আমি কিভাবে একজন ভালো লেখক হব?
2535 views

1 Answers

** যে ভাবে আপনি একজন ভালো লেখক হবেন ***

 (১) পছন্দের বিষয় নির্বাচন করুনঃ আপনার যে বিষয়টা 

সবচেয়ে বেশি পছন্দ সেই বিষয়ে  লেখুন । ধরুন, 

আপনার গোয়েন্দা গল্প পছন্দ তবে বাংলা সাহিত্যের 

অমর চরিত্র গুলো (যেমন, কিরীটী রায়, ফেলুদা, 

কর্নেল) পড়া শুরু করুন । সেই

সাথে লিখতে থাকুন । বেশি বেশি লেখুন ।

লেখা খারাপ হলে মন খারাপ করার কিছু নেই,

সকল লেখকের কাঁচা হাতের লেখা অতটা সুন্দর ছিল না । 

তাই, আজ এই লেখাটা পড়েই

লেগে পড়ুন আপনার লক্ষ্যে পৌঁছতে । 

(২) প্রচুর পড়ুনঃ ভালো লিখতে হলে বেশি বেশি পড়তে

 হবে । আপনি যত বেশি পড়বেন আপনার শব্দভান্ডার

তত বৃদ্ধি হবে । আপনি ততই বুঝতে পারবেন বড়

বড় লেখকরা কীভাবে বর্ণনা দেন, তাঁদের ভাষা শৈলী বা

 কীরূপ । এগুলো জানতে হলে বেশি বেশি পড়তে হবে ।

আর সুন্দর একটা গল্পের

পটভূমি তৈরি করতে হলে পড়ার কোন বিকল্প

নেই । তাই, পড়ুন, পড়ুন এবং বেশি বেশি পড়ুন ।

(৩) বাইরে ঘুরে বেড়ানঃ বাইরে যাওয়াটা খুব

গুরুত্বপূর্ণ । বাইরে গেলে আপনি নতুন নতুন

মানুষের সাথে পরিচিত হবেন, ক্রমেই আপনার

কল্পনাশক্তি বিকশিত হবে । তাই,

বিশ্বটাকে দেখুন ।

এগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন । তাহলে আপনার লেখায় 

বর্ণনা দিতে তা খুব কাজে দেবে ।

আপনি লেখক হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই

খুঁটিয়ে দেখতে হবে প্রকৃতি,

দেখতে হবে কিভাবে বৃষ্টির সময় সূর্য

উঠে বৃষ্টির ওপর আলো ফেলে ।

আপনাকে দেখতে হবে প্রখর রোদে পৃথিবী কিরূপ  

দেখতে লাগে ।

পাঠককে নিয়ে যান প্রকৃতির একদম কাছে ।

(৪) প্রতিদিন লিখুনঃ লেখালেখিটা অভ্যাসে পরিনত করুন ।

ভালো লেখক হতে হলে প্রতিদিন

লিখতে হবে । তা যতই অল্প হোক না কেন । লেখালেখিটা অনেকটা হৃদয় সমুদ্রে ডুব

দিয়ে গুপ্তধন খুঁজে আনার মতো । আপনার

হৃদয়ের সমুদ্রে ডুব দিয়ে আপনার সমস্ত

লুকানো সম্পদ বের করে আনতে হবে । আর

প্রতিদিন এজন্য দরকার অনুশীলন । প্রতিদিন

না করলে আপনাকে এই যোগ্যতা হারাতে হবে । তাই, 

প্রতিদিন লিখে আপনার লুকনো সম্পদ বের করে আনুন ।

(৫) লেখার আগে কিছু পড়ুনঃ লেখার আগে অন্তত

ত্রিশ থেকে ষাট মিনিট কোন উঁচু দরের ছোট

গল্প, কবিতা কিংবা নিবন্ধ পড়ুন ।

এতে আপনার লেখায় সেই মহান সৃষ্টির ছাপ পড়বে । দেশি- বিদেশী সব ধরনের বই পড়ুন ।

কারণ, দেখা গেল এমন কোন স্থানের

বর্ণনা আপনি বিদেশী বইয়ে পেলেন

যা আগে কখনই বাংলা সাহিত্যে আসেনি । আর

যদি ইংরেজিতে আপনার ভালো দখল

না থাকে তবেও সমস্যা নেই কারণ, বিশ্বের মহান 

সাহিত্যের অমূল্য ভাণ্ডারের অনেক

রত্নই বাংলায় অনূদিত হয়েছে । এখন

এদেশে অনেক ভালো মানের অনূদিত গ্রন্থও

আছে । 

(৬) এমন একটা শিরোনাম দিন

