গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিকর খাবার
গর্ভবর্তী মায়েদের জন্য সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবার নিয়ে আজ আলোচনা করবো । পৃথিবীর সব খাবর এই কম বেশি পুষ্টি আছে । তবে, এর মধ্যে কিছু খাবার আছে যেটা আমাদের শরীরের জন্য খুবই জরুরি ।বিশেষ করে যারা গর্ভবতী তাদের জন্য একটু বাড়তি পুষ্টিযুক্ত খাবারের প্রয়োজন । কিন্তু , আমরা কি জানি কোন খাবার খেলে গর্ভঅবস্থায় শরীরে সঠিক পুষ্টি পাবে? বা কি খাবার খেলে গর্ভের বাচ্চা সুস্থ থাকবে ?
আসুন জেনে নেই গর্ভঅবস্থায় কি কি খাবার খাবেন ,আর কি কি খাবার খাবেন না ।
গর্ভঅবস্থায় যেসকল খাবার প্রতিদিন খাবার তালিকায় রাখবেন ?
রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল: গর্ভঅবস্থায় প্রতিদিন কিছু না কিছু রঙিন শাকসবজি খাবার তালিকায় রাখুন । কেননা, রঙিন শাকসবজি আপনার গর্ভঅবস্থায় জন্য খুবই জরুরি । কারন ,এই সময় আপনার একটু বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয় । এছাড়াও এই সময় আপনার দেহে কিছু হরমোন এর ক্রিয়া -বিক্রিয়া চলে । এবং আপনার গর্ভের বাচ্চাটি আপনার গ্রহণকৃত খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে থাকে । রঙিন শাক-সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন , ফল-সবজিতে লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, এলজিক এসিড সহ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। রঙিন জাতীয় কিছু ফলমূল ও শাকসবজি হলো ,যেমন, মিষ্টি লাউ, গাজর ,পালংশাক,লালশাক, পাতাকপি, টমেটো, ফুলকপি ,দেশিলাউসহ আরও অনেক সবজি। রঙিন জাতীয় কিছু ফল , তরমুজ,লাল আগুর ,কমলা, আপেল ,বেদেনা,সহ আরও অনেক রকম ফল । এই রঙিন জাতীয় ফল ও সবজি খেলে আপনার দেহ ও আপনার গর্ভের বাচ্চাটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে ।
কেন রঙিন শাক-সবজি ও ফলমূল খাবেন ?
প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য : মাছ,মাংস,ডিম,দুধ ,এই খাবারগুলো হলো প্রধান আমিষ জাতীয় খাদ্য । আমিষ জাতীয় খাদ্যকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় ,যথা, উদ্ভিদ আমিষ ও প্রানিজ আমিষ । মাছ,মাংস,ডিম,দুধ ,এগুলো হলো প্রানিজ আমিষ । আর উদ্ভিদ আমিষ হলো , ,ডাল, বাদাম, সয়াবিন, শিমের বিচি ইত্যাদি জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমান আমিষ । এই জাতীয় খাদ্য আপনার গর্ভ অবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ন । তাই গর্ভ অবস্থায় এই জাতীয় খাবার খাবেন ।
ক্যালসিয়াম জাতীয় খাদ্য :গর্ভঅবস্থায় ক্যালসিয়াম জাতীয় খাদ্য আপনার জন্য ও আপনার গর্ভের বাচ্চার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কেননা, এ সময় আপনার দেহে ক্যালসিয়মের ঘাটতি হয়ে থাকে ।তাই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে আপনার প্রয়োজন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার । যেমন, দুধ,ডিম, পনির, কচুশাক, বা কচুর লতি, ঢেরস, কাঁচা বাদাম, সয়াবিন, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, কালো ও সবুজ কচুশাক, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, সরিষাশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি, ডুমুর ইত্যাদি জাতীয় খাদ্যে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম ।
সুষমজাতীয় খাবার ঃ আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে সুষম খাদ্যের কোন বিকল্প নেই । কারন, একমাত্র সুষম খাদ্যের মধ্যেই রয়েছে ছয়টি উপাদান , যেমন আমিষ, শকর্রা,স্নেহ , ভিটামিন, খনিজ লবন ,ও পানি ।যেমন, মাছ,মাংস, ডিম,দুধ, সবজি, ডাল, আলু, গাজর ,পালংশাক, পুইশাক, এই সব ইত্যাদি খাবার এর মধ্যে সুষম এর প্রায় সবগুলো ভিটামিন পাওয়া যায় ।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে এমন খাবার ?
বিভিন্ন প্রকার বাদামের পুষ্টিগুন?
জীবনের জন্য কেন পানি?
আসুন জেনে নিই গর্ভঅস্থায় কি কি খাবার খাওয়া যাবে না ?
কাঁচা বা আধাপাকাঁ পেপে :গর্ভঅবস্থায় কাঁচা বা আধা পাঁকা পেপে কখনোই খাবেন না । এতে আপনার গর্ভপাত হওয়ার সম্ভবনা থাকে । তাই এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন ।
অর্ধসিদ্ধ ডিম :এ সময় অর্ধসিদ্ধ সব ধরনের ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন । কারন, অর্ধসিদ্ধ ডিম খেলে আপনার গর্ভের সন্তানের ক্ষতির সম্ভবনা বেশি ।
চা,কপি,বা অ্যালকোহল জাতীয় খাবার : চা,কপি, থেকে সম্পূর্ন বিরত থাকুন । চা,ও কপি জাতীয় খাবারে ক্অ্যাযলকোহল জাতীয় খাবার যেমন, স্পিট, সেভন আপসহ তরল জাতীয় ঠান্ডা খাবার খাবেন না ।
কৃমি নাশক ট্যাবলেট:গর্ভঅবস্থায় ভুলেও কখনো কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাবেন না । এতে আপনার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে ।