1 Answers
বাঙালি জাতি সম্পর্কে নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি মিশ্রিত বা শংকর জাতি। শংকর জাতি কি বুঝতে আগে বুঝতে হবে শংকর ধাতু কাকে বলে? যে ধাতু একাধিক আলাদা আলাদা ধাতুর মিশ্রনে গঠিত তাই শংকর ধাতু। যদি তাই হয় , তাহলে শংকর জাতি কাকে বলে? যে জাতি একাধিক জাতির সংমিশ্রনে গঠিত তাই শংকর জাতি। একাধিক জাতির সংমিশ্রন আবার কি? কিভাবে ঘটে এ মিশ্রন? মিশ্রন ঘটে এক জটিল মিথস্ক্রিয়ায়। ভিন্ন ভিন্ন জাতির ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈবাহিক বা শারীরিক সম্পর্কের কারনে জন্ম নেয়া সন্তান , এক জাতির মেজাজ , গায়ের রং , চুলের রং , খাদ্যাভ্যাস , শারিরীক শক্তিমত্তা এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা ইত্যাদি যখন বিশেষ জৈবিক ক্রিয়ায় মিথস্ক্রিত হয় তখনি জন্ম নেয় নুতন এক জাতি , যার নাম শংকর জাতি। আর পৃথিবীতে একটি মাত্র জাতি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত , অর্থাৎ আমরা। বাঙ্গালী জাতিই পৃথিবীর একমাত্র শংকর জাতি।তবে শংকর ধাতু কিন্তু ধাতু হিসেবে সাধারনত উন্নতমানের হয় কিন্তু শংকর জাতি হয় ঠিক তার উল্টা। আমরা শংকর জাতি বলেই কখনই ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না , একমত হতে পারি না। আমরা যেহেতু শংকর তাই একই পরিবারেই একাধিক সন্তান থাকলে , এক ভাই হয় কালো তো আরেক ভাই ফর্সা , এক বোন বেটে তো আরেক বোন লম্বা।এই যে শারীরিক বৈচিত্র , এটা আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্টের ধারকও বটে। আমাদের জাতীয় বুদ্ধিমত্তা , জাতীয় চরিত্র এবং জাতীয় মেজাজ ইত্যাদি সবসময়ই অব্যবস্থিত। নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, এটি একটি মিশ্রিত জাতি এবং এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিতম মানবগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর বহু জাতি বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে, অনেকে আবার বেরিয়েও গেছে, তবে পেছনে রেখে গেছে তাদের আগমনের অকাট্য প্রমাণ। বৃহত্তর বাঙালির রক্তে মিশ্রিত আছে বহু এবং বিচিত্র সব নরগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। দীর্ঘকাল বিভিন্ন জন ও কোমে বিভক্ত হয়ে এ আদি মানুষেরা বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছে, এবং একে অপরের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে শতকের পর শতকব্যাপী। জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার আগমন ঘটেছে বাংলায়। নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়। মনে করা হয় যে, বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদি অষ্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই আদি জনগোষ্ঠীগুলি দ্বারা নির্মিত সমাজ ও সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে আর্যদের আগমনের পর। বাংলাদেশের জনপ্রবাহে মঙ্গোলীয় রক্তেরও পরিচয় পাওয়া যায়। বাঙালির রক্তে নতুন করে মিশ্রন ঘটল পারস্য-তুর্কিস্তানের শক জাতির আগমনের ফলে। বাঙালি রক্তে বিদেশি মিশ্রন প্রক্রিয়া ঐতিহাসিককালেও সুস্পষ্ট। ঐতিহাসিকযুগে আমরা দেখি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এবং ভারতের বাহির থেকে আসা বিভিন্ন অভিযাত্রী নরগোষ্ঠী বাঙালি জাতি নির্মাণে অবদান রাখতে। গুপ্ত, সেন, বর্মণ, কম্বেজাখ্য, খড়গ, তুর্কি, আফগান, মুগল, পুর্তুগিজ, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহিরাগত জাতি শাসন করেছে বঙ্গ অঞ্চল এবং রেখে গেছে তাদের রক্তের ধারা। এমনকি পাকিস্তান যুগেও আমরা দেখি রক্ত মিশ্রণে চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এ শংকরত্ব আরো বেগবান হচ্ছে। তাই এক কথায় বলা যায় বাঙালি একটি শংকর জাতি। আর পৃথিবীর একমাত্র শংকর জাতি হল বাঙালি জাতি ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy