1 Answers
আমেরিকা আবিস্কারের কাহিনী : বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকার ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। মাত্র ২০০ বছর আগে এর ইতিহাসের শুরু। উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা দুটি স্বতন্ত্র মহাদেশ হলেও আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাস। কলম্বাস ছিলেন সে আমলের একজন বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক। ভারতবর্ষের ঐশ্বর্যের কথা ইউরোপে কিংবদন্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই অনেকেই চাইছিল স্থলপথ ছাড়াও সমুদ্রপথের সন্ধান করতে। তাই কলম্বাস জাহাজ নিয়ে ভারতবর্ষের খোঁজে বের হয়ে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর একটা দ্বীপে গিয়ে পেঁৗছান। দ্বীপটা বাহামা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত, আগে নাম ছিল সান সালভেদর। বর্তমান নাম ওয়াটলিং আইল্যান্ড। কলম্বাস এই দ্বীপকে ভারত বলে ভেবেছিলেন। বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরের এই তাবৎ দ্বীপপুঞ্জকে বলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর কলম্বাস জাপানের পথে পাড়ি দিতে গিয়ে সান সালভেদরের দক্ষিণে হিসপানিয়োলা আর তারপর কিউবায় গিয়ে পেঁৗছান। ভারতবর্ষ জলপথে আবিষ্কার করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে কলম্বাস ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ আবার স্পেনে পৌঁছেছিলেন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর আরম্ভ হলো কলম্বাসের দ্বিতীয় নৌযাত্রা। সেবারও তিনি ভারতবর্ষ খুঁজে পাননি।১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় নৌ-যাত্রায় কলম্বাস প্রথমে ত্রিনিদাদ এবং তারপর গিয়ে পৌঁছান দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বর্তমান ভেনিজুয়েলাতে। এদিকে সমুদ্রপথে ভারত বর্ষ আবিষ্কারের যখন এই সব কাণ্ড চলছিল তখন এক স্পেনীয় নাবিক ঘোষণা করেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড পূর্বেই তিনি ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন আবিষ্কার করে এসেছেন। এই নাবিকের নাম ছিল আমেরিগো ভেসপুচ্চি। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মত হলো তিনি ১৪৯৯ খ্রিস্টাব্দের আগে সমুদ্রযাত্রাই করেননি। কারণ সে বছরই আলন্সো দে ওখেদা ও ভেসপুচ্চি দক্ষিণ আমেরিকায় গিয়েছিলেন। কলম্বাস যেমন স্পেনের রাজার সাহায্যে সমুদ্রযাত্রা করেন, আমেরিগো ভেসপুচ্চি তেমনি পর্তুগালের পতাকার নিচে ১৫০১ এবং ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা করে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে গিয়ে উপস্থিত হন। ভেসপুচ্চি এটা ঠিকই বুঝেছিলেন যে কলম্বাস যাকে ভারতবর্ষ ভেবে ভুল করেছিলেন সেটা আসলে একটা অনাবিষ্কৃত নতুন মহাদেশ। ভেসপুচ্চির নিজের সমুদ্রযাত্রার বিষয়ের উপর লেখা এতই প্রসিদ্ধ লাভ করে ছিল যে, তাকেই দক্ষিণ আমেরিকার আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জার্মানির ভূগোলবিদ ভাল্ডয়ে মুলার ব্রাজিলকে আমেরিগোর সম্মানার্থে আমেরিকা আখ্যা দেন। আমেরিকা নামটা এতই প্রচলিত হয়ে পড়ে যে, ব্রাজিল থেকে উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা দুই মহাদেশেরই নামকরণ হয় আমেরিকা। কলম্বাসই সর্বপ্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করলেও তার ভুলের কারণে আমেরিকা আবিষ্কারক হিসেবে আমেরিগোর নাম অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের নাম আমেরিকা হয়ে যায়। তবে অনেকে দাবি করেন কলম্বাস নয়, মুসলমানরাই আমেরিকা আবিস্কার করেছিলেন। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত লাতিন আমেরিকার ধর্মীয় নেতাদের এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এমন দাবি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন,কলম্বাস আমেরিকার খোজ পায় পনেরো শতাব্দিতে কিন্তু মুসলিম নাবিকরা সে দেশে পৌঁছেছিলেন এর ও ৩০০ বৎসর আগে। এরদোগান বলেন,“কলম্বাস নিজেই আমেরিকা আবিস্কারের সময় কিউবা উপকূলে একটি পাহাড়ের ওপর মসজিদের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন যা প্রমান করে ইসলাম ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে পরিচয় হয়েছে কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কারের ঘটনার পূর্বেই আর সেই কাজটি করেছিল মুসলিম নাবিকেরাকা পৌঁছেছিলেন ১১৭৮ সালেই। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মসজিদের মতো দেখতে একটি প্রস্তরখণ্ডকে উপাসনালয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ওই নাবিক। ইতিহাস লেখক এস ফ্রেডরিক স্টার তার ‘আজকের ইতিহাস’ নিবন্ধে দাবি করেছেন, ১৪৯৮ সালের অনেক আগেই আমেরিকা আবিস্কার করেন আবু রাইহান। নিবন্ধ অনুসারে ৯৭৩ সালে আজকের মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে জন্ম তার। ওই ইতিহাস লেখকের মতে, আবু রাইহানই এশিয়া-ইউরোপসহ পৃথিবীর অজানা ভূমি আবিস্কারের প্রথম পথ প্রদর্শক। নিবন্ধকার লিখেছেন, কলম্বাস এটা হয়তো নোট করতে ভুলে গিয়েছিলেন যে, ভ্রমণের ক্ষেত্রে আল-ফারহানি রোমান মাইলসের পরিবর্তে আরব মাইলস ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি কলম্বাস কখনোই আমেরিকা আবিস্কারের কথা চিন্তাও করেননি। জাহাজে উঠার পর প্রথমে কলম্বাস চিন্তা করেছিলেন, তিনি হয়তো এশিয়া কিংবা ইউরোপে গিয়ে উঠবেন। ফ্রেডরিক তার নিবন্ধে দাবি করেছেন, আবু রাইহানা আল-বেরুনীই পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি যিনি, নতুন পৃথিবী(নিউ ওয়ার্ল্ড) শব্দটার ধারণা দিয়েছেন।এস ফ্রেডরিক স্টার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি একজন রাশিয়া-ইউরেশিয়া বিশেষজ্ঞ। এছাড়া ‘সেন্টাল এশিয়া ককেশাস ইনিস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। এ পর্যন্ত ২০টি বেশি বই লেখা ও সম্পাদনা করেছেন। আর নিবন্ধ লিখেছেন ২০০ উপরে।