1 Answers

গবেষকদের ধারণা, কাচের বৃষ্টির কারণে গ্রহটি দেখতে গাঢ় নীল। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রথমবারের মত কোনো ভিনগ্রহের সত্যিকারের রং জানতে পেরেছেন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তাঁরা পৃথিবীর মতো গাঢ় নীল বর্ণের এ গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকেরা বলছেন, এইচডি ১৮৯৭৩৩বি নামের এ গ্রহটির অতি তাপমাত্রা আর আবহাওয়া এত রুক্ষ যে, এখানে কাচ-বৃষ্টি হয়, আর এই কাচের ওপর আলোর প্রতিফলনে একে গাঢ় নীল দেখায়। পৃথিবী থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরের এ গ্রহটি মূলত গ্যাসীয় দানব, যা এর নক্ষত্রের খুব কাছ দিয়ে আবর্তন করছে। এ গ্রহে পৃথিবীর হিসাবে ঘণ্টাপ্রতি সাত হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং কাচ-বৃষ্টি হতে থাকে। অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স সাময়িকীতে এ গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হবে। এর আগে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, ‘আমরা যাকে শুকতারা বলে ডাকি সেই শুক্রগ্রহে থেমে থেমে ধাতব বৃষ্টি বা ধাতব তুষারপাত হয়। সেখানে তুষারের মতো ঝরতে থাকে সিসা ও বিসমাথ।’ গবেষকেরা ধারণা করেন, শুক্রগ্রহের এ তুষার তৈরি হয়েছে লেড সালফাইড ও বিসমাথ সালফাইড থেকে। যুক্তরাষ্ট্রেরর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার ১৯৮৯ সালে শুক্রগ্রহের ম্যাগেলান মিশনের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা শুক্রগ্রহের ধাতব তুষার থাকার বিষয়টি ধারণা করছেন। ধাতব তুষারপাত বা কাচ-বৃষ্টি কি সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ব্রুস ফেগলি হাফিংটন পোস্টকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন, পৃথিবীর তুলনায় অন্যান্য গ্রহপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে। সেখানকার আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ধাতব যৌগ বায়ুমণ্ডলের শীতল অঞ্চলে ঘনীভূত হয় এবং ভূপৃষ্ঠের ওপর তুষারের মতো পড়তে থাকে। সৌরজগতের বাইরের অনেক তথ্যই এখনো আমাদের অজানা। তবে গবেষকেরা বলছেন, আমাদের সৌরজগতের মধ্যে পৃথিবীর নিকটতম মঙ্গলেও এ আজব-প্রক্রিয়া চলে। তবে, মঙ্গলে কাচ বা ধাতব বৃষ্টির বদলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুষারপাত ঘটে।

6458 views Answered

Related Questions

Next steps