2 Answers

শীতকাল বলতে পৌষ ও মাঘ মাসকে বুঝানো হলেও প্রকৃতপক্ষে শীতের আগমন শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে। পৌষের শেষের দিকে শীতের প্রকোপ তীব্র হয়ে উঠলেও ফাল্গুন মাস পর্যন্ত শীতের আমেজ থাকে। সাধারণত এ সময় ফসল কাটা হলে চারিদিকে এক উৎসব মুখর আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায় । শীতের সময় কাবু হয়ে পড়লেও শীতের সকালে রয়েছে এক বিশেষ আমেজ । এজন্যেই শীতকালের সকলগুলি সবার কাছে পছন্দনীয় ।

শীতের সকালের বর্ণনা : শীতের সকালের কল্পনা ঘন কুয়াশা আর জড়ো সড়ো করা আবহাওয়া ছাড়া অসম্ভব । কুয়াশা ঘন চাদরের ফাক দিয়ে উকি মেরে ঘােষণা করে সে তার হিম-শীতল আগমনী বার্তা। প্রকৃতির সর্বত্র দেখা যায় এ ধরনের আঁকালাে শুষ্কতার জমজমাট রেশ। প্রকৃতি তার রূপ-রস-বর্ণ ঝেড়ে ফেলে দিয়ে সন্ন্যাসব্রত পালনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। পশুপাখি ও জীবজন্তুর জীবন হয়ে ওঠে পাণ্ডুর ও বিবর্ণ। এর মাঝে নীরবে পদচারণা করে শুভ্রসুন্দর আর নির্মল পবিত্রতা। শীতের রাত অত্যন্ত দীর্ঘ, যেন শেষ হতে চায় না। তাই কাক ডাকা ভাের হতে সবাই অপেক্ষা করে একটু মিষ্টি মধুর সূর্যালােকের পরশের জন্য। কিন্তু কুয়াশার ঘন প্রাচীর ভেদ করে ওকে ভীষণ বেগ পেতে হয় একটু একটু আলােক ছড়ানাের জন্যে।


2515 views Answered

শীতের সকালে চারদিকে শুধু ঘন কুয়াশা দেখা যায় । মনে হয় পৃথিবী কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমােচ্ছে । সকালে কনকনে হিমেল হায়া বইতে থাকে। বাংলাদেশে শীতের সকালের প্রকৃতি হয় শান্ত ও মধুর । শীতের সকালে হাড় কাপানাে শীতে মানুষ জড়সড় হয়ে ঘরে বসে থাকে। অনেকে দেরিতে ঘুম থেকে উঠে। সূর্যও দেরিতে উঠে এবং মানুষ দেরি করে কাজে যায়। গাছের পাতা, ফসলের মাঠ , মাঠের সবুজ ঘাস সবই কুয়াশার শিশিরে ভরে যায়। টিনের ঘরের চাল থেকে সারারাত টপটপ করে ফোটায় ফোটায় শিশির ঝরতে থাকে। পুরাে প্রকৃতি কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। সহসা দূরের কোন কিছু দেখা যায় না। শীতের সকালে মানুষ গরম কাপড় পরিধান করে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ চাদর মুড়ি দিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করে। গায়ের মানুষ খড়কুটা পুড়িয়ে আগুনের কুণ্ড তৈরি করে এবং আগুনের চারপাশে বসে দু’হাতের তালু রেখে শীত নিবারনের চেষ্টা করে। শীতের সকালে সুর্যের রশ্মি সকলের নিকট পরম প্রত্যাশার বন্ধু। সূর্যের রশি যখন শিশির সিক্ত গাছের পাতা কিংবা মেঠো পথেৱ ঘাসের উপর পতিত হয় তখন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শীতের সকাল গরিবের জনা কষ্টের হলেও ধনী লােকেরা শীতের সকালকে উপভোগ করে। তাদের বাড়িতে সকালে নানা ধরনের সুষাদু খাবার রান্না হয় এবং তারা খুব মজা করে শীতের বিশেষ ধরনের পিঠা খায়। ভাপপিঠা,খেজুরের রস ও পায়েস শীতের সকালের খুবই জনপ্রিয় খাবার। শীতের সকালে প্রকৃতি ভিন্নরূপ ধারণ করে ।

2515 views Answered

Related Questions

Next steps