1 Answers

মানব সভ্যতার ইতিহাসে যে ক’টি দেশের মানুষ তাদের উজ্জ্বল অতীতের জন্য ঈর্ষণীয় গৌরবের অধীকারী গ্রিকরা তাদের অন্যতম । গ্রিক নামটি রোমানদের দেয়া। গ্রিসে জন্ম নিয়েছেন তাদের মধ্যে মহাকবি হোমার, জ্ঞানতাপস সক্রেটিস, স্থাপত্য-ভাস্কর্যের অবিস্মরণীয় দিকপাল ইকটিনাস ও ফিডিয়াস, রাজনীতি মঞ্চের অপ্রতিদ্বন্ধী কৌশলী থেমিস, টকলস, এরিস্টাইডিস ও পেরিক্লিস, সাহিত্যের অনির্বাণ জ্যোতিষ্ক সফোক্লিস, এরিস্টোফেলেস, ইউরিপাইডিস, দর্শনের শিখাগ্নী প্লেটো ও এরিস্টটল, ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস, থুকিডিডিস প্রমুখ মনীষীর আবির্ভাব এই গ্রিক সভ্যতায়। শিল্প, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্য প্রতিটি ক্ষেত্রে এর অবদান বিশ্ব সভ্যতায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। এ সভ্যতার বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে আকিয়ানসহ দোরিয়ান ও আয়োনিয়ানদের অবদান অনস্বীকার্য। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সাল নাগাদ তারা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে গ্রিসে প্রবেশ করতে শুরু করে। খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১১৩০ অব্দ সময়সীমার মধ্যে মিকোনাই, টিরিনস ও পিলস অঞ্চল বিকশিত হয় এক অগ্রসরমান ব্রোঞ্জ সভ্যতায়। গ্রীস সে সময় ছোট বড় কতগুলো স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। গ্রীক সভ্যতা ও সংস্কৃতি অবিচ্ছেদ্যভাবে নগররাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত। এই সভ্যতা বিকাশ লাভ করে প্রথমে ইজিয়ান দ্বীপপুঞ্জে, এশিয়া মাইনরের ইজিয়ান উপকূলবর্তী শহরগুলোতে, এথেন্সে, তারপর সিসিলি, দক্ষিণ ইতালির গ্রিক উপনিবেশগুলোতে গ্রিকদের ধর্ম বিশ্বাস ছিল প্রবল। তাদের দেব-দেবীর সংখ্যাও ছিল অনেক। তাদের বিশ্বাস ছিল, এসব দেব-দেবী তাদের ভাগ্যের নিয়ন্তা। গ্রীক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ কাল হচ্ছে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চাশ শতক থেকে শুরু করে কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী এথেন্সে পেরিক্লিসের শাসনামল। এই সময় বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা দর্শন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম সাফল্য অর্জিত হয়। এথেন্স হয়ে ওঠে এই সভ্যতার পীঠস্থান। বিশ্ব সভ্যতার ক্ষেত্রে রঙমঞ্চ বা থিয়েটার প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অবদান গ্রীকদেরই, ইতিহাস শাস্ত্রের সূচনা হয় প্রাচীন গ্রীস থেকেই। ষষ্ঠ শতাব্দীতে গ্রীক দর্শনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত করেন আলেস। গণিত শাস্ত্রের সূচনা করে পিথাগোরাস অমর হয়ে আছেন। হিপোক্রেটিস চিকিৎসা শাস্ত্রকে কুসংস্কার মুক্ত করে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করান।

6892 views Answered

Next steps