1 Answers

পৃথিবীতে হাজারো প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এদের কেও কেও যেমন অতি সাধারণ তৃণভোজী কেউ আবার মাংসাশী ও হিংস্র। আন্তর্জাতিকভাবে জলজ, স্থল ও উভচর প্রানীর মধ্যে হিংস্রতার ভিত্তিতে শ্রেনীবিভাগ করা হয়েছে। আর মধ্যে মানুষ এর স্থান রয়েছে ১০ নম্বরে। এর ৫ টি হিংস্র প্রাণীর বর্ণনা কর‌ছি; বক্স জেলিফিশ (Box Jellyfish): সম্প্রতি জরীপে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বক্স জেলিফিশ, যা সম্ভবত জেলিফিশের সকল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। এটা অনেকটা স্বচ্ছ পর্দার মত। এটি প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সাগরে ডাইভ করার সময় কখনো বক্স জেলিফিশ দেখলে কোনকিছু না ভেবেই পলায়ন করুন। কারণ, এটি ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী’ হিসাবে পরিচিত। এক একটি জেলিফিশে যে পরিমাণ বিষ থাকে তা ৬০ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। ১৯৫৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বক্স জেলিফিশের আক্রমনে ৫,৫৬৭ টি মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। এদের বিষ বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক বিষ হিসেবে বিবেচিত করা হয়। বক্স জেলিফিশের বিষ আক্রান্তের হৃৎপিণ্ড ,স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের কোষ আক্রমণ করে। এদের বিষ এতোই মারাত্মক যে মানুষ পর্যন্ত মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে। কোণ শামুক (Cone Snails): কোণ শামুকরা কোণ আইসক্রিমের মতো দেখতে। সব কোণ শামুকই বিষাক্ত, তবে এদের মধ্যেও সেরা হলো মার্বেল-কোণ শামুক। এদের খোলসটা দেখলে মনে হয়, মার্বেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা হয়েছে। তাই এদের এমন নাম। এদের দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ লবণাক্ত সামুদ্রিক জলরাশিতে। এরা দেখতে কিন্তু খুবই সুন্দর। সুন্দর হলে কি হবে! বিষধর প্রাণীদের তালিকায় যে এদের স্থান দ্বিতীয় অবস্থানে। ব্ল্যাক মামবা (Black Mamba): পৃথিবীর দ্রুততম, তেজস্বী ও মারাত্মক বিষধর সাপ হলো ব্ল্যাক মামবা। এরা যখন ভয় পায়, তখন প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে।অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর জন্য এদের দায়ী করা হয়ে থাকে। আফ্রিকার পুরাণে এদের নিয়ে অনেক অতিরঞ্জিত গল্প রয়েছে। এসকল কারণে ব্ল্যাক মামবাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার শক্ত ও পাথুড়ে পাহাড়ি অঞ্চলে ব্ল্যাক মামবার বসবাস। এটা আফ্রিকার দীর্ঘতম সাপ, যা লম্বায় গড়ে ৮.২ ফুটেরও (২.৫ মিটার) বেশি হয়ে থাকে। কখনো কখনো ১৪ ফুট (৪.৫ মিটার) দীর্ঘ ব্ল্যাক মামবার দেখাও পাওয়া যায়। ব্ল্যাক মামবা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন সাপ। এদের গতিবেগ ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার বা ১২.৫ মাইল। পৃথিবীর ভয়ঙ্কর প্রাণীদের মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়তে। কেপ মহিষ (Cape Buffalo): তবে কেপ বাফালো নামের যে বুনো মহিষ আফ্রিকার তৃণভূমি প্রান্তরে রাজত্ব করে, সে বোধ সাক্ষাত জমদূত! অমিত শক্তিধর এই প্রাণীটার মতিগতি বোঝা বড় দায়। মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক এক প্রাণী বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রাণীবিদরা। মানুষ হাতিকে পোষ মানাতে পেরেছে। কিন্তু আফ্রিকার এই বিভীষণকে পোষ মানানোর কথা চিন্তাই করতে পারে নি কখনো। এটা দেখতে ব্লাকমাম্বার মতই কালো। এর ওজন ২০০০ পাউন্ডের চাইতেও অধিক হয়ে থাকে। এরা সিংহের মতই আক্রমণাত্মক শিকারী। সাইফু পিঁপড়া (Siafu Ants): এই ধরণের পিঁপড়াকে ড্রাইভার পিঁপড়াও বলা হয়। এরা সবসময় ঝাঁকে ঝাঁকে চলা ফেরা করে। প্রতিটি ঝাঁকে প্রায় ৫০,০০০০০০ পিঁপড়া থাকে। তাদের যদি কেও একাও বিপদে পরে তাহলে সে একাই তার মোকাবেলা করে। প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে জানা যায়, ৭ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে এ ধরণের পিঁপড়া ছিল৷ এরা হলো দক্ষিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় প্রাপ্ত ড্রাইভার অ্যান্ট যাদের মাংসাশী পিঁপড়া বলেও অভিহিত করা যায়। এদের কয়েক কোটি পিঁপড়া দল বেঁধে বড় যে কোনো বড় প্রাণীকে খেয়ে ফেলে৷-সূত্র: কন্সারভেশন ইন্সটিটিউট।

9432 views

Related Questions