1 Answers
ইউরোপ-আমেরিকার পর প্রাণঘাতী করণাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র কি হতে যাচ্ছে ভারত? এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার তাণ্ডব শুরু হয়েছিল চীন থেকে। তিন মাসে সেখানে ৩ হাজার ৩০০’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৮১ হাজারেরও বেশি। মার্চের শুরুর দিকে চীনে পরাস্ত হয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকায় পড়ে করোনার থাবা। গত এক মাসে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চীনের থেকেও করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব দেশ। মৃত্যুর মিছিলে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে আমেরিকা এবং ইউরোপের এই দেশগুলো। চীনে তিন মাসে যেখানে করোনায় মারা গেছে ৩ হাজার ৩০০ জন, ইতালিতে সেখানে দেড় মাসেই মারা গেছে ১৩ হাজার মানুষ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মাত্র দেড় দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনা এই দেশগুলোতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটার শঙ্কা জাগছে। ভারতে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫৮ জন। তবে ভয়ের কথা হলো গত এক দিনে দেশটিতে মারা গেছে ২৩ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩২ জন। সেখানে করোনার কমিউনিটি সংক্রমণও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে দিল্লির নিজামউদ্দিনের তাবলিগ জমায়েতকে। ওই সমাবেশে যোগ দেওয়া প্রায় চার শ ব্যক্তি করোনার সংক্রমণের বিষয়ে পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর ১৯০ জন, অন্ধ্র প্রদেশের ৭১ জন, দিল্লির ৫৩ জন। ভারতে এখন পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে ওই তাবলিগ জামাত সমাবেশের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মুম্বাইয়ে এশিয়ার বৃহত্তম ধারাভি বস্তিতেও করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বস্তির একজন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। ৬১৩ একর জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা ধারাভি বস্তিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এককথায় অসম্ভব। সেখানে করোনার বিস্তার ঠেকানো না গেলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা বলাই বাহুল্য। ইতালিতে একটি ফুটবল ম্যাচ থেকেই করোনা মহামারি আকার নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মিলানের বিখ্যাত সানসিরো স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ওই ম্যাচে আটালান্টার মুখোমুখি হয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। সেদিন সানসিরোর গ্যালারিতে হাজির ছিল প্রায় চল্লিশ হাজার দর্শক। সেখান থেকেই ইতালিয়ে ব্যাপক হারে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের ক্ষেত্রেও দিল্লির নেজামউদ্দিনের তাবলিগ জামাত বা মুম্বাইয়ের বস্তিতে করোনা সংক্রমণ কাল হয়ে উঠবে কিনা সে প্রশ্ন অনেকেরই। তবে এক্ষেত্রে সূক্ষ্ম একটা আশার রেখা দেখা যাচ্ছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, এ পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের ৯০ শতাংশই শীতপ্রধান এলাকার (বিশেষ করে, যেখানে তাপমাত্রা ৩ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। আর উষ্ণ এলাকায় করোনায় আক্রান্ত মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ করোনা শীতপ্রধান এলাকায় বেশি শক্তিশালী। তবে এই তথ্য কেবলই প্রাথমিক পর্যায়ের পরিসংখ্যান। এর সত্যতা এখনও গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেননি। তাই বছরের এ সময়টায় উষ্ণ আবহাওয়ার ভারতে করোনা মহামারী আকার ধারণ করবে না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy