1 Answers
ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়সমূহঃ ধূমপান আর নয়- ধূমপান শুধু যে ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ তা নয়, এটি খাদ্যনালী স্বরযন্ত্র মুখ-গহ্বর গলা কিডনি মূত্রথলি অগ্ন্যাশয় পাকস্থলী এমনকি জরায়ুমুখের ক্যান্সার-ঝুঁকিও বাড়ায়। আমেরিকান ক্যান্সার-বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সার হতে পারে তার ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ওজন থাকুক নিয়ন্ত্রণে- মেদস্থূল আছেন যারা, সচেতন হোন এখনই। অতিরিক্ত ওজন নীরবে আপনার খাদ্যনালী গলব্লাডার লিভার অন্ত্র লসিকাগ্রন্থি ও ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে। এ-ছাড়াও মেনোপজের পর বাড়তি ও অতিরিক্ত ওজন জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মেদস্থূলতা প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ঠিক কোন ধরনের খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে-এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন সেই চিরাচরিত সহজ উত্তরটিই। তাহলো, সবরকম ফলমূল ও শাক-সব্জির সমন্বয়ে একটি প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রচুর পরিমাণ আঁশ-জাতীয় খাবার থাকুক আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। প্রক্রিয়াজাত শস্যদানার বদলে পূর্ণ শস্যদানা খান। এড়িয়ে চলুন লাল মাংস (গরু মহিষ খাসি ভেড়া)। প্রক্রিয়াজাত মাংস তো একেবারেই নয়। আর অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার থাকুক শত হস্ত দূরে। এমন খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে রাখবে নিশ্চিত ভূমিকা। রান্না করুন অল্প আঁচে- সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। কারণ, উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস ইত্যাদি অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে খাবারে দুটি রাসায়নিক উপাদান (এইচসিএ ও পিএএইচ) সৃষ্টি হয় এবং মনে করা হচ্ছে যে, এগুলো ক্যান্সারের কারণ। গবেষকরা বলেন, এর পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও বার-বি-কিউ করা মাংস এবং এ জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তারা অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। এলকোহল সমাধান নয় পরিমিত এলকোহল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-এ আশায় (নাকি অজুহাতে?) অনেকেই দিব্যি এলকোহল পান চালিয়ে যান বটে; কিন্তু চিকিৎসকদের বক্তব্যটা এবার তাদের প্রতি সরাসরিই-‘সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি ও সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেই যখন আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন, এলকোহলের কোনো প্রয়োজন সেখানে আদৌ নেই। ‘উপরন্তু, এলকোহল খাদ্যনালী মুখগহ্বর গলা স্বরযন্ত্র লিভার ও স্তন ক্যান্সার এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়। ব্যায়াম হোক নিত্যদিনের করণীয় ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কারণ, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন-দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সুস্থ জীবনাচারী। এ-ছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষবৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে স্বাভাবিক। সেইসঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সংহত ও অটুট। শুধু তা-ই নয়, ক্যান্সার রোগীদের বিশেষত অন্ত্রের ক্যান্সারে ভুগছেন যারা, নিয়মিত ব্যায়ামে তাদের নিরাময় প্রক্রিয়া ও ভালো থাকার হারও তুলনামূলক সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ-ছাড়াও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের ভূমিকা নিয়ে যতগুলো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে তার প্রায় সবকটিতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ফুসফুস, প্রোস্টেট ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধের বেলায়ও এটি সত্য। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবমুক্ত থাকুন, যতটা সম্ভব- দেহাভ্যন্তরে কোনো টিউমার সন্দেহে কিংবা অন্যান্য রোগের বেলায়ও এখন ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে সিটি স্ক্যান। কিন্তু চিকিৎসক ও রোগী-সবারই জানা জরুরি যে, একবার সিটি স্ক্যান করতে গিয়েই আপনাকে বেশ ভালোরকম তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হতে হয়, যা আপনার ক্যান্সার-ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষকরা বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্যে সম্ভব হলে তেজস্ক্রিয়তামুক্ত পদ্ধতি যেমন : আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই এসব পদ্ধতি বেছে নেয়াই নিরাপদ। পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন সিটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতিগুলো। আর যদি তা করতেই হয়, তবে এর সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে লাভের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারপর করুন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy