2 Answers
হ্যাঁ। স্বল্প আলোতে বই পড়লে আমাদের চোখের রড ও কোন কোষ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বেশিক্ষণ অন্ধকারে পড়াশোনা করলে চোখের রড ও কোন কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে চোখের সমস্যা, মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কম আলোয় বই পড়লে চোখ নষ্ট হয়ে যায় বা চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এমন কথা অনেককেই বলতে শোনা যায়। এ কথা আসলে কি সত্যি? পৃথিবীব্যাপী এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি যে কম আলোয় পড়লে চোখ নষ্ট হয় বা চোখের পাওয়ার কমে যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুন-উর-রশীদ বলেন, অল্প আলোয় পড়লে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ঝাপসা দেখা, চোখব্যথা, শুষ্ক চোখ, মাথাব্যথা ইত্যাদি। কিন্তু চোখের এককালীন কোনো ক্ষতি হয় না। কম আলোয় পড়লে চোখের ফোকাস করতে সমস্যা হয়। এতে চোখের পাতা কম পড়ে। চোখ যদি কুঁচকে রাখা হয়, তাহলে চোখের পানি কিছুটা শুকিয়ে আসে। একসময় দেখতে ঝাপসা লাগে এবং অস্বস্তি লাগতে পারে। চোখব্যথা ও মাথাব্যথা শুরু হয়। কাজেই কম আলোয় পড়ে চোখের বারোটা বাজছে—এই ধারণা মাথায় আসতেই পারে। আলো ও বেশি আলোয় দেখার জন্য চোখের স্নায়ুকোষ আছে। এদের নাম রডকোষ ও কোণকোষ। একেবারে আলোহীন অবস্থায় কিছু দেখা যায় না। কম আলোয় বা আধো অন্ধকারে রেটিনার রডকোষগুলো আমাদের দেখার কাজে সাহায্য করে। অন্ধকারে প্যাঁচা আমাদের চেয়ে ভালো দেখতে পায়। এর কারণ, তার রেটিনায় অনেক অনেক রডকোষ থাকে। তাই বলে নিশাচর প্যাঁচা কিন্তু কিছুদিন পর অন্ধ হয়ে যায় না। তবে সাধারণ দেখা আর পড়ার দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে। পড়ার সময় অক্ষরের চেহারাগুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার। কোনো জিনিসকে ভালোভাবে দেখার জন্যও এটা প্রয়োজন। যা দেখছি বা পড়ছি, তার সীমারেখা খুব পরিষ্কার হওয়া নির্ভর করে আলোর ওপর। আর আলো কম হলে চোখ ‘একোমোডেশন’ নামে চোখের এক বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। কম আলোয় পড়লে রেটিনার রডকোষ কাজ করলেই হবে না, প্রয়োজন হবে বেশি একোমোডেশনের। বেশি দিন একটানা একোমোডেশনের ওপর বেশি চাপ পড়লে চোখের অস্থায়ী কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কম আলোয় বেশি দিন পড়া উচিত নয়। যখনই আমাদের চারপাশে আলো কমে আসে বা হঠাৎ আলো নিভে যায়, তখন কোণকোষ কাজ করা বন্ধ করে, রডকোষ কাজ করা শুরু করে, এ কাজে কিছু সময় লাগে। এ জন্য হঠাৎ আলো নিভে গেলে আবারও কিছু দেখতে আমাদের খানিকটা সময় লেগে যায়। কাজেই রডকোষের কাজই হচ্ছে কম আলোয় কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকা, যদি অল্প আলোয় পড়াশোনা করেন, আপনার রডকোষ কাজ করবে। যেহেতু এই কাজে চোখ অভ্যস্ত নয়, তাই অস্বস্তি লাগবে বা মাথাব্যথা হবে, কিন্তু চোখের এককালীন কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাই বলে কম আলোয় কাজ করা বা পড়াটাও অভ্যাসে পরিণত করার কোনো যুক্তি নেই। শুধু জেনে রাখা ভালো যে জম্পেশ একটা ভৌতিক সিনেমাও বাতি নিভিয়ে দেখলে চোখের কোনো ক্ষতি হবে না। (সংগ্রহীত)