শেয়ার করুন বন্ধুর সাথে

একজন স্ত্র্রী যখন ইচ্ছা তখন স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না। মুসলিম আইনে স্বামীকে তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রী সীমিত অধিকার ভোগ করেন। নিম্নলিখিত যে কোন উপায়ে একজন স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন (১) তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে (২) খুলার মাধ্যমে (৩) মোবারাতের মাধ্যমে (৪) আদালতে আবেদনের মাধ্যমে (১) তালাক-ই-তৌফিজ : স্বামী যদি স্ত্রীকে বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষমতা দেয় তবে তাকে তালাক-ই-তৌফিজ বলে। এ ক্ষমতা থাকলে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্বামীর মতোই স্ত্রী তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান এর কাছে পাঠাবেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে। নিকাহনামা বা কাবিন নামার ১৮ নং কলামে স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করছে কি না? করে থাকলে কী শর্তে? এই প্রশ্নটি থাকে। স্বামীর একতরফা ক্ষমতার কারণে স্ত্রীকে বহু নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সাথে থাকতে হয়। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত শর্তগুলো (যেমন, নির্যাতন, নিরুদ্দেশ) না থাকলে এবং হুলার মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ না পেলে একটি মেয়ের পক্ষে বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। সেক্ষেত্রে স্ত্রী অপেক্ষাকৃত কম জটিলতায় তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারেন। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। কাবিননামার ১৮ নং ঘরটি এজন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পূরণ করা উচিত। অনেক সময় কাজীরা এ প্রশ্ন করেন না এবং ঘরটি শূন্য থাকে। কাজীদের অবশ্যই দুপক্ষকে দিয়ে ঘরটি সম্পর্কে জানানো উচিত। (২) খুলা বিচ্ছেদ কাকে বলে: খুলা তালাক হলো স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর দাম্পত্য অধিকার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রস্তাব। এক্ষেত্রে স্ত্রী কোন কিছুর বিনিময়ে স্বামীকে তালাক দিতে রাজী করানোর চেষ্টা করে থাকেন। স্ত্রী অর্থ বা সম্পত্তির বিনিময়ে অথবা মোহরানা বা মোহরানার অংশ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে রাজী করানোর চেষ্টা করতে পারেন। (৩) মোবারাত: খুলার মত মুবারাতও এক ধরণের চুক্তি-ভিত্তিক বিবাহবিচ্ছেদ। স্বামী - স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে বিচ্ছেদ হলে তাকে মুবারাত বলে। যখন স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদের ইচ্ছাটি পারস্পরিক হয় তখন একপক্ষ প্রস্তাব করে এবং চুক্তির মাধ্যমে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। যিনি বিয়ে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিবে তিনিই নোটিশ পাঠাবেন। (৪) আদালতে আবেদন করার মাধ্যমে তালাক: ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীনে স্ত্রী নিম্নোক্ত ৯টি কারণের যে কোনো এক বা একাধিকের ভিত্তিতে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। (১) স্বামী ৪ বছরের অধিক সময় নিরুদ্দেশ থাকলে; (২) দুই বছর যাবৎ স্ত্রীর ভরপোষ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে; (৩) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিয়ে করলে; (৪) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে; (৫) কোনো যুক্তি-সঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তাঁর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে; (৬) স্বামী বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করার সময় পর্যন্ত বজায় থাকলে; (৭) স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্মক যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে; (৮) নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্ব লাভের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হবার পর স্ত্রীর বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এরকম মামলা দায়ের করা যাবে না) (৯) স্ত্রীর সাথে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে; যেমন- (ক) স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করলে। (খ) স্বামীর কোন অবৈধ সম্পর্ক থাকলে। (গ) স্ত্রীকে নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপনের জন্য বাধ্য করা। (ঘ) স্ত্রীর অমতে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির ওপর বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা দিলে। (ঙ) স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া। (চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে পবিত্র কোরানের নির্দেশে তাদের সাথে সমান ব্যবহার না করা। তবে উপরোক্ত কারণগুলির ভিত্তিতে মামলা দায়ের করতে হলে স্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকতে হবে।

ভিডিও কলে ডাক্তারের পরামর্শ পেতে Play Store থেকে ডাউনলোড করুন Bissoy অ্যাপ