1 Answers

 ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। [সুরা : হুদ, আয়াত : ৬ (প্রথম অংশ)] তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব কিছুই জানেন। এ আয়াতে এর প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ পৃথিবীর সব সৃষ্ট জীব সম্পর্কে অবগত। তিনি সৃষ্ট জীবের জীবিকার ব্যবস্থা করেন। ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব তিনি নিজেই গ্রহণ করেছেন। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত নিয়ামত ও তাঁর সম্যক জ্ঞানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একদিকে আলো-বাতাস ও নানা উপকরণের মাধ্যমে এই বিশ্বজগেক সৃষ্ট জীবের বসবাসের উপযোগী করেছেন। অন্যদিকে এসব নিয়ামত কিভাবে ব্যবহার করা উচিত সেই শিক্ষাও মানুষকে দান করেছেন। মায়ের বুকে যেমন নবজাতক শিশুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন, তেমনি মায়ের দুধ কিভাবে খেতে হবে নবজাতককে সেই শিক্ষাও দিয়েছেন। আল্লাহ রিজিকের জিম্মাদার—কথাটির অর্থ এই নয় যে মানুষ তার জীবিকার জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে, বরং জীবিকার জন্য সবাইকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে চেষ্টা চালাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে রিজিক খুঁজে নিতে হবে। রিজিক এমন বস্তু, যা কোনো প্রাণী আহাররূপে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে সে দৈহিক শক্তি অর্জন, প্রবৃদ্ধি সাধন ও জীবন রক্ষা করতে পারে। রিজিকের জন্য মালিকানাস্বত্ব শর্ত নয়। জীবজন্তু রিজিক ভোগ করে থাকে; কিন্তু তারা সেটার মালিক হয় না। তাই রিজিক শব্দটির অর্থ ব্যাপক। রিজিক হালালও হতে পারে, আবার হারামও হতে পারে। আল্লাহ গোটা সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। তিনি একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও রিজিকদাতা। তিনি সারা বিশ্বের ব্যবস্থাপক। আল্লাহ তাআলা সব প্রাণীকে উত্তম রিজিক দান করেন, এমনকি কখনো কখনো অন্যান্য সৃষ্ট জীবকে মানুষের চেয়ে বেশি রিজিক দিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে বিচরণকারী সব প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা নিজেই গ্রহণ করেছেন। এটি সৃষ্টিজগতের প্রতি তাঁর করুণা ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো প্রাণীকে যতক্ষণ তিনি জীবিত রাখার ইচ্ছা করেন ততক্ষণ তার রিজিক যেকোনো উপায়ে তার কাছে পৌঁছতে থাকে। ক্ষুধার কারণে যদি কোনো প্রাণীর মৃত্যু হয়, তবে তার এই অর্থ নয় যে আল্লাহর ভাণ্ডারে রিজিক কমে গেছে; বরং এর অর্থ হলো ওই প্রাণীকে জীবিত রাখা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না। তাই অন্যান্য দুর্ঘটনার মতো অনাহারও কারো কারো মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

6311 views Answered

Next steps