1 Answers

উদ্দীপক দিয়ে নির্দেশিত বিষয় তথা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের জ্ঞান বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি। কেননা আমরা জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ক্রমশ সম্প্রসারিত হতে থাকে।

বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষাদানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম 'সমাজবিজ্ঞান' নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে এখানে, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান কোর্স চালু হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে 'সমাজতত্ত্ব' নামে আলাদা একটি বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর পরবর্তী দশকে ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হচ্ছে। দেশের উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাজবিজ্ঞান বিষয় পড়ানোর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয় শিক্ষাদানের ফলে এ বিষয়ের জ্ঞান বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর কারণেই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি।

5 views

Related Questions