিন্ন ভিন্ন কারণে। তাই এর চিকিত্সা পদ্ধতিও ভিন্ন। তবে এসব ক্ষেত্রে সোনালুর তৈরি জোলাপই একমাত্র ওষুধ, যা এসব রোগে টনিকের মতো কাজে করে। আয়ুর্বেদিক চিকিত্সকরা পদ্ধতি অনুসরণ করে সোনালু ফলের মধ্যকার মজ্জা ৩-৪ গ্রাম নিয়ে জোলাপ তৈরি করেন। এর জন্য তার সঙ্গে একটু গরম দুধ বা গরম পানি মেশাতে হয়। তার পর ওই জোলাপ ছেঁকে নিয়ে সকালের দিকে পান করতে হয়। জানা গেছে জ্বর, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা এমনকি পাইলসের মতো রোগেও জোলাপ অনেক কার্যকর। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সোনালুর ফলের ভেতরে জমানো আঠা জাতীয় পদার্থ যে ভেষজ ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে, তেমনি এ গাছের পাতাও নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর। শরীরের কোথাও ক্ষত সৃষ্টি হলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগ নিরাময়ে সোনালু গাছের পাতা ও আঠা জাতীয় পদার্থ খুবই উপকারী
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy