1 Answers

গাজওয়াতুল হিন্দ হল রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণীত ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ও মুশিরকদের মধ্যে ভবিতব্য চূড়ান্ত যুদ্ধ। যাতে মুসলিমরা জয় লাভ করবে। এ ব্যাপারে যে সব বর্ণণা আছে তা নিম্নে দেওয়া হল (১) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) এর প্রথম হাদিস সর্বপ্রথম হাদিসটি আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত । তিনি বলেন আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আমকে বলেছেন যেঃ  “ এই উম্মাহর মধ্যে একটি দল সিন্ধ এবং হিন্দ এর দিকে অগ্রসর হবে ” হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন আমি যদি এই অভিযানে শরীক হতে পারতাম এবং শহীদ হতে পারতাম তাহলে উত্তম হত ; আর যদি আমি গাজী হয়ে ফিরে আসতাম তবে আমি একজন মুক্ত হযরত আবু হুরায়রা হতাম, যাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিতেন । রেফারেন্সঃ  এই শব্দগুলো দিয়ে শুধুমাত্র ইমাম বিন হাম্বল (রঃ) তার ‘মুসনাদে’ হাদিসটি বর্ণনা করেছন ।  এবং ইবনে কাসির এই রেফারেন্সে হাদিসটির অনুলিপি তার ‘ আল-বিদায়া ওয়া নিহায়া ’ –তে উল্লেখ করেছেন ।  ক্বাজী আহমাদ শাকির এই হাদিসের একটি সুন্দর স্থায়ীভাব দিয়েছেন ‘মুসনাদে আহমাদের’ ব্যাখ্যা ও খোঁজে।  ইমাম নিসাই হাদিসটি তার উভয় গ্রন্থঃ ‘ আস সুনান আল মুজতাবা ’ এবং ‘ আস সুনান আল কুবরা’ –তে বর্ণনা করেছেন । এর মাঝে নিম্নোক্ত শব্দ ব্যবহার করে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আমাদেরকে গাযওয়ায় হিন্দ সম্পর্কে ওয়াদা করেছেন । আমি যদি এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতাম তাহলে আমি এর জন্য আমার সকল শক্তি ও সম্পদ ব্যয় করে দিতাম। যদি আমি এতে নিহত হতাম, তাহলে আমি অতি উত্তম শহীদদের একজন হতাম । আর যদি ফিরে আসতাম তবে একজন মুক্ত আবু-হুরায়রা হতাম । ইমাম বায়হাকি (রঃ) অনুরুপ শব্দগুলোর উল্লেখ করেছেন ‘ আস সুনান আল কুবরা’র। তার আরকটি বর্ণনায় একটি শব্দ যোগ হয়েছে । ইবনে দাউদের রেফারেন্সে, মাসদাদ আবু-ইসহাক ফাযারি সম্পর্কে বলেন যে তিনি বলতেনঃ ‘ আমি যদি রোম শহরের যে গাযওয়াত গুলোতে অংশগ্রহণ করেছি তার বদলে মারবাদ (ভারত থেকে আরবের পূর্বে কিছু অঞ্চল) এর গাযওয়াতে অংশগ্রহণ করতে পারতাম’। ইমাম বায়হাকি (রঃ) একই বর্ণনা সম্পর্কে তার ‘দালাইল আন নুবুওয়াহ’তে বলেছেন । এবং তার এই রেফারেন্সে, অনুরূপ বর্ণনা তুলে ধরেছেন ইমাম সুয়ুতি (র) ‘ইন আল খাসাইস আল কুবরা’তে । অধিকন্তু, নিম্নোক্ত হাদিস বর্ণনাকারীরা একই হাদিস সামান্য ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করেছেনঃ • শায়খ আহমাদ শাকির (রঃ) এই হাদিসটিকে অনুমোদন করেছেন । • ইবনে কাসির অনুরূপ হাদিসটি ‘ আল বিদায়া ওয়া আন নিহায়া ’-তে ব্যবহার করেছেন । • আবু নাঈম (রঃ) এটি ‘হুলিয়াত উল আউলিয়া’তে বর্ণনা করেছেন • ইমাম হাকিম (রঃ) এই হাদিসটি ‘আল মুস্তাদরাক আল সাহিহ’তে বর্ণনার পর নীরব থেকেছেন । • তথাপি, ইমাম যাহাবী (রঃ) তার মুস্তাদরাক এ এটি তুলে দিয়েছেন । • সাঈদ ইবন মানসুর এটি তার বই ‘আস সুনান’ -এ এটি বর্ণনা করেছেন । • খতীব বাগদাদী তার বাগদাদের ইতিহাসে লিখেছেন যে ‘ এর জন্য আমি নিজেকে অস্থির বানিয়ে ফেলতাম ’। • নাঈম বিন হাম্মাদ; ইমাম বুখারীর শিক্ষক এটি ‘আল ফিতান’ -এ লিখেছেন । • ইবনে আসিম (রঃ) তার ‘আল জিহাদ ’ গ্রন্থে লিখেছেন । • ইবনে হাতীম (রঃ) তার ‘ আল লা’ল ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে ‘ যদি আমি নিহত হই, তবে আমি জীবিত থাকব আহার্য পেয়ে (শহীদ হিসেবে) এবং যদি ফিরে আসি, তবে হব মুক্ত । • ইমাম বুখারী (রঃ) ‘আল তারিক আল কাবির ’-এ বর্ণনা করেছেন । • ইমাম মাযী করেছেন ‘তেহজিব উল কামাল’-এ এবং • ইবনে হাযার আসকালানী হাদিসটি ‘ তেহজিব আল তেহজিব ’-এ বর্ণনা করেছেন । উপরোক্ত সকলের লিখা অনুযায়ী এই হাদিসটি পুরোপুরি সঠিক এবং সুন্দর।

6039 views Answered

Next steps