আল্লাহ কুরআনে বলেন, “আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।” তাহলে একজন মানুষের পক্ষে কি সার্বক্ষণিক ইবাদত করা সম্ভব? একজন মানুষ ঘুমাবে, পড়ালেখা করবে, প্রস্রাব-পায়খানা করবে, ঘর পরিষ্কার করবে, গোসল করবে, খেলাধূলা করবে - এসবের মাধ্যমে কি আল্লাহর আদেশ মানা সম্ভব? আল্লাহর বিধানমতে তো শুধু ইবাদত করতে হবে। তাহলে অন্য কাজগুলার কী হবে?

পয়েন্ট:

কেউ কেউ  বলেছেন, দুনিয়াবি কাজ ছেড়ে শুধু আখেরাতি কাজ করতে হবে। তাহলে আপনি প্রস্রাব পায়খানা কীভাবে করবেন?

আপনি যে কাজই করবেন, তার দোয়া করতে চাচ্ছেন। তাহলে কি আপনি পৃথিবীর সকল ভালো কাজের দোয়া জানেন? পত্রিকা পড়বেন, গজল শুনবেন, ব্যায়াম করবেন, কাপড় পরবেন, ঘর পরিষ্কার করবেন-- সব কাজের দোয়া জানেন? 

কেউ কেউ বলেছেন ইহলৌকিক সব চিন্তা বাদ দিতে। তাহলে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাহ...  -- এটার মানে তো দুনিয়ার কল্যাণ। তাহলে আপনি ইহলৌকিক সকল কাজ বাদ দিবেন কেমনে?

কেউ বলেছেন, সব কাজ আল্লাহর রাসুলের দেখানো পথে করতে হবে। আপনি যদি বিস্তারিত হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করেন, তাহলে হয়তো এটি সম্ভব। তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে? এখনের যুগে যা আছে, তার সব তো রাসুলের যুগে ছিলনা। আর আপনিও রাসুলকে দেখেননি। তাহলে তাঁর দেখানো পদ্ধতিতেই আপনি আপনার দৈনন্দিন সব কাজ করবেন কীভাবে?

তাই এমন কোনো পদ্ধতির কথা বলুন যেটা সার্বজনগ্রাহ্য বা সবার জন্য খাটে। কারণ, আল্লাহ সব মানুষকেই একই উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন।

4259 views

8 Answers

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।যেহেতু পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সেহেতু প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও এই বিধানে আছে।যেমন:আপনি পানি পান করবেন এখানে কয়েকটি ইসলামিক নীয়ম মেনে করতে হবে তাহলেই আপনার এই পানি পান করা ইবাদত এর মধ্যে শামিল হোয়ে যাবে ১) বিসমিল্লাহ বলে পান করতে হবে।২)বসে পান করতে হবে।৩) ডান হাতে পান করতে হবে। ৪)তিন শ্বাসে ১ গ্লাস পানি পান করতে হবে।৫) সর্বশেষে আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া আদায় করতে হবে ।আবার আপনি ঘুমাবেন ঘুমানোর পূর্বে ও ঘুমথেকে উঠে দোয়া পড়ুন আপনার ঘুমটাও ইবাদত এর মধ্যে শামিল হলে যাবে। এখানে আল্লাহর ইবাদত করা বলতে সব কাজ বাদ দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে বলা হয় নাই বরং বোঝানো হয়েছে প্রতিটি কাজ আল্লাহ্ ও রাসূলের (সা:) শেখানো পদ্ধতিতে করতে। তাহলেই সব কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতো প্রতিটি কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

4259 views

প্রত্যেকটি বিষয়েরই একটি ভিডি থাকে।  আর ঐ ভিত্তি উপরে নির্ভর করেই  ঐ বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত।  সো কোরআানিক রোলস গুলোও  কোরআান ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং কেউ যদি ইসলামিক কোনো বিষয় নিয়ে কোরআন  ও সুন্নাহ মোতাবেক  চিন্তা  ভাবনা  করে তবে  সে তার যেকোনো প্রশ্নের সলভ নিজেই করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।  মূল কথা আপনার উত্তরটি হচ্চে, যেহেতু   ইসলামিক  অর্থাৎ  কোরআান ও সুন্নাহ মোতাবেক  যেকোনো  কাজ ই  ইবাদাত  সেহেতু  কেউ  যদি  কোরআাম ও সুন্নাহ অনুযায়ী ঘুমায় তবে তা ইবাদত।  কেউ যদি  কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী প্রস্রাবও করে তাও ইবাদত।   আর জ্ঞান অর্জন করা তো ফরয। আশা করি উত্তর টি পেয়েছেন। 

4259 views

 তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পাপ থেকে দূরে থাকে। তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহ ভীতি, যার ভিতরে তাকওয়ার জোর বেশী সে সকল প্রকার কুফরী ও শিরক থেকে বেঁচে থাকে।

এ ধরনের আল্লাহ ভীতির কারণে সে সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করে এবং তার ভিতর জবাবদিহিতার ভয় কাজ করায় সে সবসময় ইবাদতের জন্য ব্যকুল থাকে। আর এভাবে অন্যসকল ইহলৌকিক চিন্তা দূর হয় এবং পরলৌকিক চিন্তা মাথায় আসে। একজন মানুষ যখন ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে তখন সে পবিত্র হয় যেমন করে একজন মানুষ নদীতে ৫ বার গোসল করলে তার দেহের সকল ময়লা ধুয়ে যায়। দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র, একথা স্মরণ করে এবং ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করলে, এবং সকল কাজের জবাবদিহিতার ভয় কাজ করলে একজন মানুষ দুনিয়ার সকল কাজ ফেলে আগে ইবাদত করার চেষ্টা করবে। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আখিরাতের জীবন অনন্তকালের জন্য।

