4 Answers

ওয়েক্সিং হলো শরীরের অবাঞ্ছিত পশম দূর করার একটি পদ্ধতি, যা পশমকে গোড়া থেকেই তুলে ফেলে। এই পদ্ধতিতে পশম দূর করলে অনেকদিন পর্যন্ত ত্বক পশম মুক্ত থাকে (প্রায় দুইমাস পর্যন্ত)। এটি ভ্রু, মুখমন্ডল, পিঠ, হাত-পায়ের ত্বক এবং গোপন স্থানের পশম দূর করতে কার্যকরী। ওয়েক্সিং এর সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় পশম মুক্ত থাকা এবং অন্য পদ্ধতি অবলম্বনে ত্বকের রঙ কালো হয়ে যায়, ওয়েক্সিং এ তা হয় না। আর অসুবিধা হলো, এটি ব্যাথাদায়ক পদ্ধতি এবং পশমের আকৃতি খুব ছোটও হতে পারবে না আবার খুব বড়ও হতে পারবে না।
ওয়েক্সিং এর বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে স্ট্রিপ ওয়েক্সিং সবচেয়ে জনপ্রিয়। যদিও এটি সময়সাধ্য এবং বাইরে কোথাও করাতে গেলে অনেক খরচেরও ব্যাপার। কিন্তু সতর্কতার সাথে নিম্ন পদ্ধতিতে আপনি ঘরে বসেই এটি করতে পারেন।
যা লাগবে

• ১ কাপ (২৫০মি.লি.) দানাদার চিনি
• ১ কাপ (২৫০মি.লি.) মধু
• আধা কাপ (১৫০মি.লি.) লেবুর রস
যেভাবে করবেন
চিনির সিরা তৈরী করুন

একটি পাত্রে (সসপ্যান) পুরোটা চিনি যোগ করুন। এটি মাঝারি তাপে গরম করতে থাকুন। একটু পর পর কাপড় দিয়ে পাত্রটি ধরে নাড়তে হবে যতক্ষণ না চিনির সিরা তৈরী হবে। যখন চিনির সিরা তৈরী হয়ে যাবে তখন খুব সুন্দর ঘ্রান বের হবে।
লেবুর রস এবং মধু যোগ করুন
চিনির সিরা হয়ে এলে এর মধ্যে মধু এবং লেবুর রস যোগ করুন। লেবুর রস যোগ করার সময় গরম ফেনা তৈরী হবে, এক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে। একটি কাঠের চামচ দিয়ে মিশ্রণটি নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন আঠালো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। যদি বেশি ঘন হয়ে যায়, এক চা চামচ পানি যোগ করুন।
মিশ্রণটিকে ঠান্ডা করুন

চুলা থেকে মিশ্রণটিকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন এবং রেফ্রিজারেটরে রাখুন।
আপনার পশমের আকার দেখে নিন

আপনি যেই স্থানের পশম দূর করবেন, সেখানে পশমের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ০.১৫ থেকে ০.২৫ ইঞ্চি হতে হবে।
যদি আপনার পশম খুব ছোট হয়, তাহলে ওয়েক্সিং করে এটি গোড়া থেকে তোলা যাবেনা।
যদি আপনার পশম খুব বড় হয়, তাহলে আপনি প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করতে পারেন।
ওয়েক্সিং এর জন্য কাপড়

লম্বা করে সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যের সুতি বা লিলেন এর কাপড় টুকরো করে কেটে নিন। কাপড়ের টুকরোর চারিধার একটু সেলাই করে নিলে ভালো হয়।
পশম তোলার স্থানে পাউডার দিয়ে শুষ্ক করে নিন

পশম তোলার স্থানটি একটু বেবি পাউডার দিয়ে শুষ্ক করে নিন, এতে ওয়েক্সিং করার সময় আপনার ত্বকে ব্যাথা কম অনুভূত হবে।
অত:পর ওয়েক্সিং এর মিশ্রণটি যোগ করুন

একটি চামচ দিয়ে ওয়েক্সিং এর মিশ্রণটি পশমযুক্ত ত্বকে প্রয়োগ করুন। পশমের গোড়া থেকে উপরের দিকে টেনে টেনে মিশ্রণযোগ করতে হবে।
কাপড়ের টুকরো ত্বকের উপর রাখুন

ওয়েক্সিং মিশ্রণের উপর কাপড়ের টুকরো ভালভাবে চেপে রাখুন। এখন আপনাকে মিশ্রণটি শুকিয়ে পশমের সাথে আঠালো ভাবে লেগে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কাপড়টি তুলে ফেলুন

পশমের সাথে কাপড়টি ভালভাবে লেগে গেলে, কাপড়ের একপ্রান্ত ধরে ৯০˚ কোণে দ্রুত টেনে তুলুন। এভাবে আরেকটি কাপড়ের টুকরো ও ওয়েক্সিং মিশ্রণ দিয়ে অন্য স্থানের পশম তুলতে হবে।
পশম তোলা স্থানের যত্ন নিন

