1 Answers
পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। মুসলমানদের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। জানা যায়, এ রাতে সিদরাতুল মুনতাহায় অবস্থিত অগণিত ফেরেশতাসহ হজরত জিবরাইল (আ.) দুনিয়ায় অবতীর্ণ হন এবং ফেরেশতারা দুনিয়ার সমস্ত অংশে ছড়িয়ে পড়েন। প্রত্যেক স্থানে স্থানে রুকু–সিজদা করেন। মুমিন নর–নারীর জন্য দোয়ায় মশগুল হন। পবিত্র এই রজনীতে মহান রাব্বুল আলামীন অসংখ্য গুনাহগারকে মাফ করেন, তওবা কবুল হয়। সেইসাথে বরকতময় এই রাতে মাতাপিতা ও আত্মীয় স্বজনের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে কবর জিয়ারত বা তাদের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ পাক কবুল করেন। লাইলাতুল কদরের ফজিলত পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু নফল ইবাদত করা, নফল নামাজ আদায় করা। কোরআন তেলাওয়াত করা, তাছবীহ তাহলীল পাঠ করা কর্তব্য। উত্তম হলো নফল নামাজ ধীরে সুস্থে লম্বা লম্বা ক্বেরাত দিয়ে পড়া এবং ধীর স্থিরে রুকু সিজদা আদায় করা। কদরের রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। এ রাতে নবী করীম (সা.) ক্ষমা চাওয়ার দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, ক্ষমা পাওয়ার জন্য দোয়া করো। হাদীস শরীফে আছে, হযরত আয়েশা (রা.) নবী করীম (সা.) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! যদি আমি বুঝতে পারি শবে কদর কোন রাত, তাহলে ঐ রাতে আমি কি বলব? আল্লাহর কাছে কি চাইব? নবী করীম (সা.) তদুত্তরে বলেন, তুমি বলবে, হে আল্লাহ আপনি বড়ই ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে আপনি ভালবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের কল্যাণ লাভ করার তউফিক দিন। সেইসাথে কোরআন পড়ার, কোরআন বোঝার এবং কোরআন মতো জীবন গড়ার তওফিক দান করুক।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy