1 Answers

কতগুলো বিষয় আছে যেসব বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে তেমন কোন মতভেদ নেই, প্রায় সকলের কাছেই বিষয়টা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও এরকমই। প্রায় সকল মুসলিমই এটাকে গর্হিত অপরাধ মনে করেন, এমনকি যারা এতে অভ্যস্ত তারাও। ফলে বিষয়টি নিয়ে আসলে কোন লেখালেখির দরকার হবার কথা ছিল না। কিন্তু তবু লিখতে হলো যখন দেখা গেল ইসলামের পক্ষে লেখালেখি করেন এমন কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান। এমন কি শ্রদ্ধাভাজন একজন নাস্তিক্যবাদবিরোধি ইসলামপন্থি লেখক যখন হস্তমৈথুনকে হারাম বলাকে আল্লাহর ওপর খোদাগিরি হিসেবে অ্যাখায়িত করলেন, তখন কিছু না লিখে আর থাকা সম্ভব হলো না। ১. যৌনাঙ্গের হেফাযত করা আল্লাহর নির্দেশ (ফরজ) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩০-৩১] ২. যৌনাঙ্গকে কিভাবে বা কী হতে হেফাযত করতে হবে? মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এর বাইরে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। (২৩:১-৭) Certainly will the believers have succeeded: They who are during their prayer humbly submissive. And they who turn away from ill speech. And they who are observant of zakah. And they who guard their private parts. Except from their wives or those their right hands possess, for indeed, they will not be blamed. But whoever seeks beyond that, then those are the transgressors. [23:1-7] ২.১ এখান থেকে দেখা যাচ্ছে: সবকিছু থেকে যৌনাঙ্গকে হেফাযত করতে হবে ২টি ক্ষেত্র ছাড়া- ২.১.১ স্ত্রী ২.১.২ ডান হাতের মালিকানাভুক্ত নারী (ক্রীতদাসি) ২.২ বর্তমান সময়ের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ও আলোচনার প্রসঙ্গ বিবেচনায়, আমরা যদি ডান-হাতের মালিকানাভুক্ত নারী বা ক্রীতদাসিদের কথা বাদ দিই, তাহলে ওপরের আয়াতে এটা সুস্পষ্ট যে, স্ত্রী ছাড়া আর কারো দ্বারা বা কোন কিছুর দ্বারা যৌন কামনা চরিতার্থ করা সীমালঙ্ঘন তথা হারাম। কাজেই, ২.২.১ এই আয়াত বিবাহ-বিহর্ভূত নারীর সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে, ২.২.২ এই আয়াত পশু-পাখির সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে, ২.২.৩ এই আয়াত হস্তমৈথুনকে হারাম করছে, মোটকথা, স্ত্রী ছাড়া যৌনকর্ম সম্পাদনের যত উপায় আছে সবকিছুকে হারাম করছে। ২.৩ কাজেই, কেউ যদি মনে করে থাকেন, “কুরআন অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম নয়” , তাহলে- তাকে মানতে হবে, কুরআন অনুসারে পশুর সাথে সঙ্গমও হারাম নয়। ৩. আরো চিন্তার খোরাক সূরা নূরের ৩০-৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা যৌনাঙ্গকে সংযত করতে বলেছেন, এর পরের আয়াতেই আল্লাহতায়ালা বিবাহের ওপর জোর দিচ্ছেন: তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। [প্রাসঙ্গিক অংশ ২৪:৩২-৩৩] ৩.১ এখানে বুঝা যাচ্ছে, ৩.১.১ যৌনাঙ্গকে সংযত করার আল্লাহর নির্ধারিত উপায় হচ্ছে বিবাহ করা। (বিবাহে সমর্থদের জন্য) ৩.১.২ যারা বিবাহে সমর্থ নয়, আল্লাহ তাদেরকে অভাবমুক্ত করার আগ পর্যন্ত তাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত উপায় হচ্ছে “সংযম অবলম্বন করা”। ৩.২ চিন্তার খোরাক হচ্ছে, যদি হস্তমৈথুন বা স্বমেহন বৈধই হবে তাহলে সংযম অবলম্বনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে? শেষের কথা: আশা করি, এই আলোচনার পর কুরআন অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম নয়, এ জাতীয় অদ্ভূত দাবি কেউ করবেন না বা কেউ আলেমদের থেকে শুনে হস্তমৈথুনকে “হারাম” বলে প্রচার করলে সেটাকে “আল্লাহর ওপর খোদাগিরি” বলে বসবেন না।

4044 views Answered

Next steps