1 Answers

এমন কিছু উপায় যা আপনার স্মার্টফোনটিকে ভালো রাখবে১। বর্তমানে স্মার্টফোনের ব্যাটারির দিকে অনেকেই নজর দিচ্ছেন। ক্যামেরা, র্যাম, ডিসপ্লে, প্রসেসরের পাশাপাশি ব্যাটারির ক্ষমতাকেও অনেক ব্যবহারকারি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাই প্রথমে ব্যাটারি নিয়েই আলাপ করা যাক। নতুন স্মার্টফোন কেনার পর অনেক বিক্রেতার কাছে নিশ্চয়ই আপনি শুনেছেন সেই ডিভাইসটিকে বাসায় নিয়ে ৮ ঘন্টা (ক্ষেত্রে বিশেষে ৬ ঘন্টা) চার্জ দিয়ে নিতে হবে, এরপর সেই নতুন ডিভাইসটি ব্যবহার করা উত্তম!! আমি ছোট বেলায় যখন প্রথম মোবাইল কিনেছিলাম (সেটি স্মার্টফোন ছিলনা অবশ্যই) তখন আমার যতটুকু মনে পরে বিক্রেতা বাবাকে বলেছিলেন মোবাইলটি ব্যবহারের পূর্বে ১২ ঘন্টা (!) চার্জ দিতে। ছোট বেলার কথা বাদ দেই, আমি কিছুদিন আগেও এক বন্ধুর সাথে গিয়েছিলাম বন্ধুর স্মার্টফোন কিনতে আর মজা করেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে স্মার্টফোনটি কতটুকু সময় চার্জ দিতে হবে এবং তিনি বলেছিলেন ৬ ঘন্টার কথা, তবে এও বলেছিলেন '৮ ঘন্টা' দিলে ভালো হয়। আমি নিশ্চিত, আপনাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই এরকম কথা শুনেছেন। কিন্তু, রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট, এই হাস্যকর কথাটা কিন্তু একেবারেই ভিত্তিহীন। মানুষের কথা না শুনে আপনাকে সচেতন হতে হবে। এখনকার স্মার্টফোনগুলো কিন্তু চার্জ নেয়ার সময় এর ব্যাটারির পারসেন্টেজ প্রদর্শন করে তা বন্ধ বা চালু অবস্থায় থাকুক না কেন। তাই, আপনি নতুন ডিভাইসটি কেনার পর ঠিক ততক্ষণই ডিভাইসটি চার্জে রাখবেন যতক্ষণ তা শতভাগ পূর্ণ না হয়, এবং শতভাগ পূর্ণ হলে আপনি ব্যবহার শুরু করতে পারেন। কেননা, আমি অনেক টেক ব্লগ, ফোরাম খুঁজেও এই ৮ বা ৬ ঘন্টার কাহিনী পাইনি বরং এই তথ্য জানতে পেরেছি যে অতিরিক্ত সময় ধরে ডিভাইস চার্জে রাখলে তা আরও ব্যাটারির আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়। তেমনি ভাবে, আপনি যদি আপনার ডিভাইসটি প্রয়োজনীয় চার্জ না দিয়েই চার্জিং ক্যাবল খুলে ব্যবহার করতে থাকেন সেক্ষেত্রেও তা ব্যাটারির আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়। তাই সব সময় ২০ শতাংশ চার্জ থাকা কালীন অবস্থায় চার্জে দেয়া ভালো এবং শতভাগ চার্জ হলে প্লাগ থেকে ডিভাইসটি খুলে নেয়া উত্তম। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে 'কই, আমি তো কত বার চার্জ থেকে খুলছি অর্ধেক চার্জ হবার পর, বা ৭৫ শতাংশ চার্জ হবার পর। আমার ডিভাইসের ব্যাটারির তো কোন ক্ষতি হয়নাই!' ভাইরে, ক্ষতিটা দৃশ্যমান না, খুবই অল্প। আপনি ধরতে পারবেন না। তবে সেটা আপনার ব্যাটারির লাইফের বারোটা বাজিয়ে দিবে। ব্যাটারি লাইফ ভালো রাখতে চাইলে আপনি মাঝে মাঝে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি পুরাটা ড্রেইন করে (০% বা ১%) শতভাগ চার্জে দিতে পারেন, তাহলে ব্যাটারি ভালো থাকে। ২। স্মার্টফোনের সবচাইতে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে এর ডিসপ্লে। চকচকে পরিষ্কার একটা ডিসপ্লে স্মার্টফোনকে অনেক বেশি স্মার্ট করে দেয়। তাই, এই ডিসপ্লের যত্ন নেয়াটা এক প্রকারের অবশ্য করণীয় বিষয়ের মধ্যেই পরে, কি বলেন? এখনকার প্রায় মিড রেঞ্জের সব ডিভাইসেই নানা ধরণের গ্লাস প্রোটেকটর ব্যবহার করা হয়। যেহেতু পরিষ্কার স্ক্র্যচলেস একটি ডিসপ্লে আপনার স্মার্টফোনটির লুক ধরে রাখে অনেকটাই তাই কেনার সময় সম্ভব হলে ভালো মানের গ্লাস প্রোটেকশন সম্বলিত স্মার্টফোন কিনবেন, আর যদি না পারেন তবুও সমস্যার কিছু নাই। কিছুটা এক্সট্রা সতর্ক থাকতে হবে শুধু মাত্র। তবে যাদের স্মার্টফোনে গ্লাস প্রোটেকশন রয়েছে যেমন ধরুন, কর্নিং গরিলা গ্লাস - তাদের ডিসপ্লে স্ক্র্যাচপ্রুফ দেখে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে কিন্তু ভুল করবেন। যদি আপনার স্মার্টফোনের ডিসপ্লে আপনি স্ক্র্যাচলেস রাখতে চান তবে অবশ্যই ভালো মানের একটি স্ক্রিন প্রোটেক্টর লাগিয়ে নিবেন। কেন? ইউটিউবের কল্যাণে অনেক ব্যাপারই এখন বোঝা অনেক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই কর্নিং গরিলা গ্লাসের সম্পর্কে কিছুটা পড়াশোনা করে ফেলেছি অতি সহজেই, সেই পড়াশোনা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের মোরালটা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি, কর্নিং গরিলা গ্লাসে (বিভিন্ন রকমের বিজ্ঞাপনে যেমন দেখানো হয়) ছুড়ি, চাবি, কাঁচি ইত্যাদি স্ক্র্যাচ ফেলতে পারেনা! এমনকি অনেক ভিডিওতে দেখেছি হ্যামার টেস্টেও গরিলা গ্লাসের কিছু হয়না! তবে আমার কথা হচ্ছে, আপনি নিশ্চয়ই পকেটে ছুরি কাঁচি নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন না? বাকি থাকে ঐ চাবির রিং তা অন্য পকেটে রাখলেই তো মিটে যায় তাইনা? বাইরে মূলত আমরা যখন থাকি, এমনকি ঘরের ভিতরেও কিন্তু ধুলো-বালি থাকে! আর বিভিন্ন রকম পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে এই সামান্য বালির কনাই গরিলা গ্লাসে স্ক্র্যাচ ফেলতে সক্ষম! এজন্যই বলে, কখনও কোন কিছুকে তুচ্ছ কোরোনা! যারা আমার কথা বিশ্বাস করলেন না যে সামান্য বালি গরিলা গ্লাসকে করতে পারে কুপোকাত তারা দয়া করে ইন্টারনেটে সার্চ করতে পারেন। আর অন্যদিকে যাদের কোন প্রকার গ্লাস প্রোটেকশন নেই তারা বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় টেম্পার্ড গ্লাস প্রোটেকশন নামে একটি প্রোডাক্ট যা ব্যবহার করতে পারেন। এটি মূলত আপনার স্ক্রিনের উপরে একটি অতিরিক্ত গ্লাসের লেয়ার যোগ করে আপনার স্ক্রিনকে সুরক্ষিত রাখে। তবে সমস্যা হচ্ছে, সব ডিভাইসের জন্য এটি পাওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং মাঝে মাঝে পাওয়াই যায়না। তবে, খুঁজে দেখতে দোষ কি বলেন? ৩। ব্যবহারের সাথে সাথে স্মার্টফোনটি হয়ে যায় স্লো? এ বিষয়ে আমি নিজেই দুই থেকে তিনটার মত ব্লগ লিখেছি, প্রিয়র টিউটোরিয়াল সেকশন ঘাটলে পাবেন অবশ্যই। যাই হোক, সংক্ষেপে বলি, সময়ের সাথে স্মার্টফোন কিছুটা ধীর গতির হয়ে যাওয়া একটি অতি স্বাভাবিক বিষয়। কেননা, নতুন অবস্থায় আপনার ডিভাইসটি থাকে একদম ফ্রেশ, এতে কোন অতিরিক্ত অ্যাপলিকেশন, অ্যাপলিকেশনের ডেটা বা ক্যাশ - কোন কিছুই জমা থাকেনা। এজন্য স্মার্টফোনটি থাকে অনেক ফাস্ট। তবে ডে-টু-ডে ব্যবহারের ফলে প্রয়োজনেই অনেক অ্যাপলিকেশন আমাদের ইনস্টল করতে হয় এবং সেই অ্যাপলিকেশন গুলো ব্যবহারের ফলে আমাদের স্মার্টফোন হয়ে যায় ধীর গতির। তবে আপনি যদি চান যে এই ব্যাপার থেকে মুক্তি পাবেন তবে সংক্ষেপে কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্যঃ ব্লটওয়্যার আন-ইনস্টল করুন। শুধু মাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন সমূহ ইনস্টল করুন। ইন্টারনাল স্পেস যতটুকু ফাঁকা রাখা সম্ভব ততই ভালো। মাঝে মাঝে ক্যাশ পরিষ্কার করুন, তবে সাবধান! এই প্রসেস করতে গিয়ে অনেকেই ভুলে প্রয়োজনীয় তথ্য হারিয়ে ফেলে। সবসময় হালকা লঞ্চার ব্যবহার করবেন। হালকা বলতে আমি সিম্পল বোঝাতে চাইছি, যেমন অ্যাপেক্স বা নোভা। ব্যাটারি সেভার, র্যা ম ক্লিনার, ক্যাশ ক্লিনার - ইত্যাদি টাইপের অ্যাপ এবং উইজেট আন- ইন্সটল করুন। মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় ডাটা ব্যাক-আপ রেখে ফ্যাক্টরি রিসেট করুন। উপরের টিপসগুলো খুব সহজেই করা সম্ভব এবং এগুলো চমৎকার কাজে দেয়। শুধু বাইরে ফিটফাট রাখলেইতো হবেনা ভাই, ভেতরটাও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তাহলেই না হবে পরিপুর্ন স্মার্টফোন!

2987 views

Related Questions