পশম তোলার পর ঐ স্থানের ত্বকটি লাল হয়ে জ্বালাপোড়া করতে পারে। সেজন্য ঐ স্থানে বরফ ঘষুন। একটু আফটার সেভ লোশন বা কুলিং ক্রিম অথবা সেভলন দিলেও উপকার পাবেন।
যেটুকু ওয়েক্সিং মিশ্রণ অবশিষ্ট রয়ে যাবে তা রেফ্রিজারে কয়েক সপ্তাহ এবং ডিপ ফ্রিজারে কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ব্যবহারের আগে গরম করে মিশ্রণটি আঠালো করে নিলেই হবে।
মনে রাখবেন ওয়েক্সিং একটি ব্যাথাদায়ক পদ্ধতি। যতো নিখুত ও সতর্কভাবে এটি করবেন ব্যাথা ততো কম অনুভূত হবে।
অবাঞ্ছিত লোম দূরীকরণঃ - ব্লিচ করার মাধ্যমে লোম হালকা করা যায়, যাতে চোখে না পড়ে। - শেভিং করা যেতে পারে, যদিও এতে লোমের গোঁড়া মোটা হয়ে যায়। - ওয়াক্সিং করে লোম দূর করা যায়। - হেয়ার রিমুভাল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। - প্লাকিং করেও লোম তোলা যেতে পারে। - থ্রেডিং করেও লোম থেকে সাময়িক ভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। ০২) লেজার চিকিৎসাঃ laser-hair-removal উপরের সব গুলো পদ্ধতি থেকে এই পদ্ধতি তুলনামূলক ভাবে স্থায়ী এবং কার্যকরী। তবে এক্ষেত্রে কয়েকবার চিকিৎসা নিতে হয়। এ পদ্ধতিতে লোমের গোঁড়ায় রশ্মি ফেলা হয় যাতে গোঁড়াটা নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুন ভাবে গজাতে না পারে। এটি কিছুটা ব্যয়বহুল এবং দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়। ইলেক্ট্রোলাইসিসঃ এর মাধ্যমেও লোম স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে হেয়ার ফলিকল নষ্ট করা হয়। ০৩) ম্যাডিকেশনঃ জন্ম বিরতিকরণ পিল এন্টি এন্ড্রোজেন ম্যাডিকেশন-যেমন স্পাইরোনোল্যাকটোন(spironolactone)। এই চিকিৎসাগুলো সময়সাপেক্ষ। এভাবেই ঘরোয়া যত্ন, ওজন কমানো, খাদ্যাভ্যাস, লোম অপসারণ এবং চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি সহজেই মুখের অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আমাদের শরীরে লোম একটি স্বাভাবিক অবস্থা কিন্তু অতিরিক্ত লোম বা অবাঞ্ছিত লোম (unwanted hair)আমাদের নিজেদের জন্য যেমন অস্বস্তিকর একটি ব্যাপার একইভাবে অন্যর কাছে নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেও মোক্ষম অস্ত্র। তাই আমরা সবাই নিজেদের শরীরের অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পেতে সচেতন থাকি সব সময়ই।। আসুন আজ আপনাদের এই অস্বস্তিকর সমস্যার কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান দেওয়া যাক।
শরীরের অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন
- আপনি ঘরে বসেই একটি প্যাক তৈরি করুন। হলুদের গুঁড়া, ময়দা (gram flour) ও পানি এই তিন উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি মিহি পেস্ট রেডি করুন। আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় জায়গাতে পেস্টটি লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পরে মৃদুভাবে জায়গাটি থেকে শুকিয়ে যাওয়া পেস্টটি তুলে ফেলুন। এটি অত্যন্ত যত্নের সাথে আপনার শরীরের লোম বৃদ্ধি বন্ধ করবে।
- আপনার হাত ও পায়ের অবাঞ্ছিত লোম তুলতে গোসলের সময় পিউমিস স্টোন (Pumice Stone) দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘষুন এটি খুব দ্রুত আপনার হাত পায়ের লোম উঠিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
- ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনি লেবু, মধু ও চিনি দিয়ে একটি মিকচার বানান। আপনার শরীরের যেখান থেকে অবাঞ্ছিত লোম তুলে ফেলতে চান সেখানে এই মিকচারটি লাগান। কিছুক্ষণ পর একটি ফেব্রিক কাপড় দিয়ে লোমের বিপরীত দিকে টেনে লোম উঠিয়ে ফেলুন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যাতে আপনার শরীরের লোমের বৃদ্ধি এক নিমেষেই অনেখানি কমে যায়।
- দই, মিল্ক ক্রিম ও গ্রাম ফ্লাওয়ার এই তিন উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট রেডি করুন। এরপর এই পেস্ট আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় স্থানে ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে হালকা ঘষে তুলে ফেলুন। দেখেবন এটি আপনার শরীরের অবাঞ্ছিত লোম তুলে ফেলার সাথে সাথে লোমের বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করবে।
যারা পার্লারে গিয়ে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম তুলতে অস্বস্তিবোধ করেন বা ঝামেলা মনে করেন তারা ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক উপায়ে সহজেই আপনার শরীরের লোম তুলতে পারেন।
চিনি ব্যবহার করে সহজেই শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করা সম্ভব। আর নামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পদ্ধতিটির প্রধান উপাদানই হল 'সুগার' অর্থাৎ চিনি। সঙ্গে মেশাতে হবে লেবুর রস ও পানি। অন্যান্য 'ওয়্যাক্সিং' পদ্ধতির মতো এখানে কাগজের স্ট্রিপ-ও প্রয়োজন নেই, হাত দিয়ে টেনেই লোমসহ মিশ্রণটি তুলে ফেলা যাবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy