1 Answers
উনিশ শতকে ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি জমিদার, নীলকরদের অত্যাচার-শোষণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০)।
তাঁর এ আন্দোলনই ‘ফরায়েজী আন্দোলন’ নামে পরিচিত। ফরিদপুরকেন্দ্রিক এ আন্দোলন আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের শুরুর দিকে লক্ষ্য ছিল ‘ধর্মীয় কর্তব্য বাস্তবায়ন’। আন্দোলনের নামও দেওয়া হয়েছে ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে। ফরায়েজী আন্দোলনের ‘ফরায়েজী’ শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ ‘ফরজ’ (অবশ্য পালনীয়) থেকে। পরে অবশ্য এ আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পায়।
১৭৯৯ সালে মক্কায় হজ করতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত হন শরীয়তুল্লাহ। ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে লক্ষ করেন, অনেকেই বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় রীতিবিরুদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান যুক্ত করছে। তিনি এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালনের ব্যাপারে মুসলমানদের আহ্বান করেন। একই সঙ্গে ‘শিরক’ ও ‘বিদাত’ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।
হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।