1 Answers

জরায়ুতে নির্দিষ্ট জায়গায় না গেঁথে ভ্রূণ যদি অন্যত্র স্থাপিত হয় তাকে বলে একটোপিক প্রেগনেন্সি। প্রায় ক্ষেত্রে এই বিপজ্জনক ব্যাপারটা ঘটে ডিম্বনালিতে। ডিম্বকোষ, জরায়ুমুখ অথবা আভিক্স এমনকি পেটের ভিতরেও একটোপিক প্রেগনেন্সি হতে পারে। প্রতি ২০০ জনের মধ্যে অন্তত একজনের একটোপিক প্রগনেন্সি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটা আগে থেকে বোঝা যায় না। তাই সতর্কতা দরকার। কারণ যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত ক্ষরণের আশঙ্কা থাকে। সেই সময় সতর্কতা না নিলে মায়েরও মৃত্যুঝুঁকি থাকে। আল্টাসনোগ্রাফি করলেই ঠিক কোথায় একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়েছে তা ধরা পড়ে। রোগীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে একটোপিক প্রেগনেন্সিতে কেন এমন হচ্ছে? কারণঃ ওভারি থেকে ডিম্বাণু  রিলিজ হওয়া মাত্রই এটা লুফে নেয় ফ্যালোপিয়ন টিউব। এখানেই ডিম্বাণু মিলিত হয় স্পার্মের সঙ্গে। যে ভ্রূণ তৈরি হয় তার নির্দিষ্ট গতিপথ টিউব থেকে ইউটেরাসের ভেতরে। পূর্ববর্তী সার্জারির কারণে অনেক মহিলার ফ্যালোপিয়ন টিউবে ত্রুটি থাকে। অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা ওভারিয়ন সিস্টেকটমি অপারেশনের পর এই ত্রুটিটা বেশি হয়। সাবধান হওয়া উচিত, যদি কারও পূর্ববর্তী কোনো একটোপিক প্রেগনেন্সির কোনো ঘটনা থাকে। ঝুঁকি বাড়ে ১০ থেকে ২০% পেলভিক ইনফেকশন। পেট বা পেলভিসে সার্জারি একটোপিকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়াও দেখা গেছে, ইন্ট্রা-ইউটেরাইন কন্ট্রাসেপটিভ ঝুঁকি বাড়াতে পারে ৷ লক্ষণঃ পজিটিভ প্রেগনেন্সি টেস্ট, হালকা ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং, ব্লিডিং শুরু হওয়ার আগে তলপেটে মৃদু ব্যথা হয়। ধীরে ধীরে ব্যথার তীব্রতা বাড়ে। প্রাথমিক এ সব উপসর্গ কমে গিয়ে কয়েকদিন পরে আবার শুরু হতে পারে। ইন্টারনাল ব্লিডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কাঁধের ডগা অবধি ব্যথা বাড়তে পারে। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। রোগীর চোখ-মুখ ফ্যাকাসে হয়ে প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করে। রোগীর ব্লাড প্রেসার কমে যায় এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ল্যাপারোস্কপিতে সরাসরি বোঝা যায় এবং ডিএন্ডসি করা হলে জরায়ুর মধ্যে ভ্রুণের অনুপস্থিতর প্রমাণ পাওয়া যায়। চিকিৎসাঃ সার্জারি ব্যতীত একটোপিক প্রেগনেন্সি চিকিৎসার অন্য কোনো উপায় নেই। কখনো ভ্রূণসহ টিউব বাদ দিতে হয়, না হলে শুধু সাইট থেকে একটোপিক প্রেগনেন্সিটা বের করে নিতে হয়। ল্যাপারোস্কপির সাহায্যে সহজেই ঠিক করে নেওয়া যায়। এতে সম্ভব না হলে ওপেন সার্জারি করা হয়।

6733 views Answered

Next steps