1 Answers

শিশুদের যে কোনও নতুন জিনিস বিশেষ করে তা যদি অজানা হয়, খাওয়ানোর আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত। এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম না করাই ভালো । কোয়েলের ডিম খুবই ছোট। একটি কোয়েল পাখির ডিম বড়জোর ৯ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। যেখানে একটি মুরগির ডিম ৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তাই পরিমাণের দিক দিয়ে ৫টি কোয়েলের ডিম একটি মুরগির ডিমের সমপর্যায়ের হয়ে থাকে। কতটা পুষ্টিকর? এটি প্রোটিনের শক্তিশালী উৎস। উপকারী কোলেস্টেরল, ভিটামিন ‘বি১’, ভিটামিন ‘বি২’ ও ভিটামিন ‘এ’ আছে। মুরগির ডিমের চেয়ে কোয়েলের ডিমে ভিটামিন ‘বি১’ ছয় গুণ এবং ভিটামিন ‘বি২’ ১৫ গুণ বেশি থাকে। এই প্রোটিন অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একটি কোয়েলের ডিমে পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণ: ক্যালরিঃ ১৪ ফ্যাটঃ ১ গ্রাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ ৪ মিলিগ্রাম ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডঃ ৮৪ মিলিগ্রাম প্রোটিনঃ ১.২ গ্রাম কোলেস্টেরলঃ ৭৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ও মিনারেল ভিটামিন এঃ ১% রিবোফ্লাভিনঃ ৪% ভিটামিন বি১২ঃ ২% প্যানথোনিক এসিডঃ ২% আয়রনঃ ২% সেলেনিয়ামঃ ৪% ফসসরাসঃ ২% দেহে শক্তির যোগান দেয় কোয়েলের ডিম প্রোটিন ও আয়রনে সমৃদ্ধ, যা শরীরের এনার্জি লেভেল বাড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সব ধরণের প্রোটিনই বহু অ্যামিনো অ্যাসিড অণুর দ্বারা তৈরি চেন দিয়ে গঠিত হয়। কোয়েলের ডিমের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল তৈরি করে দেখা যায়, এতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড বিদ্যমান। শরীরের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে এদের মধ্যে কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিড বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অন্য কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যারা টিস্যুর ক্ষয়রোধ ও নতুন টিস্যু গঠন করে। এছাড়াও কোয়েল পাখির ডিমে পাওয়া যায় লাইসিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরিতে এবং হরমোন, কোলাজেন ও এনজাইম উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি১২, থাইমিন (ভিটামিন বি১) ও ভিটামিন বি২ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন বি১২ আমাদের স্মৃতিশক্তির ক্ষয় রোধ করতে সহায়ক। যকৃত, ত্বক, চুল ও চোখের সুরক্ষা দেয় রাইবোফ্লাভিন, যা মূলত ভিটামিন বি২ নামে পরিচিত, দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়ার জন্য খুবই দরকারী। সাধারণত ভিটামিন বি২ সহ অন্যান্য শ্রেণীর ভিটামিন বি আমাদের লিভার, ত্বক, চুল ও চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করে। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে কোয়েলের ডিমে প্রাপ্ত খণিজ উপাদানগুলোর একটি হলো সেলেনিয়াম। এই খণিজ দ্রব্যটি প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সেলেনিয়ামে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকোষকে ক্ষয় হয়ে যাওয়া ও জারণ থেকে রক্ষা করে। অ্যালার্জি নিরাময় করে ডিমের সাদা অংশে থাকে ওভোমিউকয়েড প্রোটিন। এটা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অ্যালার্জির মতো কাজ করে। রক্ত জমাট বাঁধা, ইনফ্লামেশনসহ অ্যালার্জি বিভিন্ন লক্ষণ থাকলে কোয়েলের ডিম খুবই উপকারী। শিশুদের খাবারে কোয়েল পাখির ডিম ১ বছরের আগে শিশুদের এই ডিম না দেওয়াই ভালো। এরপর খাওয়ানো যায়। ১-৭ বৎসর পর্যন্ত বয়সের ক্ষেত্রে দিনে ২/৩ টি করে কোয়েলের ডিম । ৮-১০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩/৪ টি করে কোয়েলের ডিম। ১১-১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৪/৫ টা করে খাওয়ানো যায়। এতে সম্পৃক্ত ফ্যাট থাকায় অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়ানোই উচিত। প্রয়োজনে একদিন অন্তর শিশুকে খাওয়ানো যায়। তবে প্রথমে খাওয়ানোর পর যদি শিশুর কোনও প্রকার শারীরিক সমস্যা যেমন সর্দি, হাঁচি, আমাশয় বা গায়ে অ্যালার্জি জাতীয় কিছু দেখা দেয় সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

7850 views Answered

Next steps