বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্রজীবন?
7 Answers
অবশ্যই কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দেব। কেননা কারিগরি শিক্ষায় কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা হয় বলে কোন স্টুডেন্টকে শিক্ষা শেষ করে বেকার বসে থাকতে হয় না। আর অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী ফার্স্টক্লাস রেজাল্ট নিয়ে বের হয়েও বেকার থাকতে হয়। কারণ তাকে কর্মমুখী শিক্ষা দেয়া হয়নি। কারিগরি শিক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে কর্মমুখী শিক্ষা দেয়া হয় বলে যেকোন শিক্ষার্থী সহজেই তার কাজ খুঁজে পেতে পারে।
আমি সাধারন শিক্ষাকে বলব কারন, সাধারন শিক্ষায় অনেক সুনাম অর্জন করা যায়।। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষাটাকে উপলব্দি বরা যায় না।।
আমি সাধারন শিক্ষাকে বলব। কেননা কারিগরি শিক্ষার চেয়ে সাধারন শিক্ষার মান অনেক বেশী। আমাদের দেশের অধিকাংশ বাবা -মাই তার ছেলে মেয়েকে সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত করে। তাছার পরাশুনার দিক থেকেও সাধারন শিক্ষার মান অনেক বেশী এবং বেশীর ভাগ ছাত্ররাই অনেক ট্যালেন্ট ফুল হয় কেননা সাধারন শিক্ষায় শিক্ষকরাও ছাত্রদেরকে পড়াশুনার প্রতি খুব বেশী তাগিদ দেয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে এমন তাগিদ দেয়না। তাছারা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক ভালো মানের চাকরি পাওয়া যায় যদিও চাকরি পাওয়া খুব কষ্টকর হয়। তাই আমি সব দিক বিবেচনা করে সাধারন শিক্ষাকে শ্রেয় মনে করি।
অবশ্যই সাধারন শিক্ষা। কেননা শিক্ষা গ্রহন করা মানে শুধু একটা ভালোমানের চাকরি পাওয়া নয়।। শিক্ষিত হওয়ার একটা মানে হচ্ছে নিজের মানবিক গুনাবলির বিকাশ ঘটানো,আর যেটা কারিগরি শিক্ষায় কখনো প্রয়োগ করা হয়না। আপনি দেখবেন কারিগরি শিক্ষার ছাত্ররা বেশিরভাগই টেলেন্ট না.. এর কারন তাদের শিক্ষক অত তাগিদ করেনা। বর্তমানে সমস্যা হচ্ছে.. সাধারন শিক্ষায় চাকরি খুজতে একটু প্রবলেম হয়। কিন্তু আপনার যদি যথেষ্ট যোগ্যতা থাকে তাহলে আপনি কখনই বেকার থাকবেন না।। তাছাড়া সাধারন শিক্ষার মান এতটা এখনি নিচু হয়নি যাতে আমি কারিগরি শিক্ষাকে সাধারন শিক্ষা থেকে এগিয়ে রাখবো।
দেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। কারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষায় উন্নত দেশগুলো অনেক এগিয়ে গেছে। সেই তুলনায় অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। কারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষায় জোর দেওয়ার কারনে বাংলাদেশের চেয়ে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও দক্ষিন কোরিয়া অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের জিডিপির হারও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। অথচ 1970 সালে এদেশগুলোর জিডিপির হার ছিল আমাদের প্রায় কাছাকাছি। কারিগরি ও বৃত্তিমুলক শিক্ষাকে বর্তমানে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই অপরদিকে সাধারন শিক্ষাক্রমের সাথে চাকুরির বাজারের চাহিদার কোন সঙ্গতি নেই। গতানুগতিক শিক্ষা আমাদের বাস্তব জীবনে কোন কাজে আসছে না। এ শিক্ষা না পারছে দেশে সুশিক্ষিত ও জ্ঞানীলোক তৈরি করতে, আর না পারছে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত শিক্ষা দেশের চাকুরীর বাজারের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন সেসব ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে চাকুরীর বাজারে সেসব বিষয়ের চাহিদা একেবারেই অল্প। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিনত করেছি বেকার তৈরির কারখানায়। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর সৃষ্টি করছে লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত বেকার। সাধারন শিক্ষাব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পরও তাঁরা পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। উপরন্তু দেশের বোঝা হয়ে দিনাতিপাত করছে। ফলে দিন দিন প্রকটাকার ধারন করছে শিক্ষিত বেকারত্ব। সাধারন শিক্ষার পাঠ্যক্রম অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র নাই বললেই চলে। ফলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি লাভের পরও বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের চাকুরীর বাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক সময়ও নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া লক্ষ্যহীন উচ্চশিক্ষা আমাদের শিক্ষিত যুবসমাজকে যে কাজে নিয়োজিত করছে তা মোটেও পঠিত বিষয় সংশ্লিষ্ট নয়। কোন একটি চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে দেখা যায়, সকল বিভাগের শিক্ষার্থী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পটভূমিতে কারিগরি শিক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কারিগরি শিক্ষার সাহায্যে স্বল্প সময়ে বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব।যে দেশে কারিগরি শিক্ষার হার যত বেশি সে দেশের মাথাপিছু আয় তত বেশি।যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি থাকার ফলে তথাকার মানুষের বাৎসরিক মাথাপিছু আয় ৮ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭-৮ শতাংশের কিছু বেশি দক্ষ জনসম্পদ রয়েছে, আর তাতে আমাদের মাথাপিছু আয় মাত্র ৬০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।
জ্ঞান অর্জন হচ্ছে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এটা আমরা সবাই জানি।।জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ক্যারিয়ার গড়ে শিক্ষা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।।এবার আসা যাক কারিগরি আর সাধারন শিক্ষার গুরুত্বের দিকে,বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষাকেই আমি গুরুত্ব দিবো,সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে একটি দক্ষ জাতি গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।।এদেশে বেকারত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে,এই বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা যথেষ্ট রয়েছে।।কারন কারিগরি শিক্ষা অর্জন করে ব্যক্তির কোন জায়গাতে কর্মসংস্থান না হলে নিজে নিজেই নিজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, যাকে আমরা আত্নকর্মসংস্থান বলে থাকি।।তাছাড়া বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের আবিস্কারের যে বিপ্লব দিনে দিনে ঘটছে তার সাথে সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কারিগরি শিক্ষা অর্জন অপরিহার্য।।সল্প সময়ে ক্যারিয়ার গড়তে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি সাধরন শিক্ষার থেকে কারিগরি শিক্ষাকেই এগিয়ে রাখবো।।।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy