1 Answers
শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের মাধ্যমে অসমর্থিত হওয়ায় মিজানের শিক্ষক লটারিকে নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করলেন। ইসলামি আইনের বিস্তৃতির উদাহরণ হলো কিয়াস। এর অর্থ পরিমাপ বা তুলনা করা। মূল আইন (কুরআন-হাদিস) যখন নতুন ধরনের সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট না হয়, তখন মূল আইনের ভিত্তিতে যুক্তিভিত্তিক এবং বিচার-বুদ্ধিপ্রসূত নতুন সমস্যার সমাধান করাকে কিয়াস বলে। কিয়াসের চারটি রুকন বা ভিত্তি রয়েছে। এগুলোর আলোকে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হয়। এগুলো হলো- আছল (মূল), ফরয়া (শাখা), ইল্লত (যুক্তি, কারণ), এবং হুকুম (বিধান)।
উদ্দীপকে বর্ণিত লটারির মাধ্যমে টাকা উপার্জনকে মিজানের শিক্ষক নিষিদ্ধ বলেছেন। এটি কিয়াসপ্রসূত একটি সমাধান। কারণ পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, 'হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো' (সুরা মায়িদা: ৯০)। এখানে ভাগ্য নির্ধারক তীরকে কুরআনে যেমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে তেমনি হাদিসেও এটি হারাম বলে ঘোষিত। কিন্তু লটারি সম্পর্কে কুরআন-হাদিসে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। কারণ রাসুল (স)- এর সময়ে এর প্রচলন ছিল না। কিন্তু ভাগ্য নির্ধারক তীরের প্রচলন ছিল। আবার ভাগ্য নির্ধারক তীরের মতো লটারির মাধ্যমেও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। এ দুটির বৈশিষ্ট্য কার্যত অভিন্ন। এ উদাহরণে 'ভাগ্য নির্ধারক তীর' হচ্ছে- আছল, লটারি হচ্ছে ফরয়া। ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি হচ্ছে- ইল্লত এবং লটারির বিধান 'হারাম' হচ্ছে হুকুম। সুতরাং বলা যায়, মিজানের শিক্ষক কিয়াসের মাধ্যমে লটারিকে নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন যা যথার্থ হয়েছে।