গর্ভধারণের তিন মাসের আগেই বাচ্চা যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে উক্ত গোশতের টুকরাটি অপারেশনের মাধ্যমে বাহির করার পর যে রক্তটা বাহির হয় তা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে কিনা ❓ নাকি তা মিনসের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে ❓
দুর্ঘটনাবশত অসময়ে গর্ভপাত হলে বা ইচ্ছাকৃত অসময়ে গর্ভপাত ঘটানো হলে যদি গর্ভের বাচ্চা মানবাকৃতি ধারণ করে থাকে কোনো কোনো অঙ্গ-প্রতঙ্গ গঠন হয়ে যায় তাহলে গর্ভপাতের পর যে রক্ত বের হবে তা নেফাস বলে গণ্য হবে। যে কয়দিন রক্ত যাবে সে কয়দিনের নামাজ মাফ। এ অবস্থায় রমজানের রোজা রাখা যাবে না। পরে কাজা করতে হবে। যদি বাচ্চা মানবাকৃতি ধারণ না করে থাকে তাহলে বাচ্চা নষ্ট হওয়া বা গর্ভপাত ঘটানোর আগে যদি মহিলা অন্তত ১৫ দিন পবিত্র থেকে থাকেন (অর্থাৎ ১৫ দিন যাবত কোনো ধরনের স াব বা রক্ত বের না হয়ে থাকে) তাহলে বাচ্চা নষ্ট বা গর্ভপাত ঘটানোর পরের রক্ত হায়েজ ধর্তব্য হবে। তবে যদি ৩-১০ দিন রক্ত যায় তাহলে কেবল তা হায়েজ গণ্য হবে। এ সময়ের নামাজ মাফ, এ সময় রোজা রাখা নিষেধ। তবে পরে কাজা করতে হবে, অন্যথায় অর্থাৎ মানবাকৃতি ধারণ করেনি এমন গর্ভ নষ্ট হওয়ার আগে ১৫ দিন পবিত্র না থাকলে বা গর্ভ নষ্ট হওয়ার পর ৩ দিনের কম বা ১০ দিনের অধিক রক্ত গেলে তা রোগ (ইস্তিহাজা) গণ্য হবে। এ সময় রমজান মাস হলে রোজা রাখতে হবে। প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে। বিষয়টি খুবই জটিল তাই প্রয়োজনে বিজ্ঞ মুফতির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে নেওয়া উচিত। (তাতারখানিয়া, ১/৩৯৩-৯৪), আলমগীরি ১/৩৭)।
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যেহেতু বাচ্চার কোন আকৃতি প্রকাশ পায় না তাই প্রশ্ন উল্লেখিত পদ্ধতিতে গোশতের টুকরাটি বাহির করে ফেলায় পরবর্তীতে যে রক্ত আসবে সেটা নেফাস বলে গন্য হবে না।
তবে ব্যাখ্যা সাপেক্ষে তা হায়েজ বলে সাব্যস্ত করা হবে।
94 views