1 Answers

আল কুরআনের কয়েকটি মৌলিক নাম : কয়েকটি মৌলিক নাম ও উল্লেখিত আয়াত নিম্নে উল্লেখ করা হলো- ১. আল কুরআন ২. আল কিতাব : ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাজিল করেছি, যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে, তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?’(সুরা আল আম্বিয়া: ১০)। [এ আয়াতে জিকর শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে: একটি উপদেশ আর অপরটি সম্মান ও মর্যাদা। অর্থাৎ যে এ কুরআন শিক্ষা করে এবং তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, সে-ই মর্যাদা ও সম্মানের পবিত্র কুরআনের অধিকারী হবে।] ৩. আল ফুরকান : ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি বরকতময় যিনি তার বান্দার ওপর ফুরকান নাজিল করেছেন যেন সে জগতবাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে’। (সূরা আল ফুরকান: ১)। ৪. আজ-জিকর: ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাজিল করেছি, আর আমিই তার হেফাজতকারী’। (সূরা আল হিজর:৯)। ৫. আত-তানজিল : ইরশাদ হয়েছে, ‘আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাজিলকৃত’। (সূরা আশ-শুআরা:১৯২)। তবে এসব নামের মধ্যে ‘আল-কুরআন’ ও ‘আল কিতাব’ই সমধিক ব্যবহৃত। আল কুরআনের কিছু গুণবাচক নাম : আল্লাহতায়ালা আল কুরআনের বেশ কিছু গুণবাচক নাম উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো নিম্নরূপ- ১. আন-নুর বা আলো : ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তোমরা ইমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসুলের প্রতি এবং এ যে আলো আমি অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি’ । (সুরা: আততাগাবুন)। ২. আল-হাদি বা দিকনির্দেশনা, রহমত বা দয়া-করুণা, শিফা বা আরোগ্য, মাওইজা বা উপদেশ ইত্যাদি। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সুরা ইউনুস: আয়াত-৫৭)। এছাড়া আরো রয়েছে, ৩. মুবারক বা বরকতপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এটি একটি কিতাব, আমি তা নাজিল করেছি, বরকতময়’। (সূরা আল আনআম:৯২)। ৪. মুবিন বা স্পষ্টকারী। ইরশাদ হয়েছে, ‘তা-সীন; এগুলো আল-কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত’। (সূরা আন- নামল:১)। ৫. বুশরা বা সুসংবাদ। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ’। (সুরা আন-নামল)। ৬. আজিজ বা সম্মানিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চিয়ই যারা উপদেশ [কুরআন] আসার পরও তা অস্বীকার করে [তাদের অবশ্যই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে]। আর এটি নিশ্চয়ই এক সম্মানিত গ্রন্থ’। (সুরা: ফুসসিলাত, আয়াত-৪১)। ৭. মাজিদ বা মর্যাদাপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘কাফ; মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের কসম’। (সূরা ক্বাফ)। ৮. নাজির বা সুসংবাদদাতা ও বাশির বা ভয় প্রদর্শনকারী। ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো জ্ঞানী কওমের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কোরআনরূপে আরবি ভাষায়। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অতএব তারা শুনবে না’। (সুরা: ফুসসিলাত, আয়াত-৩-৪)। ৯. কারিম বা মহিমান্বিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন’। (সুরা: আল ওয়াকিয়া, আয়াত-৭৭)। ১০. আল হাকিম বা প্রজ্ঞাপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আলিফ-লাম- রা। এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত’। (সুরা: ইউনুস, আয়াত:১)। আল কুরআনের বহু নামের হিকমত বা যৌক্তিকতা : এক গ্রন্থের এত নাম কেন, এর কারণ উল্লেখ করে ফায়রোজ আবাদি বলেন, ‘অধিক নাম, বিশেষ্যের মর্যাদা ও কোনো বিষয়ে তার পূর্ণতাকে বোঝায়। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে, সিংহের বহু নাম তার পূর্ণ শক্তিমত্তাকে নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে কিয়ামতের বহু নাম থাকা প্রচণ্ডতা ও কাঠিন্যে তার পূর্ণতাকে বুঝায়। চতুর ব্যক্তির বহু নাম থাকা তার চাতুর্যকে বোঝায়। তদ্রুপ আল্লাহ তায়ালার অনেক নাম থাকা তাঁর পরিপূর্ণ আজমত ও বড়ত্বকে বুঝায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিক নাম থাকা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও অবস্থানকে নির্দেশ করে। একইভাবে আল কুরআনের বহু নাম থাকা তার মর্যাদা ও ফজিলতকে নির্দেশ করে।’ (ফায়রোজ আবাদি, বাসাইরু জাবিত তাময়িজ, ১/৮৮) য়েছে, ‘কাফ; মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের কসম’। (সূরা ক্বাফ)। ৮. নাজির বা সুসংবাদদাতা ও বাশির বা ভয় প্রদর্শনকারী। ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো জ্ঞানী কওমের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কোরআনরূপে আরবি ভাষায়। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অতএব তারা শুনবে না’। (সুরা: ফুসসিলাত, আয়াত-৩-৪)। ৯. কারিম বা মহিমান্বিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন’। (সুরা: আল ওয়াকিয়া, আয়াত-৭৭)। ১০. আল হাকিম বা প্রজ্ঞাপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আলিফ-লাম- রা। এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত’। (সুরা: ইউনুস, আয়াত:১)। আল কুরআনের বহু নামের হিকমত বা যৌক্তিকতা : এক গ্রন্থের এত নাম কেন, এর কারণ উল্লেখ করে ফায়রোজ আবাদি বলেন, ‘অধিক নাম, বিশেষ্যের মর্যাদা ও কোনো বিষয়ে তার পূর্ণতাকে বোঝায়। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে, সিংহের বহু নাম তার পূর্ণ শক্তিমত্তাকে নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে কিয়ামতের বহু নাম থাকা প্রচণ্ডতা ও কাঠিন্যে তার পূর্ণতাকে বুঝায়। চতুর ব্যক্তির বহু নাম থাকা তার চাতুর্যকে বোঝায়। তদ্রুপ আল্লাহ তায়ালার অনেক নাম থাকা তাঁর পরিপূর্ণ আজমত ও বড়ত্বকে বুঝায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিক নাম থাকা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও অবস্থানকে নির্দেশ করে। একইভাবে আল কুরআনের বহু নাম থাকা তার মর্যাদা ও ফজিলতকে নির্দেশ করে।’ (ফায়রোজ আবাদি, বাসাইরু জাবিত তাময়িজ, ১/৮৮)

6993 views