1 Answers

লক্ষ্যা যেথা স্থির

নবম শ্রেণিতে স্কুলের সেরা ছাত্রী ছিল মিনু। লেখাপড়ায় তার দক্ষতার কথা গ্রামের সকলের জানা ছিল। মিনুর স্বপ্ন ছিল ঢাকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ, তারপর চাকরি করে পরিবারকে সাহায্য করা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে মিনুর স্বপ্ন ভেঙে পড়ে নবম শ্রেণি পাস করার পরই। মিনুর বাবা একজন রিক্সাচালক। তাদের পরিবার খুবই দরিদ্র। মিনুর বড় ভাইবোনরাও লেখাপড়া শেষ করে সংসারে জড়িয়ে পড়েছে। মিনুর মা মারা গেছেন অনেক আগেই। একদিন গ্রামের এক ধনী ব্যক্তির ছেলের সাথে মিনুর বিয়ের কথা ঠিক হয়। মিনু মনের ভেতরে কাঁদছিল। সে বিয়ের পর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাইছিল। কিন্তু তার বাবা রাজি হলেন না। বিয়ের দিন এলো। মিনুর মুখে কোন আনন্দ ছিল না। বিয়ের পর মিনু তার শ্বশুরবাড়িতে চলে গেল। সেখানে তার জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শাশুড়ি ও জা জিরিয়ে তাকে অমানুষিকভাবে মিনু তার স্বপ্ন ছেড়ে দিতে পারেনি। সে লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়তো। রাত জেগে লেখাপড়া করতো। একদিন তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মিনুকে বই পড়তে দেখে ফেলে। তারা মিনুকে মারধর করে ঘরে বন্দি করে ফেলে। কিন্তু মিনু হাল ছাড়েনি। সে বন্দি থেকে চিঠি পাঠিয়ে তার বান্ধবীকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করে। মিনুর বান্ধবী পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। পুলিশ এসে মিনুকে উদ্ধার করে। মিনু আদালতে মামলা করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন আদালতের লড়াইয়ের পর মিনু মামলায় জিতে যায়। মিনুকে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। মিনু ঢাকায় এসে উচ্চশিক্ষা লাভ করে। তারপর চাকরি নিয়ে পরিবারকে সাহায্য করে। মিনু তার জীবনের লড়াইয়ে জিতে প্রমাণ করে যে, মেয়েরাও ছেলেদের মতো স্বপ্ন দেখতে পারে এবং সেগুলো পুরণ করতে পারে। মিনুর গল্প গ্রামের সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারে যে, মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া কতটা জরুরি। মিনু তার লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকার জন্য আজ একজন আইকন।

5 views

Related Questions