1 Answers

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হলো কোনো দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার, অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার আধিক্য। যখন এই কর্মক্ষম জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি থাকে, তখন ওই দেশ ডেমোগ্রাফিক বোনাসকালে অবস্থান করছে বলে ধরা হয়। মনে করা হয়, এ জনসংখ্যা কোনো না কোনোভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এদেশের কর্মক্ষম জনশক্তি ১০ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। ২০৩০ সালে দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে। আর ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হবে। জনসংখ্যার ডিভিডেন্ড বা বোনাসকালের সুবাদে দেশে বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি সাত লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে পাঁচ কোটি ৮১ লাখ। সে হিসাবে বেকারের সংখ্যা ২০ লাখ। আর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে শ্রমশক্তির বাইরে রয়ে গেছে সোয়া চার কোটি মানুষ। মোট জনশক্তির বাকিটা ১০ বছরের নিচে শিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০১০ সালের শ্রমশি জরিপে দেশে কর্মক্ষম মানুষ ছিল পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ। সে হিসাবে তিন বছরে দেশে শ্রমশক্তি বেড়েছে ৪০ লাখ। আর ২০১১ সালের পঞ্চম আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৪১ লাখ ।

জনসংখ্যার এই আধিক্যের মধ্যেও বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো একটি রাষ্ট জনসংখ্যা পরিবর্তনে সুযোগ একবারই পেয়ে থাকে। এ সময়টাকে বলা হয় জনসংখ্যার ডিভিডেন্ড বা বোনাসকাল। অর্থাৎ সময়ে দেশের জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি থাকে ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যের লোক ১ থেকে ১৫ বছরের নিচে বয়সী জনসংখ্যাও কমতে থাকে। একই সঙ্গে ৬৪ বছরের ওপর জনসংখ্যা থাকে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশেও এখন সবচেয়ে কম নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। সর্বাধিক কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কাজের পরিবেশ তৈরি করাটা জরুরি। গত তিন বছরে দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের যুবসমাজের হার বেড়েছে। দেশে এখন দুই কোটি ৩৪ লাখ যুবক ক নিয়োজিত। ২০১০ সালের জরিপে ছিল দুই কোটি ৯ লাখ। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হলে সবার আগে দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। একই সঙ্গে কারিগরি ও শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

4 views

Related Questions