যাতে পাঠক ধাক্কা খায়ঃ শিরোনামটা কিন্তু

অনেক গুরুত্ব বহন করে । অনেক পাঠক আছে যারা শিরোনাম দেখে লেখা পছন্দ

করে । তাই, আপনার লেখায় একটা কৌতূহল

উদ্দীপক, রোমাঞ্চকর, অব্যবহৃত শিরোনাম দিন

। যেমন, নীহাররঞ্জনের বই ‘কালো ভ্রমর’ এই

নাম শুনলেই মনে হয় একটা পতঙ্গের

সাথে গোয়েন্দার কীসের সম্পর্ক? আর, তখনই পাঠক 

কৌতুহলে উদ্দীপিত হয়ে সেই বই

পড়তে যায় ।

 (৭) চা কিংবা কফি খানঃ লেখক

জেমস অল্টার বলেন, ‘নো কফি,

নো ক্রিয়েটিভিটি’ । তাই,

চা কিংবা কফি খান ।

এটা আপনাকে তাজা করে তুলবে । লেখার সময় চা- কফি খাওয়াটা অনেক বিখ্যাত লেখকেরই

অভ্যাস । তাই, চাঙ্গা হতে লেখার সময়

হাতের কাছে রাখুন এক কাপ কফি ।

(৮)মানুষকে হাসানো/

কাঁদানোঃ লেখা পড়ে যেন চোখে জল আসে এমন

লেখা লিখতে হবে আপনাকে আবার এমন লেখা 

লেখবেন যা পড়ে ক্ষণে ক্ষণে পাঠক

হেসে ওঠে । হাসি কান্নার মিশেলেই

তো জীবন তাই, লেখায় হাসি কান্নার দুটোর

মিশ্রণই থাকতে হবে । তাহলেই, সেটা বিশ্ব

সাহিত্যে এক অমূল্য রতন হয়ে থাকবে । আর

পাঠক আপনাকে মনে রাখবে চিরকাল ।

 (৯) লেখায় স্বকীয়তা আনুনঃ ‘আমি একদম হুমায়ূন

আহমেদের মতোই লিখব’ এধরনের

ইচ্ছা মনে আনা ভুল। আপনি লিখবেন আপনার

মতো । লেখা আপনার এমন

হবে যাতে লোকে পড়ে বুঝতে পারে এটা আপনার

লেখা । আমি বিখ্যাত লেখকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করছি না, তবে এমন শব্দচয়ন,

বাক্যগঠন করবেন যাতে আপনার

স্বকীয়তা বজায় থাকে ।

 (১০) কাউকে আঘাত

করে লিখবেন নাঃ অনেকে কোন সম্প্রদায়,

ধর্ম, ব্যক্তিকে আঘাত দিয়ে লেখেন ।

এটা করলে আপনি ঐ সম্প্রদায়, ধর্ম, ব্যক্তির কাছে শত্রু হয়ে দাড়াঁবেন । তবে, জাতির

স্বার্থে গঠন মূলক

সমালোচনা করা যেতে পারে । কিন্তু গঠন

মূলক সমালোচনা বলতে কখনই অন্যকে আঘাত

দেওয়া বুঝায় না । কোন ধর্মাবলম্বীকে আঘাত

করে কিছু লেখা যাবে না । প্রত্যেকের মতের, নিজ ধর্ম 

পালনের অধিকার আছে । ছোট ছোট

বাক্যে লিখুনঃ অনেকে অনেক বড় বড় জটিল

বাক্য লেখেন । কিন্তু এভাবে লিখলে পাঠক

অনেক সময় বুঝতে পারেন না । তাই, মাধুর্য

নিয়ে প্রাঞ্জল ভাবে ছোট ছোট বাক্যে মনের

কথা বলে দিন । 

(১২) অন্য শব্দ না লিখে লিখুনঃ অনেকে লেখেন

তিনি পরামর্শ দেন কিংবা অনেকে লেখেন সে চিৎকার করে। এসব একদম শোভন নয় । তাই,

প্রাঞ্জল ভাবে লিখুন ‘সে বলে’ ।

পাঠককে যদি আপনি ধরে রাখতে পারেন,

যদি আপনার লেখা রুদ্ধশ্বাসে পড়ে যায়

পাঠক, আপনার লেখা যদি পাঠককে হাসায়-

কাঁদায়- বিমোহিত করে, তবেই আপনি একজন সফল 

লেখক হতে পারবেন । সেজন্য দরকার

নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর প্রচুর অনুশীলন ।

আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ।



2535 views

Related Questions