4259 views

দেখুন তো, আপনার ঘুম যাওয়া, খেলাধুলা করা, প্রস্রাব পায়খানা করা -- এসব কাজ কেন? অবশ্যই বেঁচে থাকার জন্যই। আর বেঁচে থাকা কেন? আল্লাহর ইবাদতের জন্য, আল্লাহর আদেশ নিষেধ মানার জন্য। তাহলে খাওয়া, গোসল, খেলাধুলা-- এসব কাজ যখন বেঁচে থাকা ও ইবাদত করার জন্যই, তাহলে খাওয়া, গোসল, খেলাধুলা এসব কাজও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, এগুলা না করলে বেঁচে থাকবেন না, বেঁচে না থাকলে ইবাদত করতে পারবেন না। কিন্তু, এসব কাজকে ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নিয়তকে খাঁটি করতে হবে। আপনি যদি খাওয়াকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করতে চান, তাহলে মনে মনে সেটার নিয়ত করতে হবে, নাহলে ইবাদত হবেনা। এজন্য রাসুল (সা) বলেন, “ইন্নাামাল আ’মালু বিন নিয়াত।” অর্থাৎ, “সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারী)। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গৃহিণীর গৃহকর্ম- রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার, গৃহকর্তার হালাল রিজিক আহরণ সবই ইবাদত, কিন্তু ইবাদত হিসেবে গণ্য হওয়ার পূর্বশর্ত হলো প্রকৃত ইসলামি ব্যখ্যাটা বুঝতে হবে এবং নিয়ত করতে হবে। নিয়ত না করলে ইবাদত হিসেবে গণ্য হবেনা , যা আল্লাহর রাসুলের হাদিস থেকে প্রমাণিত।

(বি.দ্র: এধরনের প্রশ্নের উত্তর কুরআন হাদিসের রেফারেন্স ছাড়া দেয়া উচিত নয়)

4259 views

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। সারাক্ষণ ইবাদত করা মানে সবকিছু বাদ দিয়ে ইবাদত করা নয়। নামায হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত। আর আপনি যখন প্রস্রাব , পায়খানা করতে যাবেন তখন   প্রস্রাব , পায়খানা যাবার দোয়া পরবেন। যখন খেতে বসবেন তখন খাবার দোয়া পরবেন। যখন ঘুমাতে যাবেন তখন ঘুমানোর দোয়া পরবেন। তাহলে আপনি সব সময় ইবাদতের মধ্যে থাকবেন। আর সকল কাজ শুরু করার সময় আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়ে শুরু করবেন। কারন ইবাদত এর আরেক অর্থ হলো সরন করা। তাই আপনি যাই করেন না সকল সময় আপনি ইবাদতের মধ্যে থাকবেন। আশা করি বুঝছেন।

4259 views

আলহামদুলিল্লাহ, ভাই অনেক ভালো প্রশ্ন করেছেন। এটাই তো জানার আকাঙ্ক্ষা। ইলম অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।

আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দিন-

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। সারাক্ষণ ইবাদত করা মানে সবকিছু বাদ দিয়ে ইবাদত করা নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মিথ্যা বলেন নি। জীবন প্রবাহ যদি আল্লাহর হুকুম ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু এর তরিকামত/শরয়ী তরিকায় হয়, তবে মুসলমানের সমস্ত যিন্দেগী ইবাদত হিসেবে গন্য হবে। প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর হুকুম ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরিকা চাই-ই চাই। 

যেমনঃ আল্লাহ তায়ালা গরুর গোশত খাওয়াকে মানুষের জন্য হালাল করেছেন। কিন্তু এর বিস্তারিত কোন উল্লেখ নেই। গরু মেরে ফেলে প্রসেস করে খেতে হবে এটাই স্বাভাবিক। যদি আমি গরুকে যে কোন ভাবে মেরে ফেলে খাই, এটা কিন্তু হালাল হবে না। এটা যদি নবীর দেখানো তরিকায় সম্পন্ন হয় তবেই হবে। 

   তেমননি, নামায হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত। আর আপনি যখন প্রস্রাব , পায়খানা করতে যাবেন তখন   প্রস্রাব , পায়খানা যাবার দোয়া পরবেন। যখন খেতে বসবেন তখন খাবার দোয়া পরবেন। যখন ঘুমাতে যাবেন তখন ঘুমানোর দোয়া পরবেন। তাহলে আপনি সব সময় ইবাদতের মধ্যে থাকবেন। এগুলোকে বলা হয় মাসনুন দোয়া। আর সকল কাজ শুরু করার সময় আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়ে শুরু করবেন। কারন ইবাদত এর আরেক অর্থ হলো সরন করা। তাই আপনি যাই করেন না সকল সময় আপনি ইবাদতের মধ্যে থাকবেন। আশা করি বুঝছেন।

4259 views

বিসমিল্লাহ বলে সকল কাজ শুরু করে সর্বদা ই আল্লাহর ইবাদত করা সম্ভব।

4259 views

কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ্‌ পড়ে নিন।তাইলে ঐ কাজ যতক্ষণ করবেন ততক্ষণ সময়টা ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে। বেশি বেশি জিকির করুন। 

4259 views

Related Questions