বন্দী শিবির থেকে কাব্য গ্রন্থটি কার রচিত?

Md. Faisal Kabir
BSC
Assistant Manager Freight Forwarding
#সাধারণ জ্ঞান
2013 views

2 Answers

Md. Faisal Kabir
BSC
Assistant Manager Freight Forwarding

'শামসুর রহমান'

2013 views Answered

জাতীয় দিবস: একটি নির্ধারিত দিন যে দিনের উদযাপন কোন রাষ্ট্র বা অ-সার্বভৌম জাতির জাতিসত্তা চিহ্নিত করে। এই জাতিসত্তাটি স্বাধীনতার তারিখ, প্রজাতন্ত্র গঠনের তারিখ বা কোনও রক্ষাকর্তা সাধু বা শাসকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (জন্মদিন, রাজত্ব, অপসারণ ইত্যাদি) দ্বারা প্রতীকী হতে পারে। প্রতিক্ষেত্রেই দিনটিকে "জাতীয় দিবস" বলা হয় না তবে এটি উদযাপন করা হয় এবং একই ধরনের বিবেচনা করা যেতে পারে। জাতীয় দিবসটি প্রায়শই জাতীয় ছুটির দিন হয়ে থাকে। অনেক দেশে একাধিক জাতীয় দিবস আছে।

বেশিরভাগ দেশে একটি নির্দিষ্ট তারিখের জাতীয় দিবস পালিত হয় তবে কিছুদেশের পরিবর্তনশীল তারিখ আছে। একটি উদাহরণ হলো, জ্যামাইকা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আগস্টের প্রথম সোমবার তাদের জাতীয় দিবস পালন করে। যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের স্মরণে এটি পালিত হয় যা ১৯৬২ সালের ৬ আগস্ট সোমবার লাভ করে; দিনটি সে বছরের আগস্টের প্রথম সোমবার ছিল। ইস্রায়েলের স্বাধীনতা দিবস বেসামরিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে স্থির নয়, ইহুদি ক্যালেন্ডারে প্রথাগতভাবে ৫ ইয়ার সংযুক্ত করা হয়েছে, তবে  শাব্বাত দিবসের প্রস্তুতি বা উদযাপন এড়াতে স্বাধীনতা দিবস বা স্মৃতি দিবস ৩ থেকে ৬ ইয়ার মধ্যে যে কোনও দিন স্থানান্তরিত হতে পারে (যা তাত্ক্ষণিকভাবে স্বাধীনতা দিবসের পূর্ববর্তী); এর বাস্তব প্রভাব হলো স্বাধীনতা দিবস ১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ মে’র মধ্যে যে কোনও দিন পালিত হতে পারে।

বেশিরভাগ জাতীয় দিবসকে দুটি বড় দলে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়:

  • নতুন দেশগুলি যারা তাদের জাতীয় দিবসকে তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করে।
  • পুরানো দেশগুলি যা তাদের জাতীয় দিবস হিসাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কোন ঘটনাকে ব্যবহার করে।

ডেনমার্ক এবং যুক্তরাজ্য সহ এমন কয়েকটি দেশ আছে যারা জাতীয় দিবস নির্ধারণ করে না (যদিও ডেনমার্কের ক্ষেত্রে সংবিধান দিবসের সাথে জাতীয় দিবসের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে)।

 

  • বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি জাতীয় দিবস হলঃ

শহীদ দিবস  বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের এ দিনে যুবসম্প্রদায়, বিশেষত ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বাঙালি জনগণ এ সিদ্ধান্তকে তাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এ দিনে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র ও সাধারণ লোক নিহত হয়। আবুল বরকতআবদুস সালাম, আবদুল জববার, রফিক উদ্দিন আহমদ এবং আরও অনেক নাম-না-জানা লোক শহীদ হন। পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থান এমন ব্যাপক রূপ পরিগ্রহ করে যে, সরকার নতি স্বীকার করে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে স্বীকৃতি দানে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি শাসকচক্র কর্তৃক সাংস্কৃতিক অন্তর্ঘাতের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালিদের প্রথম উল্লেখযোগ্য বিজয়। এরপর থেকেই এ ঘটনাটি স্বায়ত্তশাসনের দাবির আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করেছে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে এ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে দিবসটি সমগ্র বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে শহীদ দিবস উদযাপিত হয়। মধ্যরাত থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে (সারা দেশে এর প্রতিরূপ কাঠামো রয়েছে) পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য মানুষের ঢল নামে। লোকজন মৌনভাবে অথবা অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকে। মানুষ নগ্নপদে আজিমপুর গোরস্তানেও যায় যেখানে শহীদরা চিরনিদ্রায় শায়িত। মধ্য-সকাল নাগাদ গোটা শহীদ মিনার বেদী ফুলে ঢাকা পড়ে যায়। শহীদ মিনারের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের দেয়ালগুলি বাংলা সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সাজানো হয় এবং কবিদের সড়কদ্বীপে কবিতা আবৃত্তি করতে দেখা যায়। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতা দিবস  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই এ দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবেও উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ দিবসে সকল সরকারি ভবন শীর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পথঘাট ও ঘরবাড়ি রঙবেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়। সকালে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কুচকাওয়াজ ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এবং রাজপথ আলোকমালায় সজ্জিত হয়। হাসপাতাল, এতিমখানা ও জেলখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

পহেলা বৈশাখ  স্মরণাতীত কাল থেকে বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ দেশের লোকজ ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়ে আছে। বৈশাখী মেলা বা উৎসব এদেশে বছরের সর্ববৃহৎ ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব এবং বাঙালি সংস্কৃতির একান্ত নিজস্ব ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলা বর্ষপঞ্জি, দেশের উৎপাদনশীলতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। বর্ষপঞ্জিটি কৃষিচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এ সংযোগ এতই অবিচ্ছেদ্য যে, বাঙলা নববর্ষ ‘ফসলি বর্ষ’ বা ‘ফসল বর্ষ’ নামেও পরিচিত ছিল। এ উৎসবে কোনো ধর্মীয় প্রভাব নেই এবং এটা অবাধে সংস্কৃত ও ফার্সি-আরবি ঐতিহ্য থেকে গৃহীত।

বিজয় দিবস  ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পালিত হয়। ঐদিন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর নববই হাজার সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। দিনটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনাসহ উদযাপিত হয়ে থাকে। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে প্রত্যুষে দিবসটির সূচনা ঘোষণা করা হয়। এদিন রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত সামরিক কুচকাওয়াজে সব ধরনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যোগ দেয়। এ কুচকাওয়াজ দেখার জন্য শতসহস্র লোক জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে সমবেত হয়ে থাকে। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।  [হেলাল উদ্দিন আহমেদ]


 

 

2013 views Answered

Related Questions

Next steps