আসসালামু আলাইকুম ওরাহ্মাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু....আমি প্রথম থেকেই নিয়ত করেছিলাম আমি আজ মানুষের সামনে একটা সত্য কথা বলব এজন্য যাতে মানুষ আমাকে সৎ লোক ভাবে..তো আমি নিয়ত অনুযায়ী কাজটা করে ফেলি...এখন এ কাজটা কি শিরক হয়ে গেল?হলে বড় শিরক না ছোট শিরক হয়েছে?

1688 views

1 Answers

ইবাদতের মধ্যে একটি ধূলিকণা পরিমাণ লোক দেখানো মনোভাব থাকলে আল্লাহ তায়ালা ওই ইবাদত কবুল করবেন না। আর লোক দেখানো ভালো কাজ/ ইবাদত এই ধরনের মনোভাবও শিরক। 


মানুষকে দেখানো সকল প্রকার ভালো কাজ শিরক। রিয়া অর্থ লোক দেখানো ইবাদত। ইবাদত একান্ত আল্লাহর জন্য কেউ যদি লোক দেখানো কোন ভালো কাজ করে মানুষকে খুশি করার জন্য করে তাহলে গোপন শিরক হবে। এবং এর জন্য কিয়ামতে জাহান্নামের যেতে হবে। 


আল্লাহ তায়ালা একমাত্র শিকরের গুনাহ ক্ষমা করে না। ইবাদত করা দেখে অন্য কেউ দেখে ভালো বলুক এরূপ মনোভাব নিয়ে ইবাদত করলে প্রকৃত পক্ষে সে ইবাদত আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হয় না। এ কারণে রিয়াকে গোপন শিরক বলা হয়।


আপনার কাজটি বড় শিরক হয়নি তবে রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদাত করা ছোট শিরক। যা কবীরা গুণাহর চাইতেও ভয়ংকর। শিরকে আসগর বা ছোট শিরক এর উদাহরণ হচ্ছে, লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ কাজকরা। যা আপনি করছেন


হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, এক ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন কাজে মুক্তি ও পরিত্রাণ পাওয়া যাবে? নবী করিম (সা.) উত্তরে বললেন, তুমি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করবে এবং তা মানুষকে দেখানোর ইচ্ছা করবে না। হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালার দরবারে হাজিরপূর্বক বলবেন, তুমি কি প্রকার ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি বলবে আমি নিজের প্রাণকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবান করেছি। আমি জেহাদে যোগদান করলে কাফেররা আমাকে শহিদ করেছে।

আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি শুধু এই উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছিলে যে, লোকে তোমাকে বীরযোদ্ধা বলে আখ্যায়িত করবে। হে ফেরেশতাগণ! এ ব্যক্তিকে দোজখে নিয়ে যাও। অপর এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি কি প্রকারের ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমার ধন-সম্পদ যা কিছু ছিল আমি তা আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করেছি। আল্লাহপাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি শুধু এ উদ্দেশ্য দান-খয়রাত করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে দাতা বলে প্রশংসা করবে। অতএব এ ব্যক্তিকেও দোজখে নিক্ষেপ কর।

অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে হাজির করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি প্রকারের ইবাদত করেছ? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমি বহু পরিশ্রম করে বিদ্যা অর্জন করেছি এবং কোরআন শরিফ পাঠ করেছি। আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যাবাদী, মানুষ তোমাকে আলেম বলবে এ উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করেছ। ফেরেশতাগণ! এ ব্যক্তিকেও দোজখে ফেলে দাও।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আমি আমার উম্মতের জন্য ছোট শিরকের ভয় যত করছি, এত ভয় অন্য কোনো বিষয়ে করি না। উপস্থিত সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ছোট শিরক কি? হুজুর (সা.) উত্তর দিলেন, তা হচ্ছে- রিয়া।  

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, ইবাদতের মধ্যে একটি ধূলিকণা পরিমাণ লোক দেখানো মনোভাব থাকলে আল্লাহ তায়ালা ওই ইবাদত কবুল করেন না।  

অন্য আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, কেয়ামতের দিন লোক দেখানো ইবাদতকারীদের এভাবে আহ্বান করা হবে, ওহে রিয়াকার, ওহে বিশ্বাসঘাতক, ওহে হতভাগা! তোমার সমস্ত নেক আমল বিনষ্ট হয়েছে। তুমি যে ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইবাদত করেছিলে এখন তাদের নিকট তোমার পারিশ্রমিক প্রার্থনা করো।

আপনার এখন করণীয় হলো আল্লাহ কাছে খাঁটি মনে তাওবা করা। ইখলাসের সাথে সহিহ নিয়তে তাওবা করা এবং তার দেয়া সকল বিধান আনুগত্যের সাথে মেনে নেয়া এই ধরনের কাজ /মনোভাব পরিহার করা।তাহলে ক্ষমা চাইলে হয়ত আল্লাহ তায়ালা রহমত করতে পারে। 


আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যে, তিনি তওবাকারীর ও তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারীর সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। তিনি বলেন, বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” [সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]

আল্লাহ তায়ালা সকল প্রকার প্রকাশ্য, গোপন, ছোট-বড় সকল শিরকের গুনাহ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করক। আমিন।

1688 views