একজন ইমামের নিয়ত না করে একাকি নামাজে দাড়িয়েছে৷ পরবর্তীতে কোন মুক্তাদি নামাজে শরিক হলে জামায়াতে নামাজ আদায় হবে কি না?

1622 views

1 Answers

হ্যাঁ! জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। 

তবে এর জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো অবশ্যই পাওয়া যেতে হবে। 

১/ নামাজী ব্যক্তি যেই নামাজ পড়ছে তার পেছনে ইক্তেদার নিয়ত করে দাঁড়ানো মুক্তাদীকেও সেই একই নামাজ পড়তে হবে। অর্থাৎ নামাজী ব্যক্তি ফরজ নামাজ পড়তে থাকলে মুক্তাদীরও ফরজ নামাজ পড়তে হবে। নামাজী ব্যক্তি সুন্নত নামাজের নিয়ত করে থাকলে মুক্তাদীরও সুন্নত নামাজের নিয়ত করতে হবে। নামাজী ব্যক্তি ওয়াজিব নামাযের নিয়্যাত করে থাকলে মুক্তাদীরও ওয়াজিব নামাযের নিয়্যাত করতে হবে। নামাজী ব্যক্তি নফল নামাজের নিয়ত করে থাকলে মুক্তাদীরও নফল নামাজের নিয়ত করতে হবে। 

সুতরাং ফরজ নামাজ পড়নেওয়ালা নামাজী ব্যত্তির পেছনে সুন্নত, ওয়াজিব নামাযের নিয়ত করলে মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হবে না। তবে নফল নামাজের নিয়ত করে থাকলে মুক্তাদীর নফল আদায় হয়ে যাবে। তদ্রুপ সুন্নত, ওয়াজিব বা নফল নামাজ পড়নেওয়ালার পেছনে ফরজ নামাজের নিয়ত করে কেউ ইক্তেদা করলে সেই মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হবে না। 

২/ ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত ঠিক থাকতে হবে। অর্থাৎ নামাজী ব্যক্তি যদি ফজরের নামাজের ফরজ নামাজ পড়তে থাকেন তবে তার পেছনে বিগত দিনের ফজরের নামাজের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ত করে দাঁড়ালে ওই মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হবে না। আবার কেউ যদি বিগত দিনের ফরজ নামাজের কাযা নামায আদায় করতে থাকে  তবে তার পেছনে বর্তমান সময়ের ফজরের নামাজের ফরজ নামাজ আদায় হবে না। এমনিভাবেই সব নামাজের হুকুমগুলো ধর্তব্য হবে। একইভাবে জোহরের নামাজ আদায়কারীর পেছনে আসরের বা এশার নামাজের নিয়তকারী ব্যক্তির, মাগরিবের নামাজ আদায়কারীর পেছনে বেতেরের নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির, বা বেতেরের নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির পেছনে মাগরিবের নামাজ আদায়কারীর নামাজ, মাগরিবের  নামাজের আদায়কারীর পেছনে এশার নামাজের নিয়তকারী ব্যক্তির নামাজ, এশার নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির পেছনে জোহর বা আসরের নামাজের নিয়তকারী ব্যক্তির নামাজ আদায় হবে না। 

৩/ আদা নামাজ ও কাযা নামাজ ঠিক থাকতে হবে। আদা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির পেছনে কাযা নামাজ আদায়কারীর নামাজ আদায় হবে না। আবার কাযা নামাজ আদায়কারীর পেছনে আদা নামাজ আদায়কারীর নামাজ আদায় হবে না। 

৪/ উপরোক্ত ৩টি শর্ত পাওয়া যাওয়ার পর এখন চতুর্থ শর্ত অবশ্যই পাওয়া যেতে হবে। যদি উপরোক্ত তিনটি শর্তই পাওয়া গেলো, কিন্তু চতুর্থ শর্তটি পাওয়া যায় নি, তবে এক্ষেত্রে মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হবে না। এই চতুর্থ শর্তটি হলো - ইমামতির নিয়ত করা। অর্থাৎ নামাজী ব্যক্তি যখন বুঝতে পারবে বা খেয়াল করবে যে, তার পেছনে একজন বা একাধিক ব্যক্তি এসে ইক্তেদা করেছে তখন সে সাথেসাথে ইমামতির নিয়ত করে নিবে। যদিও সে নামাজের একেবারে শেষপ্রান্তেই থাকুক না কেন। সুতরাং নামাজী ব্যক্তি যদি ইমামতির নিয়ত করে তবে তাঁর পেছনে শরীক হওয়া এক বা একাধিক মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হয়ে যাবে। আর যদি নামাজী ব্যক্তি তার পেছনে ইক্তেদা করা মুক্তাদী টের পেয়েও ইমামতির নিয়ত না করে থেকে থাকে তবে উপরোক্ত ৩টি শর্ত পাওয়া যাওয়া সত্ত্বেও মুক্তাদীর নামাজ সহীহ হবে না। 


বিঃদ্রঃ- 

১/ আদা নামাজ - যেই নামাজ তার সময়মত ওয়াক্ত থাকাকালীন আদায় করা হয় তাকে আদা নামাজ বলে। 

২/ কাযা নামাজ - যেই নামাজ ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর পড়া হয় তাকে কাযা নামাজ বলে।  

1622 views

Related Questions