1 Answers
এখানে আমাদের নিজেদের নিজের মনমতো ব্যাখ্যা না বানিয়ে বরং কুরআনে আল্লাহ তায়ালা কি বলেছেন সেটা দেখাটাই উত্তম।তো এ বিষয়ক কিছু আয়াত দেখা যাক - عَسٰى رَبُّكُمْ اَنْ يَّرْحَمَكُمْ ۚ وَاِ نْ عُدْتُّمْ عُدْنَا ۘ وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكٰفِرِيْنَ حَصِيْرًا (এরপরও) হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু যদি তোমরা (তোমাদের পূর্বকৃত পাপের) পুনরাবৃত্তি কর, তবে আমিও (পূর্বে দেয়া শাস্তির) পুনরাবৃত্তি করব। ঈমান প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য আমি জাহান্নামকে কারাগার বানিয়ে রেখেছি।(সূরা ইসরা - আয়াত ৮) اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ وَ الْمُشْرِكِيْنَ فِيْ نَا رِ جَهَنَّمَ خٰلِدِيْنَ فِيْهَا ۗ اُولٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ ۗ কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকব। এরাই সৃষ্টির অধম। (সূরা বায়্যিনাহ - আয়াত ৬) তো কুরআন স্পষ্ট বলছে যে পরকালে অবিশ্বাসীদের কোনো স্থান নেই।এখন এতটুকু জেনেই অনেককে আমি হা রে রে করে মুসলিমদের উপর ঝাপিয়ে পড়তে দেখেছি।আমার কাছেও খটকা লেগেছে সত্যি,কিন্তু পরবর্তীতে এটা নিয়ে বুঝার পর সন্দেহ দূর হয়ে যায়।প্রথমে আল্লাহ যেকোনো ব্যক্তির জন্য সত্য জানা কতটা সহজ করেছেন সেটা নিয়ে বলা দরকার।ব্যাপারটা সহজ হয় যদি আমরা মানুষকে পরীক্ষার্থী আর পৃথিবীকে পরীক্ষার হল ধরে নিই - ১।পরীক্ষায় পাসের জন্য পুরো জীবন সময় দিয়েছেন; ২।পরীক্ষাটাকে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর সবলতা দুর্বলতা বিবেচনা করে সাজানো হয়েছে; ৩।পরীক্ষা চলার সময় যতবারই ভুল করা হোক,শুধরে নেওয়ার সুযোগ আছে; ৪।প্রত্যেক সঠিক উত্তরের জন্য কমপক্ষে দশ নম্বর দেওয়া হবে,কিন্তু ভুল উত্তরের জন্য মাত্র এক নম্বর কাটা যাবে; ৫।পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে; ৬।শুধু তাই না,পরীক্ষা যাতে ভালো ভাবে দেওয়া যায় তার জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে সকল নিয়ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য; লিস্টটাকে আমরা আরো টানতে পারি,এটাকে এই উদাহরণ দিয়ে না ধরলে।যেমন - ৭।শিক্ষক(নবি রাসূল)দের প্রতি বিশ্বাস করানোর জন্য অকাট্য বিভিন্ন মিরাকল পাঠিয়েছেন যুগে যুগে,এখনো পাঠিয়ে চলছেন; ৮।যাতে শিক্ষকদের শিক্ষা মানুষ ভুলে না যায় সেজন্য তাদের উত্তরাধিকারী তথা স্কলারদের পাঠিয়েছেন। তো অন্য কেউ কি ভাবছে সেটা আমি জানিনা,কিন্তু আমার কাছে এটা সত্য চামচে করে মুখে তুলে দেওয়ার মতো।এখন অনেকে বলতে পারেন তবে তাদের ভালো কাজগুলোর কি হলো? উত্তর হলো আল্লাহ কারো প্রতি চুল পরিমাণ যুলুম করেন না।এমন সকলকে তাদের ভালোকাজের প্রতিদান এই পৃথিবীতে কড়ায় গন্ডায় দিয়ে দেওয়া হবে।তাও মনে হতে পারে যে,নাহ তাও কেমন জানি লাগছে।এক্ষেত্রে আমি ২ টা উদাহরণ দিতে ইচ্ছুক। উদাহরণ ১ - পরকাল আমাদের শেষ গন্তব্য,আর পৃথিবীতে আমরা যা করি তার সবকিছুই মাধ্যম।এক্ষেত্রে মনে রাখা ভালো আল্লাহ আমাদের সেই শেষ গন্তব্যের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।মাধ্যম অর্থ যার দ্বারা কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হয়।আমাদের উদ্দেশ্য পরকাল,কিন্তু সব কাজগুলোই মাধ্যম।উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যাই করা হোক সে অনুযায়ী সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে বা যাবে না।পুরাটাই উদ্দেশ্যের উপর।অমুসলিম হয়েও ভালো কাজ করা মানে মাধ্যমকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলা অথবা ভুল উদ্দেশ্যে কাজটা করা।তো ভুল উদ্দেশ্যে বা উদ্দেশ্যহীন ভাবে কোনো কাজ করে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর আশা করা যায় না; উদাহরণ ২ - আমরা একটা চলমান ট্রেনের ভিতর আছি,আমরা এখানে যাই করি না কেন আমরা শেষ স্টপেজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,সেখানেই আমাদের যেতে হবে।কিন্তু শেষ স্টপেজে যাওয়ার আগে আমাদের অনেকগুলা ছোট ছোট স্টপেজ পার করে যেতে হবে।এখানে আমাদের উদ্দেশ্য শেষ স্টপেজ,আর আমাদের জীবনের মুহূর্তগুলো হলো ছোট ছোট স্টপেজ।শেষ উদ্দেশ্যের জন্য এই মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে হবে,কিন্তু যদি মুহূর্তগুলোই উদ্দেশ্য হয়ে যায় বা সেটাকে শেষ স্টপেজ মনে করা হয়,তাহলেই সমস্যা। এখনও অনেকে বলবেন ইসলামই যে সত্য তার কোনো প্রমাণ নেই,অপ্রামাণ্য কিছু আমরা বিশ্বাস করি না….কিন্তু সত্য তো দরজায় কড়া নাড়লেই হবে না,দরজা খুলে সেটাকে স্বাগত জানাতে হবে,অর্থাৎ সেটা সম্পর্কে জানতে হবে।প্রশ্নটা যেমন ছিল তেমন উত্তরই দেওয়ার চেষ্টা করেছি।শেষ করতে চাই কুরআনের একটা আয়াত দিয়ে - وَسَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ তুমি ওদেরকে সতর্ক কর বা না কর, ওদের পক্ষে উভয়ই সমান; ওরা বিশ্বাস করবে না।(সূরা ইয়াসিন - আয়াত ১০) যদি পুরোটা পড়ে থাকেন তবে আপনাকে ধন্যবাদ,আর ভুল ত্রুটি সমূহ মার্জিত ভাষায় সংশোধন করে দিবেন।ভালো থাকবেন।