1 Answers
তাকওয়ার সাধারণ অর্থ হল রক্ষা করে চলা। সেটা আল্লাহপাকের আদেশ নিষেধ মেনে চলা অর্থেও হতে পারে। পবিত্র কুরআনে তাকওয়া শব্দটি বহুবার এসেছে। যেখানে তাকওয়া বলতে আল্লাহপাকের আদেশ পালন এবং নিষেধ ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে।
হযরত আলী (রাঃ) খুব সুন্দর ও সহজভাবে তাকওয়ার সংজ্ঞা দিয়েছেন, যা বোঝা এবং আমল করা খুব সহজ। তাঁর মতে তাকওয়া হল চারটি বিষয়; একঃ আল্লাহর ভয়, দুইঃ কুরআনে যা নাযিল হয়েছে তদানুযায়ী আমল, তিনঃ অল্পে তুষ্টি, চারঃ শেষ দিবসের জন্য সদা প্রস্তুতি।
হযরত উমর (রাঃ) একবার হযরত কা’ব (রাঃ) তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কা’ব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি কখনও কণ্টকময় পথে হেঁটেছেন?” হযরত উমর (রাঃ) হ্যাঁ বললে তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন,“আপনি সেই পথ কিভাবে পার হন?” হযরত উমর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে তিনি খুব সন্তর্পনে নিজের কাপড় গুটিয়ে সেই রাস্তা পার হন যেন কোন ভাবেই কাঁটার আঘাতে কাপড় ছিঁড়ে না যায় অথবা শরীরে না বিঁধে। হযরত কা’ব উত্তরে বললেন যে, এটাই হল তাকওয়া। দুনিয়ার জীবনে নিজেকে সমস্ত গুনাহ থেকে এভাবে বেঁচে চলাই হল তাকওয়া।
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেন, “তাকওয়া হল দ্বীনের ভিত্তি, এটি ধ্বংস হয় লোভ এবং আকাঙ্খার মাধ্যমে।”
হযরত মাওলান গুলাম হাবীব (রহঃ) তাকওয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, তাকওয়া হল সে সমস্ত বিষয় পরিত্যাগ করা, যে গুলো বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে বাঁধা সৃষ্টি করে।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভের তাওফীক্ব দান করুন, আমিন।