ইসলামী নাম
ইসলামী নামের অর্থ, শরীয়াগত দিক থেকে যে নাম রাখা সঙ্গত। যে নাম রাখা বিধানগত দিক থেকে সঙ্গত নয় তা অনৈসলামিক। নামের ইসলামিক-অনৈসলামিক এ সরল ব্যবধান সমাজে প্রচলিত নয়। সমাজের ধারণা হলো, নামটা আরবী ভাষার হলে ইসলামিক; অর্থ যাই হোক। আরবী ভাষার না হলে সেটা অনৈসলামিক; অর্থ যাই হোক। নাম প্রসঙ্গে সামাজিক এ ধারণা বিভ্রান্তিকর। বস্তুত নামের সাথে ইসলামিক অনৈসলামিক এ সংযোজনটাই অবাঞ্ছিত। ব্যক্তির ইসলামিক নাম হলে গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, জেলারও ইসলামিক নাম হওয়া চাই। শব্দটি আরবী হলেই কি তা ইসলামী হয়ে যায়? আরবী ভাষা কি ইসলামী ভাষা? অন্যান্য ভাষা কি তবে অনৈসলামিক? অর্থ বিবেচনা না করে আরবী শব্দ যোগে নামকরণ করা আদৌ উচিত নয়। মাহীন, গোলাম নবী, আব্দুল মুত্তালিব, খালেক, রায্যাক এ জাতীয় অসংখ্য আরবী ভাষার নাম সমাজে প্রচলিত আছে। অথচ এসব নামে নাম করণ বিধানগত দিক থেকে চরম আপত্তিকর। কুরআন হাদীসে থাকলেই সেটা ইসলামী বা বরকতপূর্ণ নাম হয় না। শয়তান, ফিরাউন, আবূ জাহেল, আবূ লাহাব-এগুলো কুরআন-হাদীসের শব্দ। তাই বলে কি এগুলো ইসলামী নাম? হাদীসে সুন্দর নাম রাখার কথা এসেছে। কুরআন-হাদীসের নামের কথা বলা হয়নি। শুধু আরবী নাম হলেই তা ইসলামিক হবে; অনারবী হলে অনৈসলামিক নাম হবে, ইসলামী শরীয়তে এমন কোনো সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়নি। পৃথিবীর সকল ভাষাই আল্লাহর সৃষ্টি। কুরআনের ভাষ্যমতে ভাষাবৈচিত্রও মহান আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত। উপরন্তু পূর্ববর্তী অধিকাংশ নবীদের নামই ছিল অনারবী। তবে কুরআন হাদীসের ভাষা হিসেবে সুন্দর অর্থবোধক আরবী নাম রাখা উত্তম। হাদীসের ভাষ্যমতে আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান জাতীয় নামগুলো আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। মুসলিম সন্তানদের এমন নাম রাখা চাই যাতে নামের মাঝেই মুসলিম পরিচয় ফুটে উঠে। এমন নাম রাখা সঙ্গত নয় যাতে ধর্মপরিচয় জিজ্ঞেস করে মুসলিম অমুসলিম নির্ণয় করতে হয়। আজকের সমাজে জাগতিক বিষয়ে নামী দামী অমুসলিম ব্যক্তিদের প্রতি অতিরিক্ত আদিখ্যেতা ও প্রেমবোধ থেকে তাদের নাম করণের হিড়িক দেখা যায়। প্রথমত এগুলোর অর্থের মাঝে সৌন্দর্য নেই; দ্বিতীয়ত এমন অনেক নাম রয়েছে যার অর্থ বের করা তো দূরের কথা সেটা কোন ভাষার শব্দ তাই খুঁজে বের করা দুষ্কর। তৃতীয়ত অমুসলিমদের সাথে অন্যায় কারণে ভালবাসার সম্বন্ধ সৃষ্টি করা এবং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা শরীয়াগত দিক থেকে চরম আপত্তিকর। হাদীসের ভাষ্যমতে যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায় বা ব্যক্তির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তার শ্রেণীভুক্ত গণ্য হবে। অর্থাৎ পরকালীন শাস্তির ক্ষেত্রেও এতদুভয়ের সাদৃশ্য অটুট থাকবে। সুতরাং নাম রাখার ক্ষেত্রে বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণের মনোভাব থাকলে তা আদৌ বৈধতার পর্যায়ে পড়বে না।
হৃদয় নাম কি ইসলামীক এই নামের অর্থ কি?
অনেকেদ ভাষ্যমতে হৃদয় নামটি ইসলামীক দৃষ্টিকোন থেকে মুসলিম নাম নয় এটা সত্যি কি?
9124 views
3 Answers
সারকথা আপনার নামটিকে ইসলামিক কিংবা অনৈসলামিক বলা যাচ্ছে না। আর আপনার নামের অর্থ হলো, মন, অন্তঃকরণ।
9124 views
Answered