1 Answers

শুভংকরের ফাঁকি বাংলা ভাষায় একটা কমন ফ্রেইজ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কথিত আছে ভারতবর্ষে শুভংকর নামে এক ব্যাক্তি তৎকালিন সময়ে অংকের এমন কিছু নিয়ম বের করেছিলেন যেগুলোতে গোজামিল দিয়ে ভরা আর সেই থেকে গোজামিলপুর্ণ বিভ্রান্তিকর নয়-ছয় গলদ জাতীয় কোন কিছুকেই শুভংকরে ফাঁকি হিসাবে বলা হয়। এই শব্দগুচ্ছের উৎপত্তির পেছনে আছেন গণিতবিদ শুভঙ্কর। অবশ্য শুরুতেই তারনাম শুভঙ্কর ছিল না। গণিতশাস্ত্র এক সময় সংস্কৃত ভাষায় লেখা হতো যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য গণিতশাস্ত্র পড়া কঠিনব্যাপার ছিল। তখন ভৃগুরাম দাস নামে এক গণিতবিদ সহজ পদাবলির (কবিতা বা ছন্দ) মাধ্যমে গণিতকে প্রকাশ করা শুরু করেন। লোকজনের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় তার এই গণিত বিষয়ক সহজ পদাবলি। লোকের কাছে এই পদাবলিগুলোকে মনে হতে থাকে শুভকর অর্থাৎ উপকারী। শুভকর থেকে ভৃগুরাম দাসের নাম হয় শুভঙ্কর। শুভঙ্কর গণিতকে যেভাবে কবিতার মতো করে তুলে ধরতেন, শিক্ষার্থীদের কাছে তা মনে হতো কবিতা। এই বিষয়টিই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ নামে পরিচিতি পায়। শুরুতে বিষয়টির সঙ্গে ইতিবাচক বিষয় জড়িত ছিল, কঠিন গণিতকে সহজ করে তুলে ধরার ব্যাপার ছিল। কিন্তু কালক্রমে ব্যবহারে ব্যবহারে এই শব্দগুচ্ছের অর্থ পাল্টে যেতে থাকে। এখন নেতিবাচক অর্থেই এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। শব্দের ব্যবহার নেতিবাচক অর্থে হওয়ার পেছনে বোধ হয় ‘ফাঁকি’ শব্দটির ভূমিকা হয়েছে। ফাঁকি মানে প্রতারণা বা ছলনা। এই হল শুভংকরের ফাকি এর ইতিকথা।

6929 views

Related Questions